আবদুল মোতালেব
সিরাজগঞ্জ
প্রশ্ন : লিচু গাছে কখন সেচ দিতে হবে?
উত্তর : চারা গাছের বৃদ্ধির জন্য শুকনো মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হবে। ফলন্ত গাছের বেলায় সম্পূর্ণ ফুল ফোঁটা পর্যায়ে একবার, ফল মটর দানার মতো হলে একবার এবং ১৫ দিন পর তার একবার মোট তিনবার সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সার প্রয়োগের পর সেচ দেয়া একান্ত দরকার। আবার বর্ষার সময় যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে তার জন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাগর
পঞ্চগড়
প্রশ্ন : মরিচের পাতা কুঁকড়ে গেছে, গাছ খাটো হয়ে গেছে। করণীয় কী?
উত্তর : ভাইরাস দ্বারা মরিচ গাছ আক্রান্ত হলে পাতা কুঁকড়ে যায় এবং শুরু হয়। গাছ খর্বাকৃতির হয়।
প্রতিকার : ১. আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ২. সাদা মাছি এ রোগের বাহক। তাই সাদা মাছি দমনের জন্য ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা রগর ২ মিলি. প্রতি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো. ইলিয়াস
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : পেঁপে গাছ লাগাতে প্রতি গর্তে কী পরিমাণ সার দিতে হবে।
উত্তর : চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে বেডের মাঝ বরাবর ২ মিটার দূরত্বে ৬০x৬০x৪৫ সেমি. আকারের গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্ত প্রতি ১৫ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম জিপসাম, ২০ গ্রাম বরিক এসিড এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মেশাতে হবে। সার মিশ্রিত মাটি দ্বারা গর্ত পূরণ করে সেচ দিতে হবে।
প্রশ্ন : বেগুন গাছ পাতায় ছোট ছোট চক্রাকারে দাগ দেখা যায়, ফল পচে যায় ও গাছ মরে যায়। প্রতিকার কী?
উত্তর : এক ধরনের ছত্রাক এর আক্রমণে বেগুন গাছে এ রোগ দেখা দেয়। পুষ্টির অভাবে এবং শুষ্ক গরম আবহাওয়ায় এ রোগ বেড়ে যায়।
প্রতিকার : ১. সুস্থ রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। ২. সেচ বা বৃষ্টির পর গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে। ৩. রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন/নোইন গুলিয়ে গাছের গোড়ায় মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। ৪. ফসল সংগ্রহের পর মুড়ি গাছ না রেখে সব গাছ, ডালপালা, পাতা ইত্যাদি একত্র করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
মোসা. লাকী খাতুন
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
প্রশ্ন : গোলাপ ফুলে বিছা পোকা পাতা ও ফুলের পাঁপড়ি খেয়ে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। প্রতিকার কী?
উত্তর : বিছা পোকার আক্রমণে পাতা, ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়। আংশিক আক্রান্ত ফুলের বাজার মূল্য কম হয়।
১. আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে আক্রান্ত পাতা, ফুল কীড়াসহ সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
২. আক্রমণ বেশি হলে কুইনালফস ২৫ ইসি/কিনালক্স ২৫ ইসি বা ফেনিট্রোথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ২.০ মিলি./লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হবে।
মো. শাহাজাহান
লালমনিরহাট
প্রশ্ন : গমের ক্ষেতে প্রচুর ইঁদুর আক্রমণ হচ্ছে। ইঁদুরে হাত থেকে গম ফসল রক্ষার উপায় কী?
উত্তর : ইঁদুর গমের একটি প্রধান শত্রু। গম ক্ষেতে বিশেষ করে শিষ আসার পর ইঁদুরের উপদ্রব বেশি দেখা যায়।
প্রতিকার : ১. ইঁদুরের গর্তে পানি ঢেলে মেরে ফেলা।
২. ফাঁদ পেতে ইঁদুর মারা।
৩. ছোট ছোট কাগজের টুকরার মধ্যে ১ গ্রাম করে জিংক ফসফাইড জাতীয় ইঁদুরনাশক ভর্তি করে ইঁদুরের গর্তের মুখের সামান্য ভেতরে প্রয়োগ করে গর্তের মুখ মাটি দিয়ে আলতোভাবে বন্ধ করে দেয়া।
৪. ইঁদুর চলাচলের পথে কাগজে ল্যানিরেট বা অন্য কোনো ইঁদুরনাশক রেখেও ইঁদুর দমন করা যায়।
মো. রফিকুল ইসলাম
ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : মনোসেক্স তেলাপিয়া নার্সিংয়ের পদ্ধতি কী?
