কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১২ মে, ২০২৪ এ ১১:১৯ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: বৈশাখ সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ০২-০৫-২০২৪
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
সবুজ আলম, উপজেলা : রায়পুরা, জেলা : নরসিংদী
প্রশ্ন : খিরা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে এবং হলুদ হয়ে পচে ঝরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : খিরায় সাধারণত মাছি পোকার আক্রমণে এই ধরনের লক্ষণগুলো দেখা যায়। স্ত্রী মাছি কচি ফলের নিচের দিকে ওভিপজিটর ঢুকিয়ে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার স্থান থেকে পানির মতো তরল পদার্থ বেরিয়ে আসে যা শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের শাস খেতে শুরু করে এবং এতে ফলের আকার বিকৃত হয়ে যায় এবং ফল হলুদ হয়ে পঁচে ঝড়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ফল বা ফুল সংগ্রহ করে ধ্বংস বা পুড়ে ফেলতে হবে। কচি ফল কাগজ বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। প্রথম ফুল আসা মাত্র প্রতি ১০ শতাংশের জন্য ৩টি হারে ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। আম বা খেজুরের রসে সামান্য বিষ মিশিয়ে তা বোতলে রেখে জানালা কেটে দিয়ে ক্ষেতের মাঝে মাঝে স্থাপন করা যায়। এ ছাড়া কুমড়াজাতীয় ফল ১০০ গ্রাম কুচি কুচি করে কেটে তাতে সামান্য বিষ যেমন : সপসিন ০.২৫ গ্রাম (আইসোপ্রোকার্ব) মিশিয়ে তা দিয়ে বিষটোপ তৈরি করে মাটির পাত্রে করে ক্ষেতের মাঝে মাঝে স্থাপন করা যায়। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি./লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পর পর ৩ বার।
গফুর মিয়া, উপজেলা : মিঠাপুকুর, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : ধানের পাতায় লালচে রঙ এর দাগ দেখা যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণ পাতাই বাদামি রংয়ের হচ্ছে। এখন কি করতে পারি?
উত্তর : ধানের পাতার লালচে রেখা রোগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এই রোগ সাধারণত পত্র ফলকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। প্রথমে শিরাসমূহের মধ্যে সরু ও হালকা দাগ পড়ে। ক্রমান্বয়ে দাগগুলো বড় হয়ে বাদামি রঙ ধারণ করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত ধানের পাতা পুরোটাই বাদামি রঙের হয়ে যায়। এ রোগের দমন ব্যবস্থাপনা হচ্ছে ফসল কাটার পর নাড়া পুড়ে ফেলা। ৫৪ ডিগ্রি সে: তাপমাত্রার পানিতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে বীজ ব্যাকটেরিয়ামুক্ত হয়। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার পানি দিতে হবে। পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে (৫-৬ কেজি/বিঘা)। আক্রান্ত গাছে ৫০-১০০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে বিকালে স্প্রে করা। এ ছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ৪-৫ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড বা ২ গ্রাম চ্যাম্পিয়ন মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে ৭ দিন পর পর ৩ বার।
আলীম হোসেন, উপজেলা : শিবালয়, জেলা : মানিকগঞ্জ
প্রশ্ন : আমের হপার পোকার আক্রমণে করণীয় কী?
উত্তর : পূর্ণ বয়স্ক হপার পোকা ও নিম্ন (বাচ্চা) উভয়ই আমের কচি অংশ মুকুল থেকে রস চুষে খায়। পোকার আক্রমণে মুকুলের ফুল শুকিয়ে যায়। মুকুলের রস চোষার সময় পোকা প্রচুর পরিমাণ মধুরস ছেড়ে দেয় এর ফলে পাতায় শুঁটিমোল্ড ছত্রাক আক্রমণ করে পাতা কালো বর্ণ করে ফেলে। এ রোগের প্রতিকার হলো বাগান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। শুধুমাত্র পানি ও জৈব বালাইনাশক স্প্রে করা। ছায়াযুক্ত ও ঘন গাছসমূহ ছাঁটাই করে রৌদ্র চলাচলের ব্যবস্থা করা। আম মটর দানাকৃতির হলেই ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি. হারে, সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি. হারে অথবা ডেসিস ডেল্টামেথ্রিন) ২.৫ ইসি ০.৫ মিলি. হারে সম্পূর্ণ গাছে স্প্রে করতে হবে। আমের পোকার আক্রমণে যেহেতু শুঁটিমোল্ড রোগের আক্রমণ ঘটে তাই এটা দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন: থিওভিট, কুমুলাস ইত্যাদি ব্যবহার্য কীটনাশকের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো: আমিনুল ইসলাম, উপজেলা : গোদাগাড়ী, জেলা : রাজশাহী
প্রশ্ন : গ্লাডিওলাস ফুলের জাবপোকার আক্রমণ হলে কি করতে হবে?
