কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৪:৫০ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-১০-২০২৫
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ শারমীন আক্তার
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব মো. আরিফ মিয়া, উপজেলা : কালিহাতী, জেলা : টাঙ্গাইল
প্রশ্ন : মটরশুঁটির পাতা ও কা লাল মরিচার মতো এক ধরনের উঁচু দাগ দেখা যাচ্ছে, করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : এটি মটরশুঁটির লাল মরিচা রোগ। এই রোগের আক্রমণে পাতায়, কা-ে এবং ফলে লালচে মরিচা রঙের এক ধরনের উঁচু দাগ দেখা যায়। এ রোগ প্রতিরোধে নি¤েœাক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-
আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করা; সুষম সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছের বৃদ্ধি ঠিক রাখা; প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: টিল্ট ১০ লি. পানিতে ৫ মিলি. মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হবে; বিলম্বে মটরশুঁটি বপন না করা; একই জমিতে বারবার মটরশুঁটি চাষ না করা; সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। বীজ শোধনের জন্য প্রতি কেজি বীজে ২ থেকে ৩ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন : প্রভেক্স, নোইন) দিয়ে শোধন করতে হবে। সঠিক দূরত্বে মটরশুঁটি বপন করতে হবে। উন্নত জাতের মটরশুঁটি চাষ করতে হবে।
জনাব মো: রবিউল আলম, উপজেলা : সদর, জেলা : যশোর
প্রশ্ন : তুলা গাছের পাতার কিনারা নিচে দিকে কুচকে যায়। কিছু কিছু পাতা আগুনে পোড়ার মতো ঝলসে যায়। কি করণীয়?
উত্তর : এ ধরনের সমস্যা তুলা গাছের জ্যাসিড পোকার কারণে হয়। গাছের বয়স ১৪-২১ দিনের সময় জ্যাসিড পোকার আক্রমণ দেখা যায়। পূর্ণবয়স্ক পোকা এবং নিম্ফ উভয়ই তুলার পাতা থেকে রস চুষে খায়। চারা অবস্থায় আক্রান্ত হলে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। ১-৩ মাসের মধ্যে আক্রমণ হলে পাতার প্রান্ত ভাগ নিচের দিকে কুচকে যায়। পরবর্তীতে পাতা আগুনে পোড়ার মতো ঝলসে যায়, ফলে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঝরে পড়ে।
আক্রমণ প্রতিরোধী জাত যেমন : সিবি ৫, সিবি ১৪, সিবি-৯ ব্যবহার করতে হবে। হাতজাল দিয়ে যতদূর সম্ভব জ্যাসিড সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি. ইমিডাক্লোরাপ্রিড/এসিটাপ্রিমিড গ্রুপের কীটনাশক মিলিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। তুলা ক্ষেতের পাশে বা কাছাকাছি বেগুন, ঢেঁড়স বা মেস্তা চাষ করা যাবে না।
জনাব মো. নাজমুল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা : ফুলগাজী, জেলা : ফেনী
প্রশ্ন : লাউ ফসলের কৃত্রিম পরাগায়ন ব্যবস্থাপনা কিভাবে করতে পারি?
উত্তর : লাউয়ের পরাগায়ন প্রধানত মৌমাছি দ্বারা সম্পন্ন হয়। প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য হেক্টরপ্রতি দু’টি মৌমাছির কলোনি প্রয়োজন। নানা কারণে লাউয়ের সব ফুলে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঘটে না এবং ফলন কমে যায়। কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে হাত দিয়ে পরাগায়ন করে লাউয়ের ফলন ৩০-৩৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব। লাউয়ের ফুল ঠিকমতো রোদ পেলে দুপুরের পর ফোটা শুরু হয়ে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত ফোটে। কৃত্রিম পরাগায়ন ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত করা যায়। তবে পরদিন সকালে পরাগায়ন করলে ফল কম ধরে। যে কয়টা ফুলে পরাগায়ন হয় তার সব কঁটিতে ফল ধরে। কৃত্রিম পরাগায়নের নিয়ম হচ্ছে ফুল ফোটার পর পুরুষ ফুল ছিঁড়ে ফুলের পাপড়ি অপসারণ করা এবং ফুলের পরাগধানী যার মধ্যে পরাগরেণু থাকে আস্তে করে স্ত্রী ফুলের গর্ভমু-ে ঘষে দেয়া। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ২-৪টি স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করা যায়।
জনাব মো. খাইরুল ইসলাম, উপজেলা : ফুলবাড়ির, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : আলুর বীজ শোধন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : আলুর বীজ শোধন করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-
বরিক এসিড দিয়ে শোধন : ১ লিটার পানিতে ৩০ গ্রাম বরিক এসিড মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিটের জন্য বীজ ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হবে।
কার্বেন্ডাজিম দিয়ে শোধন : প্রতি কেজি আলুর বীজের জন্য ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কার্বেন্ডাজিম পাউডার ও ছাই একসাথে মিশিয়ে নিয়ে আলুর বীজ শোধন করা যায়।
অন্যান্য ছত্রাকনাশক : বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য ছত্রাকনাশক যেমন স্নোডেক্স, ভিটাভেক্স, ভিটাফো ২০০ এফ এফ বা হাদাক ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি ১০ কেজি আলুর বীজের জন্য ২৫-৩০ গ্রাম ছত্রাকনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
লবণ পানি দিয়ে শোধন : ১০ লিটার পানিতে ১ কেজি লবণ মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এই দ্রবণে ১৫ কেজি আলু বীজ কিছুক্ষণের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। এতে করে ভালোবীজগুলো নিচে চলে যাবে এবং খারাপ বীজগুলো উপরে ভেসে উঠবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৭৪১১৯৩; ই-মেইল : ioag@ais.gov.bd