কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ এ ০৬:৩৯ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আশ্বিন সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ১৮-০৯-২০২৩
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
তামিম, উপজেলা : বীরগঞ্জ, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : নারিকেল গাছের ছোট ছোট নারিকেল ঝরে পড়ে যাচ্ছে। এর সমাধান কী?
উত্তর : নারিকেল গাছের ছোট নারিকেল ঝরে পড়ার মূল কারণসমূহ হলো ফুলে পরাগ সংযোগ না হওয়া, পোকার আক্রমণ হলে, মাটিতে পটাশ সারের অভাব হলে। এ জন্য একাধিক গাছ লাগাতে হবে যাতে পরাগায়ন হয়। নারিকেল গাছে পটাশ সার তুলনামূলক বেশি লাগে। এ ছাড়া বোরন স্প্রে করতে হবে। পূর্ণবয়স্ক গাছে ২ কেজি পটাশ ও বোরন ২ মিলি প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে দিয়ে স্প্রে করতে হবে। মাটিতে মাকড়ের আক্রমণে সালফার (কুমুলাস পাউডার স্প্রে করতে হবে)।
সোহেল, উপজেলা : বাকেরগঞ্জ, জেলা : বরিশাল
প্রশ্ন : টমেটো গাছের পাতা ও কা- ঢলে পড়ে এবং পরবর্তীতে গাছ মারা যায়। করণীয় কী?
উত্তর : রালস্টোনিয়া নামক মাটিবাহিত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে টমেটো গাছের পাতা ও কা- ঢলে পড়ে এবং গাছ মারা যায়। এই রোগ দমনে প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ শ্রেয়। মাটিবাহিত রোগ বিধায় রোগের জীবাণু মাটিতে থাকে। তাই প্লাবন সেচ দেয়া যাবে না। জমি চাষের সময় ব্লিচিং পাউডার ১৫-২০ কেজি প্রতি হেক্টরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে মাটিতে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে এবং সেখানকার মাটি সরিয়ে নতুন মাটি দিয়ে নতুন গাছ লাগাতে হবে। লাগানোর আগে ব্যাকটেরিয়ানাশক দ্রবণে ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে লাগাতে হবে। এ ছাড়া বিসমার্থিওজল গ্রুপের ব্যাকট্রোল/ব্যাকট্রোবান/অটোব্যাক ২ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
যাকারিয়া, উপজেলা : ভেড়ামারা, জেলা : কুষ্টিয়া
প্রশ্ন : ধানের পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে যায় ও পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। করণীয় কী?
উত্তর : ধান উৎপাদনে যে সব পোকার আক্রমণ হয় তার মধ্যে ক্ষতিকারক পোকা হচ্ছে পাতামোড়ানো পোকা। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকা পাতার মধ্যশিরার কাছে ডিম পাড়ে। কীড়াগুলো পাতার সবুজ অংশ খায় এবং বড় হওয়ার সাথে সাথে তারা পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে নলের মতো করে। মাটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে এই আক্রমণ হয়। এ ছাড়া বৃষ্টির পর টানা ২-৩ দিন প্রখর রৌদ্র হলেও আক্রমণ বাড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত গাছ থেকে পোকার ডিম বা কীড়াসহ পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা যায়। আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক মথ ধরে দমন করা যায়। ডালপালা পুঁতে পার্চিং এর ব্যবস্থা করে পাখি বসার ব্যবস্থা করলে পূর্ণবয়স্ক মথ ধ্বংস করা যায়। আগাছামুক্ত রাখতে হবে চারা রোপণের পর ৪০ দিন পর্যন্ত। এ ছাড়া শতকরা ২৫ ভাগ পাতা আক্রান্ত হলে ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে ক্লোপাইরিফস জাতীয় কীটনাশক (ডারসবান ২০ ইসি), ম্যালাথিয়ন জাতীয় কীটনাশক (ফাইফানন ২৫ মিলি) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
হেমায়েত উদ্দীন, উপজেলা : হাটহাজারী, জেলা : চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : আম গাছে কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়?
উত্তর : আম গাছের বয়স অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। আম গাছে সাধারণত বছরে ২ বার সার দিতে হবে। বর্ষার আগে ও বর্ষার পরে (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ও আশি^ন মাসে)। সারের পরিমাণ সারণি দ্রষ্টব্য।
উল্লেখিত সার ২ ভাগ করে প্রথম ভাগ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে এবং ২য় ভাগ আশ্বিন মাসে প্রয়োগ করতে হবে। জিপসাম ও জিংক সালফেট ১ বছর পর পর প্রয়োগ করলেই চলবে।
জুলহাস, উপজেলা : দেওয়ানগঞ্জ, জেলা : জামালপুর
প্রশ্ন : শীতকালীন টমেটোর জাত কী কী?