উত্তর : এদের দমনের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত পাতা বা ফুল ছিঁড়ে পোকাসহ ধ্বংস করতে হবে। হলুদ রঙের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া যায়। তাছাড়া সাবান গুঁড়া ৫ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর (২-৩) বার স্প্রে করেও এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে ডাইমেথয়েট গ্রুপের কীটনাশক (পারফেকথিয়ন/মানগর/ টাফব্রার ৪০ ইসি) ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর (২-৩) বার স্প্রে করতে হবে।
তানজিলা, উপজেলা : রংপুর সদর, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : গোলমরিচ চাষে সারের পরিমাণ জানতে চাই।
উত্তর : গোলমরিচ সারের পরিমাণ নি¤েœ দেয়া হলো-
বয়স অনুযায়ী গাছপ্রতি সারের পরিমাণ ও প্রয়োগের সময় নিচে দেয়া হলো :
সার প্রয়োগ : প্রথমবারের সার প্রয়োগ করতে হবে বর্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে অথবা বৈশাখ মাসে (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে) এবং ২য় বার বর্ষার শেষে অর্থাৎ আশ্বিন (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর)। গর্তগুলো (১০-১২) দিন খোলা রাখার পর প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর ও ২৫০ গ্রাম টিএসপি সার গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে পূর্ণ করে রাখতে হবে।
রাফিদ, উপজেলা : কাহারোল, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : লিচু গাছে মাকড় হলে কি করতে হবে?
উত্তর : ফল সংগ্রহের সময় মাকড় আক্রান্ত পাতা ডালসহ ভেঙ্গে মুড়িয়ে ফেলতে হবে। মাকড়নাশক ভার্টিমেক প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ মিলি পরিমাণে মিশিয়ে নতুন পাতায় ১৫ দিন পর পর (২-৩) বার স্প্রে করতে হবে।
মো: মজিবুর রহমান, উপজেলা : চিরির বন্দর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : পেঁপের কা- পচে যাচ্ছে কী করণীয়?
উত্তর : পেঁপের কা- পচা রোগ Pythium apheridermatum নামক ছত্রাক দ্বারা হয়। এ রোগের জীবাণুর আক্রমণ হলে চারা গজানোর আগেই বীজ পচে যায়। আক্রান্ত অংশের আঁশ পচে যায় এবং সামান্য বাতাসে গাছ ভেঙ্গে পড়ে। রোগাক্রান্ত চারা দেখামাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে। গাছের গোড়ায় পানি নিকাশের ভাল ব্যবস্থা করতে হবে। বীজতলার মাটি ৫% ফরমালিন দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে গাছের কা-ের চারিদিকে ১% বর্দোমিকচার বা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক সালকক্স (০.৪%) বা রিডোমিল গোল্ড (০.২%) স্প্রে করতে হবে।
আব্দুল মুমিন, উপজেলা : ফুলবাড়ী, জেলা : কুড়িগ্রাম
প্রশ্ন : মিষ্টি আলুর গাছ ঢলে পড়ছে, কী করতে হবে?
উত্তর : মিষ্টি আলুর ঢলে পড়া রোগ Fusarium sp. ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগে আলু লতা ঢলে পড়ে। আলুর লতার ভেতরের নালীসমূহ আটকিয়ে গাছের রস সরবরাহ বন্ধ করে। পরবর্তীতে গাছ শুকিয়ে মারা যায়। আক্রান্ত গাছ নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। ব্যাভিস্টিন ৩ গ্রাম প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। কার্বোডাজিম ১ গ্রাম বা কপার অক্সিক্লোরাইড-৪ গ্রাম প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে ৭ দিন পর পর ৩ বার।
মো: হেলাল উদ্দীন, উপজেলা : আত্রাই, জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : ঢেড়স গাছের পাতা ছোট, খর্বাকৃতি হচ্ছে এবং শিকড়ে গিঁট রয়েছে, কী করণীয়?
উত্তর : ঢেঁড়সের শিকড়ের গিঁট রোগMelidogyne Javarica কৃমিজনিত রোগ। এ রোগের কারণে শিকড়ে ছোট ছোট গিঁট দেখা যায় এবং আস্তে আস্তে বড় হয়। রোগাক্রান্ত শিকড়ে সহজেই পচন ধরে। গাছের পতা ছোট, খর্বাকৃতি হয়। এর ফলে গাছ বাড়ে না, ফুল ও ফল ধরে না এবং ফলন কমে যায়। পরিশেষে গাছ মরেও যেতে পারে। আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে। একই জমিতে বারবার এ ফসল চাষ না করা। চারা রোপণের ৮-১০ দিন পূর্বে মাটিতে ট্রাইকো কম্পোস্ট হেক্টরপ্রতি ২.৫ টন হিসেবে প্রয়োগ করলে ঢেঁড়সের কৃমিজনিত শিকড় গিঁট রোগ কার্যকরীভাবে দমন করা যাবে।
ফারুক আহমেদ, উপজেলা : আত্রাই, জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : আমার করলা গাছের পাতায় সাদা পাউডারের মতো আবরণ দেখা যাচ্ছে করণীয় কী?
উত্তর : এটি করলার পাউডারি মিলডিউ রোগ। এই রোগটি odium sp. নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। আক্রমণ বেশি হলে পাতা নষ্ট ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। ফুল ও ফল কম হয়। এই রোগটি দেখা দিলে প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি অথবা সালফার ৮০% (থিয়োভিট) ২ গ্রাম/প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল :aklimadae@gmail.com