কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৪:২৯ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আশ্বিন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৯-২০২৫
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ শারমীন আক্তার
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব মো. আব্দুল মজিদ, উপজেলা : বড়লেখা, জেলা : মৌলভীবাজার
প্রশ্ন : লেবু গাছের পাতা, শাখা ও ফলে বাদামি রঙের গুঁটি বসন্তের মতো দাগ পড়েছে। এর সমাধান কী?
উত্তর : লিফ মাইনার পোকার আক্রমণেও এ রোগ হতে পারে। আক্রান্ত ডগা ও শাখা ছাঁটাই করতে হবে এবং কাটা অংশে বর্দোপেস্টের (১০০ গ্রাম চুন+১০০ গ্রাম তুত +১ লিটার পানি) প্রলেপ দিতে হবে।
জনাব মো. সাইফুল আলম, উপজেলা : বেড়া, জেলা : পাবনা
প্রশ্ন : মুলার বীজ বপনের সময় ও সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর : আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস (মধ্য সেপ্টেম্বর-থেকে মধ্য নভেম্বর) মুলার বীজ বপন করা যায়। হেক্টরপ্রতি ২.৫-৩.০ কেজি বীজের প্রয়োজন। সার প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ৩০০-৩৫০ কেজি, ডিএপি ২৫০-৩০০ কেজি, এমওপি ২১৫-২৩৫ কেজি গোবর বা কম্পোষ্ট ৮০-৯০ টন প্রয়োজন। শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর-বা কম্পোস্ট সার, অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান অংশে যথাক্রমে বীজ বপনের তৃতীয় ও পঞ্চম সপ্তাহে ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব মো: মিজানুর রহমান, উপজেলা : তালতলী, জেলা : বরগুনা
প্রশ্ন : মুগের বীজ বপন পদ্ধতি, বীজের হার ও বপনের সময় সম্পর্কে জানতে চাই
উত্তর : মুগ ছিটিয়ে ও সারি উভয় পদ্ধতিতেই চাষ করা যায়। আন্তঃফসল বা মিশ্র ফসল হিসেবে মুগ চাষ করলে সাধারণত ছিটিয়ে বপন করা হয়। তবে সারি করে বপন করাই উত্তম। সারি করে বপন আন্তঃপরিচর্যাসহ ফল সংগ্রহের সুবিধা হয় এবং বীজের গুণাগুণসহ ফলনও বেশি হয়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি হতে সারি দূরত্ব ৩০ সেমি. বা ১২ ইঞ্চি রাখতে হবে। মুগ সারিতে বপনের জন্য হেক্টরপ্রতি ২০-২৫ কেজি বীজ প্রয়োজন। ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে বীজের পরিমাণ সামন্য বেশি দিতে হয়। এলাকাভেদে মুগের বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। খরিপ-১ মৌসুমে ফাল্গুন মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খরিপ-২ মৌসুমে শ্রাবণ ভাদ্র মাসে লাগনো যায়। বিলম্ব রবি মৌসুমে বরিশাল এলাকার জন্য বপনের উত্তম সময় পৌষ-মাঘ।
জনাব জহিদুল ইসালাম, উপজেল : কালীগঞ্জ, জেলা : লালমনিরহাট
প্রশ্ন : টমেটোর আগাম এবং শীতকালীন জাত সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : টমেটোর আগাম জাতগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমরিও, বিনা টমেটো-৩, বিনা টমেটো-৪, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ-১ ইত্যাদি।
টমেটো শীতকালীন জাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬ (সারাবছর) বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, রতন, বিনা টমেটো ১০, চেরি টমেটো, বিনা টমেটো ১১, বিনা টমেটো ১৩ ইত্যাদি।
জনাব শরিফ, উপজেলা : গফরগাঁও, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : পেয়ারা ফলের বাইরের অংশ ঠিক থাকে কিন্তু ভেতরের অংশ পঁচে যায়। এ অবস্থায় করণীয় কি।
উত্তর : পেয়ারার মাছি পোকার আক্রমণে এমনটা হয়ে থাকে। এই পোকা ফল পরিপক্ব হওয়ার সময় অভিপজিটর ঢুকিয়ে ডিম পারে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে ফলের মাংসল অংশ খেতে থাকে এবং কা- ভেতরে পচে যায়। করণীয় হলো ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোঁটা, রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করে দিতে হবে। ফল ব্যাগিং করতে হবে অথবা পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। বিষটোপ, ফেরোমন ফাঁদ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে সুমিথিয়ন ২.৪ মিলি/লিটার অথবা সবিক্রন ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে সাত থেকে দশদিন পর পর দুই থেকে তিনবার স্প্রে করে দিতে হবে।
জনাব মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা : ফুলবাড়িয়া, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : শিমের কা- ও পাতায় কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, কী করতে হবে?
উত্তর : শিমের অ্যানথ্রাকনোজ রোগ, যা ঈড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁঁস ঝঢ় নামক ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট। এই রোগের কারণে কা-ে প্রথমে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। যা পরে কা-কে চারিদিকে থেকে ঘিরে ফেলে। ক্ষতের রং কালো থেকে বাদামি রঙের হয় । পাতার নিচের দিকে শিরা বরাবর সরু নাল বা কালো দাগ পড়ে। শিমের উপর ছোট ছোট বাদামি হতে কালো রঙের আকাবাঁকা এবং অবতলীয় দাগ পড়ে। রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত ফল, পাতা ও ডগা অপসারণ করতে হবে। বীজ লাগানোর আগে প্রোভ্যাক্স প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ০.৫ মিলি/লি. বা ম্যানকোজের গ্রুপের ডাইথেন-এম-৪৫ গ্রাম/লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৭৪১১৯৩;