উত্তর : বর্তমানে টমেটো সারা বছর উৎপাদন করা যায়। শীতকালীন টমেটো তিন রকমের জাত দেখা যায়।
আগাম জাত : জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে রোপণ করা হয়। এতে আগাম ফল আসে। বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, টিপু সুলতান, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি।
ভরা মৌসুম জাত : অক্টোবর-নভেম্বর মাসে রোপণ করা হয়। মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বারি টমেটো ১৮, বারি টমেটো ২১, বিনা টমেটো ১০, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি।
নাবি শীত মৌসুমী জাত : জানুয়ারিতে বোনা হয়। ফল আসে মার্চ-এপ্রিল মাসে। এদের মধ্যে বাহার, রাজা, সুরক্ষা অন্যতম।
শফিক, উপজেলা : শিবগঞ্জ, জেলা : বগুড়া
প্রশ্ন : সবুজ পাতা (বিলাতি) ধনিয়া পাতার জন্য কোন মাসে বীজ বপন করতে হবে। ধনিয়ার সাথে কী কী সাথী ফসল করা যায়?
উত্তর : ধনিয়া দৈনন্দিন খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে। ধনিয়া পাতা সালাদসহ সব তরকারিতেই ব্যবহার করা যায়। সবুজ পাতার জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বপন করা যায়। শাক, সবজি (ওলকপি), আখ, আলু, ডালজাতীয় ফসলের সাথে ধনিয়া সাথী ফসল করা যায়।
ফাহিম, উপজেলা : বদরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : কলাগাছে কী পরিমাণ সার দিতে হয়?
উত্তর : কলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত কলা খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। কলা এনার্জি বাড়াতে এর কোন জুরি নেই।
কলাগাছের সার ব্যবস্থাপনা
১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম জিপসাম জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক গোবর সার ও টিএসপি, জিপসাম ও ১৫০ গ্রাম পটাশ গর্তে দিতে হবে। রোপণের ২ মাস পর ১২৫ গ্রাম ইউরিয়া ও ১৫০ গ্রাম পটাশ সার জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এর ২ মাস পরপর গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ ও ৭৫ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। ফুল আসার পর এই পরিমাণ দ্বিগুন করতে হবে।
রিপন, উপজেলা : পবা, জেলা : রাজশাহী
প্রশ্ন : কচুর পাতায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লাল মাকড়ের আক্রমণ। করণীয় কী?
উত্তর : সবজি হিসেবে কচু বেশ পরিচিত ও পুষ্টিকর। সাধারণত সবজি ও ঔষধি হিসেবে কচু ব্যবহৃত হয়। পাতার নিচে লাল রং এর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাকড়ের আক্রমণ হয়, যা হাত দিয়ে নষ্ট করা যায়। এ ছাড়া কীটনাশক হিসেবে এবামেকটিন গ্রুপের ভার্টিমেক ১.৫ মিলি, প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর অথবা সালফার গ্রুপের কুমুলাস পাউডার ২ গ্রাম প্রতি লিটারে মিলিয়ে ১০ দিন পরপর বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
হিরা, উপজেলা : সদর, জেলা : কুমিল্লা
প্রশ্ন : লটকনের ফল ছোট অবস্থায় ফলের খোসা ছিদ্র করে ডিম পাড়ে এবং শাঁস খেয়ে ফেলে। করণীয় কী?
উত্তর : লটকন বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি অপ্রচলিত ফল। টক-মিষ্টি স্বাদ যুক্ত। লটকন ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ একটি ফল। ১ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে পারফেকথিয়ন বা লিবাসিড ৫০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
আব্দুর রহিম, উপজেলা : গফরগাঁও, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : ঢেঁড়সের শিকড়ের গিঁট রোগ, পাতা ছোট এবং গাছ খর্বাকৃতি হয়। করণীয় কী?
উত্তর : মেলোয়ভোগাইন প্রজাতির কৃমির আক্রমণে ঢেঁড়সের শিকড়ের গিট রোগ হয় এবং পাতা ও গাছ খর্বাকৃতির হয়। তাই আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে। প্রতিকার হিসেবে একই জমিতে বার বার একই ফসল চাষ করা যাবে না। জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হবে। চারা রোপণের ৮-১০ দিন পূর্বে ট্রাইকো কম্পোস্ট ২.৫ টন প্রতি হেক্টরে প্রয়োগ করতে হবে। রোগের লক্ষণ দেখা গেলে কার্বোফুরান গ্রুপের ফুরাডান ৫ জি, ৪০ কেজি প্রতি হেক্টর মাটিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।
এছাড়াও কৃষি বিষয়ক তথ্য জানতে কল করুন কৃষি তথ্য সার্ভিসের ১৬১২৩ নম্বরে।
লেখক : তথ্য অফিসার (পিপি), কৃষি তথ্য সার্ভিস,
খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২;
ই- মেইল : aklimadae@gmail.com