কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫ এ ০৫:১৮ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ১৯-০৩-২০২৫

প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ ড. আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা : কালীগঞ্জ, জেলা : লালমনিরহাট
প্রশ্ন: পটোলের গাছের কা- থেকে আঠা ঝরছে। কী করণীয়?
উত্তর : পটোল গছের কা- থেকে কষ বা আঠা ঝরে এবং বাকল ফেটে কষ পড়ে। একে পটোলের গ্যামোসিস বলে। আস্তে আস্তে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট করে ফেলতে হবে। কাটিং ছত্রাকনাশক দ্বারা শোধন করে রোপণ করতে হবে। আক্রান্ত কা-ে বর্দোপেস্ট (১০০ গ্রাম তুঁত + ১০০ গ্রাম চুন+ ১ লিটার পানি) লাগাতে হবে এবং ১% বর্দোমিকচার বা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের সানভিট (০.৪%) স্প্রে করতে হবে     ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার।
জনাব মাসুদ, উপজেলা : আমতলী, জেলা : বরগুনা
প্রশ্ন: শসা গাছের পাতা ও ফলে কালো কালো দাগ দেখা যায়। কী করতে হবে?
উত্তর: ঈড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস ঝঢ়. নামক ছত্রাকের আক্রমণে শসা গাছের পাতা ও ফলে  কালো কালো পচা দাগ দেখা যায়। এ দাগগুলো ক্রমোশ বড় হয়ে আক্রান্ত অংশটি পচিয়ে ফসলের ক্ষতি করে। আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে নষ্ট করে ফেলতে হবে। বীজ বপনের আগে বীজ শোধন করতে হবে। (কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের নোইন ২ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ) রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের নোইন ১ গ্রাম বা প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব ইাম : আহাদ, উপজেলা : বোয়ালমারী জেলা : ফরিদপুর
প্রশ্ন : ঢেঁড়সের সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই
উত্তর :
সাারের নাম শতকপ্রতি সার
কম্পোস্ট ৭৫ কেজি
ইউরিয়া ২৩০ গ্রাম
টিএসপি ৩৫০ গ্রাম
পটাশ ২৩০ গ্রাম
জমি তৈরি করার সময় ইউরিয় সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়স বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দুইকিস্তিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।
জনাব মো. আব্দুস সালাম, জেলা : পাবনা, উপজেলা : সাঁথিয়া 
প্রশ্ন : মেহগনির বীজ ও বাকল দিয়ে কিভাবে বালাইনাশক তৈরি করা যায়?
উত্তর : তিন থেকে চার কেজি মেহগনি ফল থেকে প্রাপ্ত বীজ, গাছের  বাকল ও পাতা (এক কেজি) পাঁচ লিটার পানিতে মিশিয়ে তাথে ১০ গ্রাম তুঁত, ৫ গ্রাম সোহাগা ও কয়েক রসুন কোয়া যোগ করে মিশ্রণটি আধাঘণ্টা (৩০ মিনিট) উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নিতে হবে। এমনভাবে ফুটাতে হবে যে ৫ লিটার পানি কমে অর্ধেক হয়ে যায়। মিশ্রণটি ঠা-া করে ছেকে নিয়ে ২০ গ্রাম ডিটারজেন্ট গুঁড়া মেশাতে হবে। মিশ্রণটি ১০ লিটার পানি যোগ করে বানানোর দুই থেকে তিনদিন পর প্রয়োগ করা যাবে। ধানের জমিতে সাত দিন পর পর তিনবার প্রয়োগ করলে মাজরা, পাতা, মোড়ানো, ধানের শীষ কাটা লেদা পোকা দমন করা সম্ভব। এ ছাড়া বিভিন্ন সবজির লেদা পোকা, পিঁপড়া, মশা ও উইপোকা দমন করা যায়।
জনাব মোহাম্মদ আলী, জেলা: রাঙ্গামাটি, উপজেলা: কাউখালী
প্রশ্ন : কফি চাষে কখন, কিভাবে সার প্রয়োগ করতে হবে?
