কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫ এ ১০:১৪ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: জ্যৈষ্ঠ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৫-২০২৫
প্রশ্নোত্তর
ড. আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব মোঃ জামিলুর রহমান, উপজেলা : মান্দা, জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : লটকন চাষের ক্ষেত্রে সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : বর্ষার প্রারম্ভে চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে ৭ী৭ মিটার দূরত্বে ১ী১ী১ মিটার আকারের গর্ত করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৫-২০ জৈবসার, ৫০০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ কওে মাটির সঙ্গে ভালভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। মাটি শুকনা হলে গর্তে পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে। এভাবে ১০-১৫ দিন গর্ত ভরাট করে রেখে দিতে হবে। তারপর ভালভাবে খাবার কুপিয়ে চারা/কলম লাগাতে হবে।
প্রত্যাশিত ফলন ও গুণগত মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে লটকন গাছে নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের পরিমাণেও বাড়াতে হবে। বিভিন্ন বয়সের গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ ছকে দেয়া হলো।
গাছের গোড়ায় (৫-১০) মিটার দূর থেকে যতটুকু জায়গায় দুপুর বেলা ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গায় সার ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে অথবা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটিতে রস কম করতে হবে। উল্লিখিত সার সমান তিন কিস্তিতে (১ম কিস্তি ফল সংগ্রহের পরপর ২য় কিস্তি বর্ষার শেষে ও ৩য় কিস্তি শীতের শেষে) প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব মোঃ জামাল, উপজেলা : বাকেরগঞ্জ, জেলা : বরিশাল
প্রশ্ন : আদা চাষের ক্ষেত্রে সারের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই
উত্তর : কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের উপর সারের পরিমাণ নির্ভর করে। বেশি ফলন পেতে হলে আদার জমিতে প্রচুর পরিমাণ জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে। আদার জন্য প্রতি হেক্টরে জৈব ও রাসায়নিক সার নিচে উল্লিখিত হারে প্রয়োগ করতে হবে।
সম্পূর্ণ গোবর ও টিএসপি, জিপসাম, জিংক এবং অর্ধেক এমওপি জমি তৈরির সময় মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও এমওপি সারের অর্ধেক আদা রোপণের ৫০ দিন পর জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া এবং এমওপি দুই কিস্তিতে সমান ভাবে বীজ রোপণের ৮০ দিন এবং ১০০ দিন পর উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
জনাব মোঃ নাইম ইসলাম, উপজেলা : কাউনিয়া, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : জাম গাছের পাতা লাল হয়ে মরিচার মতো হয়ে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : এ রোগের আক্রমণে পাতায়, ফলে ও কা-ে লালচে মরিচার মতো এক ধরনের উচু দাগ দেখা যায়। এক ধরনের সবুজ শৈবালের আক্রমনে এ রোগ হয়। শুরুতে পাতার মধ্যশিরার কাছাকাছি লালচে দাগ দেখা যায়। দাগ ক্রমশ বড় হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে এবং পাতা শুকিয়ে যায়।
এ রোগ প্রতিকারের জন্য ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, আক্রান্ত ডালপালা ও ঘন ডালপালা ছাটাই করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। পরিষ্কার করার সময় গাছ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আক্রান্ত গাছে কপার অক্সি ক্লোরাইড গ্রুপের একটি ছত্রাকনাশক যেমন কুপ্রাভিট (বায়ার এগ্রো) ২.৫ গ্রাম/লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা : কাহারুল, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : লিচু গাছের পাতা মখমলের মতো হয়ে যায়। কী করণীয়?
উত্তর : মাকড়ের আক্রমণে এ রোগ হয়। পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা মাকড় কচি পাতায় আক্রমণ করে ও পাতায় রস চুষে খায়। এর ফলে পাতায় বাদামি রংয়ের মখমলের মতো ইরিনিয়াম নামক এক ধরনের আবরন তৈরি হয়। পাতা ভিতরের দিকে কুঁকড়িয়ে যায় শেষে আক্রান্ত পাতা শুকাতে থাকে।
এ রোগে প্রতিকারের জন্য ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডালপালা ও অতিঘন ডালপাল ছাটাই করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রমন দেখা দিলে অনুমোদিত সালফার জাতীয় মাকড়নাশক যেমন থিয়োভিট (মিনজেনটা) ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ সিফাত হোসেন, উপজেলা : শিবালয়, জেলা : মানিকগঞ্জ
প্রশ্ন : চীনাবাদামের পাতার উপরে বাদামি রংয়ের গোলাকার দাগ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পাতায় দাগ বাদামি থেকে কালচে বর্ণের হয়ে গেছে। এ অবস্থায় করণীয় কি?
উত্তর : এটি চীনাবাদামের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এটিকে চীনাবাদামের পাতার দাগ (টিক্কা) রোগ হিসেবে পরিচিত। ঈবৎপড়ংঢ়ড়ৎধ ধৎধপযরফরপড়ষধ নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়। এ রোগের কারণে পাতার উপরে হলদে রেখা বেষ্টিত বাদামি রংয়ের গোলাকার দাগ সৃষ্টি হয়। দাগগুলো ক্রমেই বড় হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে। দাগগুলো গাঢ় বাদামি হতে কালচে বর্ণেও হয়। ধীরে ধীরে পাতা ঝওে যায়। এ রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ সহনশীল জাতের চাষ করতে হবে। ফসল কাটার পর আগাছা পুড়ে ফেলতে হবে। রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ব্যাভিস্টিন/ নোইন ১সম প্রতি লিটার পানিতে অথবা গ্রোপিকোনাজেল (০.৫ মিলি.) বা হেক্সাকোনাজল (১ মিলি.) বা কপার হাইড্রোক্রাইড ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১ সপ্তাহ পর পর ২-৩ বার স্প্রে করে দিতে হবে।
জনাব মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা : রংপুর সদর, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : মুগডালের গাছ ঢলে পড়ছে। গোড়ার দিকে পচন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় করণীয় কি?