উত্তর : নার্সিং পুকুরের আয়তন ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পানির গভীরতা ১ মিটার রাখা আবশ্যক। পুকুর শুকিয়ে সব রাক্ষুসে মাছ ও মৎস্যভূক প্রাণী নির্মুল করতে হবে। নিষ্কাশন সম্ভব না হলে মিহি ফাঁসের জাল টেনে অবাঞ্ছিত প্রাণী দূর করা যেতে পারে। পুকুরে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ১ সপ্তাহ পরে প্রতি শতাংশে ৩ থেকে ৪ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করতে হবে। নার্সারি পুকুরের প্রতি শতাংশে ১২০০ থেকে ১৫০০ টি হারে পোনা মজুদ করা যেতে পারে। মজুদকৃত পোনাকে ৬ সপ্তাহ নার্সারি পুকুরে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে (২৫ থেকে ১০% প্রতি সপ্তাহে কমবে)। এভাবে ৬ সপ্তাহ লালনের পর পোনা যখন ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ওজনের হবে তখন তা বিক্রি বা চাষের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
মো. সুমন মিয়া
যশোর
প্রশ্ন : ঘেরের প্রস্তুত প্রণালি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : ঘের শুকিয়ে তলদেশের পচা কাদা অপসারণ এবং তলদেশ সমান করতে হবে। পাড় উঁচু করে বাঁধতে হবে। ঘেরের পাড়সহ তলায় চুন ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। ঘেরের তলদেশ চাষ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। ছোট মেসসাইজের নাইলন জাল দিয়ে ঘেরের চারপাশের বেড়া (৩ ফুট উঁচু) দিতে হবে। পানি প্রবেশ পথ ও জরুরি পানি নির্গমন পথ করতে হবে এবং তাতে স্ক্রিন বা বানা (বাঁশের পাটা ও নাইলনের জাল দিয়ে তৈরি) দিতে হবে। চুন প্রয়োগের ৫ থেকে ৭ দিন পরে প্রয়োজনমতো পানি প্রবেশ করিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে ইউরিয়া ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম/শতক, টিএসপি ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম/শতক হারে। এরপর ব্লিচিং পাউডার সব ঘেরে ছিটিয়ে দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অনেক সময় ঘেরের এককোণায় বাঁশের ফ্রেমের সঙ্গে একটি নার্সারি তৈরি করতে বলা হয়। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা বা গোবর ব্যবহার করা যাবে না।
বিজয় কুমার
লালমনিরহাট
প্রশ্ন : পুকুর নির্বাচনে প্রয়োজনীয় শর্তগুলো কী কী?
উত্তর : * পুকুরের পাড় আগাছা ও ঝোপঝাড় মুক্ত হবে, যাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পুকুরে পড়তে পাড়ে। * আয়তন ১০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং গভীরতা ৬ থেকে ৯ ফুট হতে হবে (প্রাকৃতিক পানি ৬/৭ মাস থাকে)। * পুকুর বাড়ির কাছে একক মালিকানার হতে হবে। *পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো থাকতে হবে। *পুকুরের মাটি দোআঁশ ধরনের সর্বোত্তম।
আতাউর রহমান
রংপুর
প্রশ্ন : গরুর পেট ফেঁপে গেছে। কী করণীয় ?
উত্তর : তৎক্ষণাৎ আধা কেজি পরিমাণ আদা ভাঙা বাটা দিয়ে খাওয়াতে হবে।
গ্যাসনাশক যেমন অ্যান্টিজাইমোটিক/ কারমিনেটিভ জাতীয় ওষুধ সরাসরি রুমেনে প্রয়োগ (তীব্র হলে) অথবা মুখ দিয়ে খাওয়াতে হবে। অক্সিটেট্টাসাইক্লিন ইনজেকশন মাংসপেশিতে দিলে ভালো কাজ করে। তীব্র প্রকৃতির ক্ষেত্রে বাম দিকের প্যারালাম্বার ফোসা ছিদ্র করে গ্যাস বের করা যায়।
জাহিদ হোসেন
শেরপুর
প্রশ্ন : গরুর কাঁধে ঘা হয়েছে। কী করণীয়?
উত্তর : * আইডারমেকটিন (Ivermection) ০.২ মি. গ্রাম/ কেজি হিসেবে চামড়ার নিচে ২৮ দিন অন্তর দুইবার ইনজেকশন দিতে হবে।*নেগুভন ১-২% সলুসন দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে দিতে হবে।
*পাশাপাশি যে কোনো একটি অ্যান্টিহিস্টাসিনিক ইনজেকশন দিলে ভালো কাজ করে।
*দ্বিতীয় পর্যায়ের জীবাণু সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সালফার ড্রাগ অথবা অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিতে হবে।
রাকিব রায়
দিনাজপুর
প্রশ্ন : ইউএমএস তৈরির পদ্ধতি জানতে চাই।
উত্তর : ইউএমএস তৈরির প্রথম শর্ত হলো সর্বদা এর গঠন সঠিক রাখতে হবে। ১০০ কেজি ইউএমএস তৈরি করতে হলে ৮২ কেজি শুকনা খণ্ড, ১৫ কেজি চিটাগুড় ও ২ থেকে ৩ কেজি ইউরিয়া মিশাতে হবে। খড়গুলো পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর মাঝারিভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। বালতিতে ৫ লিটার পানির সঙ্গে ৩ কেজি ইউরিয়া মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটি খড়ের ওপর অর্ধেক ছিটিয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রণ যেন কোনোভাবেই পলিথিনে আটকে না থাকে। এভাবে তৈরি ইউএমএস ৩ দিনের বেশি সংরক্ষণ না করাই ভালো।
লেখক :
কৃষিবিদ মোহাম্মদ মারুফ
* কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, ই-মেইল : masum.maroof@gmail.com