কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫ এ ০৯:০৫ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আষাঢ় সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৬-২০২৫
প্রশ্নোত্তর
ড. আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
আনন্দ সাহা, উপজেলা : জামালপুর সদর, জেলা : জামালপুর
প্রশ্ন : আগাম জাতের শিমের সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : শিম চাষে হেক্টর প্রতি গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২৫ কেজি, টিএসপি-৯০ কেজি, এমওপি-৬০ কেজি, জিপসাম-৫ কেজি, এসিড-৫ কেজি লাগবে। শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর এবং জিপসাম ও বরিক এসিড সবটুকু জমিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করে চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বীজ বপন বা চারা রোপনের ৪-৫ দিন আগেই ইউরিয়া ও এমপি (পটাশ) সারের অর্ধেক এবং টিএসপি সারের সবটুকু একত্রে ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাদার মাটির সাথে (১০ সেমি. গভীর পর্যন্ত) কোদালের দ্বারা হালকাভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বপন/ রোপনের ৩০ দিন পর বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও এমপি সার মাদায় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব মো. নয়ন মিয়া, উপজেলা : বেলাবো, জেলা :নরসিংদী
প্রশ্ন : আমার গিমাকলমি শাকের পাতার নিচে শক্ত সাদা পাউডারের মতো দেখা যায় এর থেকে প্রতিকারের উপায় কি?
উত্তর : আক্রান্ত গাছের পাতার নিচে শক্ত সাদা পাউডারের মতো লেগে থাকে। একে কলমি শাকের সাদা মরিচা রোগ। এটি ছত্রাক জনিত। রোগটি মাটি বাহিত বিধায় মাটি, আক্রান্ত চারা ও বীজের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : চ্যাম্পিয়ন, বা উইল মিশিয়ে স্প্রে করলে ২ এর প্রতিকার পাওয়া যায়। এছাড়াও বীজতলায় হে: প্রতি ২.০ টন ট্রাইকোকম্পোস্ট ব্যবহার করা হয়। ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই শাক খাওয়া যাবে না।
জনাব মো: সাত্তার মন্ডল, উপজেলা : বিরামপুর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : ক্ষিরা গাছের কচি পাতা ও ডগা পোকা আক্রমণ করে নষ্ট করে ফেলছে। করণীয় কি?
উত্তর : সাধারণত বিটল পোকার আক্রমণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। বিটল পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে করণীয় হল ক্ষেতের আশে পাশের আগাছা নষ্ট করা, হাতজাল দিয়ে ধরা ও মেরে ফেলা। পাতার উপরে ছাই ছিটিয়ে সাময়িকভাবে দমন করা যায়। চারা বের হওয়ার পর থেকে ২০-২৫ দিন পর্যন্ত মশারির জাল দিয়ে চারাগুলোকে ঢেকে রাখতে হবে। চারা বা গাছের মাদার চারিদিকে ২-৫ গ্রাম দানাদার কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ওষুধ ১ মিলি সিপসিন/সপসিন (আইসোপ্রোকার্ব) ২ গ্রাম/একতারা (থায়ামোথোক্সাম) ১ গ্রাম/ সেভিন (কার্বারিল) ২ গ্রাম মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার স্প্রে করতে হবে।
জনাব মো: আমজাদ মিয়া, উপজেলা : শ্রীপুর, জেলা : গাজীপুর
প্রশ্ন : রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি এবং সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : পরিমিত ও মধ্যম মাত্রার উর্বর মাটিতে বীজতলার জন্য কোন সার প্রয়োগ করতে হবেনা। তবে নিম্ন, অতিনিম্ন বা অনুর্বর মাটির ক্ষেত্রে গোবর অথবা খামারজাত সার প্রতি শতকে ২ মণ হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। বীজতলার চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার চারা গজানোর ২ সপ্তাহ পর মাটিতে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পর ও বীজতলার চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার দিতে হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এর মতে উফশী জাতের আমনের উচ্চ ফলন পেতে বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ২১ কেজি ইউরিয়া, ৭-১০ কেজি টিএসপি ডিএপি ৩.৫-১৩.৫ কেজি এমওপি ৪-১১ কেজি জিপসাম ১-২ কেজি জিংক সালফেট এবং ৩৫ মণ জৈবসার প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপনের আগে জমিতে সব সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় জিংক সালফেট না দিলে স্প্রে আকারে চিলেটেড জিংক ব্যবহার করা যায়। ইউরিয়া সার তিন কিস্তিতে দিতে হবে। চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর প্রথম কিস্তি ২৫-৩০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন আগে তৃতীয় কিস্তির সার প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব মো. আব্দুর রহিম, উপজেলা : বেলাবো, জেলা : নরসিংদী
প্রশ্ন : পেয়ারার গায়ে ছোট ছোট বাদামি দাগ দেখা যাচ্ছে। কোন কোন দাগ হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করছে। পরিপক্ব ফল ফেটে যাচ্ছে। এই সমস্যার প্রতিকার কী?
উত্তর : এ টি পেয়ারার এ্যানথ্রাকনোজ রোগ। । আক্রমণ বেশি কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউজি ১ গ্রাম বা প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। এছাড়া গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ফল সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
লেখক : উপপরিচালক (কৃষক প্রশিক্ষণ), প্রশিক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সাবেক তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২;