উত্তর : এটি মুগের গোড়া পচা রোগ। ঝপষবৎড়ঃরঁস ৎড়ষঃংরর নামক ছত্রাকের কারনে এ রোগ হয়। চারা ও বয়স্ক অবস্থায় এ রোগের আক্রমণ হয় ও বেশি আক্রমণে গাছ মারা যায়। বয়স্ক গাছ হলুদ রঙ ধারন করে। আক্রান্ত গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়। মাটির সংযোগস্থলে গোড়া পচন দেখা যায়। এ রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা থাকতে হবে। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। জমিতে কয়েকবার অন্য ফসল চাষ করে আবার মুগের চাষ করতে হবে। অধিক পরিমাণে জৈবসার ব্যবহার করতে হবে। জমি চাষ দিয়ে কিছু দিন ফেলে রাখতে হবে। বীজ বপনের পূর্বে কেজি প্রতি ২.৫ গ্রাম (কার্বক্সিন+থিরাম) গ্রুপের ঔষধ মিশিয়ে বীজ শোধন কওে নিতে হবে। অধিক আক্রমণ দেখা দিলে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের রোভরাল ২ গ্রাম/লি. হারে পানিতে মিশিয়ে মাটিসহ গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ সাইফুদ্দীন, উপজেলা : কুষ্টিয়া সদর, জেলা : কুষ্টিয়া
প্রশ্ন : আমার পটোল গাছের কা- ও পটোলের গায়ে সাদা সাদা পানির ভেজা নরম তুলার মতো দেখা যাচ্ছে এবং গাছসহ পটোল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি পটোলের গোড়া ও ফল পচা (জযরুড়পঃড়হরধ ংঢ়.) ছত্রাকের কারণে হয়। এই ছত্রাকের কারণে কা- ও পটোলের গায়ে সাদা সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায়। গাছের গোড়া, শিকড় ও পটোলে পানি ভেজা নরম পচা রোগ দেখা যায়। পরবর্তীতে পটোল গাছসহ পটোল নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিকার হিসেবে আক্রান্ত গাছ ও পটোল সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে, রোগ সহনশীল জাত যেমন বারি পটোল -১, বারি পটোল-২ ব্যবহার করতে হবে। প্রতি বছর পটোল চাষ না করে শস্য পর্যায় অনুসরণ করতে হবে, সুষম সার ব্যবহার করতে হবে, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে, পটোলের শাখা কলম বা কাটিং কার্বোন্ডিজম গ্রুপের ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউডিজ বা নোইন ৫০ ডব্লিউপি ২ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট, ২ গ্রাম কমপ্যানিয়ন (ম্যানকোজেব ৬৩%+ কার্বোডাজিম ১২%) ২ গ্রাম রিডোমিল গোল্ড (ম্যানকোজেব+ মেটালেক্সিল) একত্রে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ রকিব হাসান, উপজেলা : মধুখালী, জেলা : ফরিদপুর
প্রশ্ন : আমার পাট গাছের পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পোকা ঝাঝরা করে ফেলছে, এর প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি পাটে বিছা পোকা আক্রমণের ফল। বিছা পোকা প্রথমে পাতায় আক্রমণ করে এবং পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ঝাঝরা করে, কোন কোন সময় গাছকে ডাঁটা সার করে ফেলে। এর প্রতিকার হিসেবে ডিমের পাদাসহ পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে, কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে দড়ি ভিজিয়ে সে দড়ি দিয়ে ক্ষেতে টানা দিলে পোকার আক্রমণ কমানো যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড ১০ ইসি ১০ মিলি ১০ লিটার পানিতে অথবা স্পিনোসাড গ্রুপের ট্রেসার ৪৪৫ এসপি ৩.৫-৪ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে পঁচে শতক জায়গায় স্প্রে করতে হবে।
জনাব মো: হানিফ মিয়া, উপজেলা : কসবা, জেলা : ব্রাহ্মণ বাড়িয়া
প্রশ্ন : ঝিঙার বয়স্ক পাতায় হলদে থেকে বাদামি রঙের দাগ দেখা যাচ্ছে, করণীয় কী?
উত্তর : এটি ঝিঙার ডাউনি মিলভিউ রোগের লক্ষণ। এ রোগ বয়স্ক পাতায় প্রথম দেখা যায়। আক্রান্ত পাতার গায়ে সাদা বা হলদে থেকে বাদামি রঙের তালির মতো দাগ দেখা যায় এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগ দেখা দিলে (ম্যানকোজেব+ মেটালোক্সিল) গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : রিডোমিল গোল্ড অথবা (ম্যানকোজেব+ ফেনামিডন) গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: সিকিউর অথবা সালফার গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন ; কুমুলাস ২ গ্রাম/ লিটার হারে স্প্রে করতে হবে। সম্ভব হলে গাছের আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে পুঁতে ফেলতে হবে। সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে। বিকল্প পোষক যেমন : আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল : aklimadae@gmail.com