উত্তর: সার প্রয়োগ জাত, গাছের বয়স, মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া প্রভৃতির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে চাষকৃত এরাবিকা বোরাস্টা জাতের কফি গাছের গোড়ায় বছর চারাবার সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মার্চ (ফুল ফোটার আগে), মে (ফুল ফোটার পর), আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সার প্রয়োগ করতে হবে। ১ বছর বয়সী গাছের গোড়ায় প্রতিবারে ২০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। ৪র্থ বছর গাছের গোড়ায় প্রতিবারে ৩৫ গ্রাম ইউরিয়া, ২৫ গ্রাম টিএসপি ও ২৫ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব গাছে ৪৫ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০ গ্রাম টিএসপি, ৩০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব সুব্রত বিশ্বাস, জেলা : পটুয়াখালী, উপজেলা : দশমিনা
প্রশ্ন ৩ : ভিয়েতনামি খাটো নারিকেলের বাংলাদেশে চাষ উপযোগী জাত সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর : বাংলাদেশে চাষ উপযোগী জাত দুটির নাম- সিয়াম গ্রীন কোকোনাট ও সিয়াম ব্লু কোকোনাট। সিয়াম গ্রীন কোকোনাট জাতটি ডাব হিসেবে ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয়। এ জাতের ফল হালকা সবুজ, আকার কিছুটা ছোট, প্রতিটির ওজন ১.২-১.৫ কেজি। ডাবের পানির পরিমাণ ২৫০-৩০০ মিলি। গাছপ্রতি বছরে ফল ধরে গড়ে ১৫০টি। সিয়াম ব্লু কোকোনাট জাতটি লাগানোর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল ধরে। ফল গাঢ় সবুজ। এ জাতটিও ওজনে গড়ে ১.২-১.৫ কেজি। ডাবে পানির পরিমাণ ২৫০-৩০০ মিলি। প্রতি গাছে বছরে গড়ে ১৫০টি ফল ধরে। এজাতটির পানি অতি মিষ্টি ও শেলফ লাইফ বেশি হওয়ায় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য।
জনাব আরাফাত, জেলা : পাবনা, উপজেলা : পাবনা সদর
প্রশ্ন : লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা হলে করণীয় কী?
উত্তর : লিচুর বাগান নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুঁতে ফেলতে হবে। লিচু গাছতলায় শুকনো খড়ে আগুন দিয়ে তাতে ধূপ দিয়ে ধোঁয়া দিতে হবে। এতে এ পোকার মথ বা ক্রীড়া বিতারিত হবে। ফলে লিচুর মধ্যে ডিম পারবে না। বোম্বাই জাতে এ পোকার আক্রমণ বেশি হয় তাই আক্রমণ প্রবণ এলাকায় চায়না ৩ জাত রোপণ করতে হবে। এ ছাড়া নিমতেল বা বাইকাও ২ মিলি/লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে ট্রেসার (স্পিনোসাড গ্রুপে) ০.৪ মিলি, বা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড ১ মিলি, বা ভায়াগন গ্রুপের ডায়াজিনন গ্রুপের ডায়াজন  প্রতি লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করতে হবে ২-৩ বার ১০-১৫ দিন পর পর। ফলের মার্বেল অবস্থায় ১৫ দিন পর পর (২-৩) বার সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ঔষধ রিপকর্ড স্প্রে করতে হবে।
জনাব ভূপেন, জেলা: বাগেরহাট উপজেলা : মোল্লারহাট
প্রশ্ন: তিল চাষের ক্ষেত্রে সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর :
ইউরিয়া সারের অর্ধেক ও বাকি সব সার জমি শেষ চায়ের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে ভাবভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি ইউরিয়া বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব রাসেল, জেলা : বরিশাল, উপজেলা : বাকেরগঞ্জ
প্রশ্ন : চীনাবাদাম চাষে সার ব্যবস্থাপন সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর : 
অধিক ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু শেষ চাষের আগে জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয় এবং বাকি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ হিসাবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর গাছে ফুল আসার সময় প্রয়োগ করতে হয়। তবে প্রতি কেজি বীজে ৭০ গ্রাম  অনুজীব সার ব্যবহার করা যেতে পারে অনুজীব সার ব্যবহার করা যেতে পারে অনুজীব সার ব্যবহার করলে সাধারণত ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয় না।
জনাব মো. সবুর আলী, উপজেলা: বামনা, জেলা: বরগুনা
প্রশ্ন : আমার তরমুজ গাছের পাতা প্রথমে নেতিয়ে পড়ছে। তারপর আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে, গাছের শিকড় ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি তরমুজের ঢলে পড়া রোগ বলা হয়। এটি ঋঁংধৎরঁস নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়। চারা অথবা বয়স্ক গাছে দেখা যায়। এ রোগে আকান্ত হলে গাছের পাতা প্রথমে নেতিয়ে পড়ে এবং হঠাৎ করে সম্পূর্ণ গাছের শাখা-প্রশাখা ঢলে পড়ে। ক্রমেই গাছ শুকিয়ে মারা যায়। প্রতিকার হিসেবে রোগাক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে, রোগ প্রতিরোধক জাতের চাষ করতে হবে, অতিরিক্ত পানি জমি থেকে বের করে দিতে হবে। কার্বে-াজিম গ্রুপের নোইন ৫০ ডব্লিউপি ২ গ্রাম/লিটার অথবা অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউপি ২ গ্রাম/লিটার অটোস্টিন পানিতে মিশিয়ে প্রতি কেজি বীজ শোধন করতে হবে। রোগ দেখা গেলে কাপার হাইড্রোক্সইড গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ২০ গ্রাম ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৫ শতক জায়গায় গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
 
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; 
ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন