কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ এ ০৫:০৮ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: পৌষ সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ১৭-১২-২০২৩

প্রশ্নোত্তর

কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন

নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন। সায়মা সরকার, উপজেলা : রামগতি, জেলা : লক্ষ্মীপুর
প্রশ্ন : অতিরিক্ত ঠা-ায় বীজতলার যত্ন ও পরিচর্যার সঠিক নিয়ম স¤পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : বোরো মৌসুমে শীতের জন্য চারার বাড়-বাড়তি ব্যাহত হয়। শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ সাদা পলিথিন দিয়ে সকালে চারার পাতার উপরের শিশির শুকিয়ে গেলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিলে বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিলে ও চারার উপরে শিশির ঝড়িয়ে দিলে চারা ঠা-া থেকে রক্ষা পায়। বীজতলায় সবসময় নালা ভর্তি পানি ধরে রাখতে হবে। বীজ গজানোর ৪-৫ দিনপর বেডের উপর ২-৩ সেমি. পানি রাখলে আগাছা ও পাখির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পর ও চারা সবুজ না হলে গন্ধকের অভাব হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। তখন প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম জিপসাম সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগের পর বীজতলায় পানি ধরে রাখা উচিত।
নুরুল হক, উপজেলা : শিবালয়, জেলা : মানিকগঞ্জ
প্রশ্ন : জিংক সমৃদ্ধ আধুনিক গমের জাত সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : বারি গম ৩৩ গমের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জিংক সমৃদ্ধ জাত। জাতটির উচ্চতা মাঝারি (১০০-১০৫) সেমি.। কুশির সংখ্যা ৩-৫টা। শীষ বের হতে ৬০-৬৫ দিন এবং বোনা থেকে পাকা ১১০-১১৫ দিন সময় লাগে। জাতটি ব্লাস্ট রোগ, পাতার দাগ রোগ ও মরিচা রোগ প্রতিরোধি। জাতটি স্বল্পমেয়াদি ও তাপ সহনশীল হওয়ায় দেরিতে বপনের জন্য উপযোগী। বীজ বপনের সময় (১৫-৩০ নভেম্বর) বীজ হার ১৩০ কেজি/ হেক্টর। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সর্বত্র আবাদের উপযোগী। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪০০০-৫০০০ কেজি। দানার রং সাদা, চকচকে মাঝারি (হাজার দানার ওজন ৪৫-৫২ গ্রাম)। মাড়াই করার পর ৩-৪ দিন হালকা রোদে শুকিয়ে বীজের আর্দ্রতা ১২% তার নিচে নামিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
রফিক উদ্দিন, উপজেলা : বীরগঞ্জ, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : আলুর জমিতে এক ধরনের পোকা গাছের পাতা, কা- ও ডগার রস চুষে খাচ্ছে। গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ও কুঁকড়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান কী?
উত্তর : জাব পোকার আক্রমণে এই ধরনের সমস্যা জমিতে হয়ে থাকে। প্রতিকার হিসেবে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি ডায়াজিনন গ্রুপ বা ইমিডাক্লোরপিড গ্রুপের এডমায়ার বা টিডো ০.৫ মিলি মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে ৩ বার। এ ছাড়াও জাবপোকার আক্রমণ বেশি হলে আলুর উত্তোলনের শেষের দিকে গাছ কেটে বা উপড়ে দিতে হবে।
লিটন আহমেদ, উপজেলা : পীরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : ক্ষিরা গাছের পাতায় ও ফলে কালো কালো দাগ দেখা যাচ্ছে ও ক্ষিরা পচে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি ক্ষীরার এনথ্রাকনোজ রোগ। ঈড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস ংঢ় নামক এক প্রকার ছত্রাক দ্বারা এ রোগের বিস্তার ঘটে। এ রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে প্রোপামোকার্ব গ্রুপের দুদু ২ গ্রাম বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের (নোইন ১ গ্রাম) বা প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ০.৫ মিলি বা কপার হাইড্রোঅক্সাইড গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম করে ১০ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে ৩ বার। এছাড়া আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে।  রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে ও সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
রাজীব শিকদার, উপজেলা : রাজাপুর, জেলা : ঝালকাঠি
প্রশ্ন : ধানের জমিতে জৈবসার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগের কার্যকারিতা/ উপকারিতা কী কী?
উত্তর : জৈসসারকে মাটির উর্বরতা শক্তির চালক হিসেবে গণ্য করা হয়। বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘায় ৮০০ কেজি মুরগীর বিষ্ঠা (পোলট্রি লিটার) রাসায়নিক সারের সাথে ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার কম লাগবে। মুরগীর বিষ্ঠায় চাহিদা অনুসারে ফসফরাস বিদ্যমান থাকায় জমিতে ঐ মৌসুমে টিএসপি/ ডিএপি সার ব্যবহার করার প্রয়োজন নাই। তবে নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হলে পরিমিত মাত্রায় ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করলে আরও ভাল ফলন পাওয়া যায়। মুরগির বিষ্ঠা টাটকা/২৫-৩০ দিন পচানো দুই অবস্থায়ই ব্যবহার করা যায়। তবে টাটকা ব্যবহার করলে মাটিতে প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে। তা না হলে রোপণের পর কিছু চারা মারা যেতে পারে। সেজন্য চারা রোপণের পর অন্তত ১৪ দিন পর্যন্ত জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। অপরদিকে ২৫-৩০ দিনের পচানো বিষ্ঠা প্রয়োগ করলে সাথে সাথে চারা রোপণ করা যায়। এতে চারা মারা যায় না।
শফিক হোসেন, উপজেলা : জলঢাকা, জেলা : নীলফামারী
প্রশ্ন : ধানের চারার পাতা হলুদ হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে খড়ের মতো হয়ে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি ধানের পাতা পোড়া রোগ নামে পরিচিত এবং এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি রোগ। বোরো মৌসুমে ধানের অন্যতম প্রধান রোগ পাতা পোড়া চারা এবং বয়স্ক গাছ দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়। চারার বাইরে পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে খড়ের রঙে পরিণত হয় ফলে নতুন পাতাও শুকিয়ে যায় এবং চারা নেতিয়ে পড়ে। চারা গোড়ায় হাত দ্বারা চাপ দিলে পুঁজের মতো দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ বের হয়। বয়স্ক গাছে প্রথমে পাতার কিনারায় ও আগায় ছোট ছোট জলছাপের মতো দাগ দেখা যায়। পরে এই দাগগুলো বড় হয়ে অগ্রসর হতে থাকে এবং অক্রান্ত অংশ ধুসর বাদামি বর্ণে পরিণত হয় যা ঝলসানো বা পাতা পোড়া বলে মনে হয়। এই রোগ দেখা দেওয়ার পর পরই ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। থোড় বের হওয়ার আগে রোগ দিলে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এই সময় জমির পানি শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করলে রোগের প্রকোপ কম হবে। এছাড়া কপার অক্সি ক্লোরাইড (ংঁহারঃ) ৪ গ্রাম বা কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে ৭-১০ দিন পরপর ৩ বার। প্রয়োজনে ১% বর্দ্দোমিকচার ব্যবহার করা যেতে পারে।
জলিল ভূঞা, উপজেলা : গদখালী, জেলা : যোশর
প্রশ্ন : বরবটি গাছের চারা হঠাৎ করে নেতিয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : বরবটির চারা নেতিয়ে পড়া একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এই রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত গাছ নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। বপনের পূর্বে বীজ শোধন (প্রোভেক্স ২.৫ গ্রাম বা ব্যাভিষ্টিন-২ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ) করতে পারলে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। চারা গজানোর পরে অতিরিক্ত সেচ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম কমপ্যানিয়ন  (ম্যানকোজেব+কার্বেনডাডিম) গ্রুপের বা কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের ২ গ্রাম চ্যাম্পিয়ন ব্যবহার করতে হবে ৭ দিন পরপর ৩ বার। এছাড়া মাদার মাটি শোধন করা যেতে পারে। মাদায় ট্রাইকোডার্মা ভিডিডি ৩০ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম গোবরের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আবু তাহের, উপজেলা : রামগতি, জেলা : লক্ষ্মীপুর
প্রশ্ন : পোকা বাঁধাকপির পাতা খেয়ে ফেলছে। কী করতে হবে?
উত্তর :  লেদাপোকার কীড়া কপির বর্ধনশীল অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে কপির মাথা নষ্ট হয় এবং খাওয়ার অনুপযোগী হয়। পাতার সবুজ অংশ খেয়ে বড় হতে থাকে। পোকার ডিম ও লেদা হাত দ্বারা বাছাই করতে হবে। ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক ( যেমন ওসতাদ ২০ মিলিলিটার অথবা ম্যাজিক ১০ মিলিলিটার) প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০-১২ দিন পরপর ২-৩ বার।
মো: সাহারুল ইসলাম, উপজেলা : চকোরিয়া, জেলা : কক্সবাজার
প্রশ্ন : পেঁয়াজের কা- পচে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : পেঁয়াজের কা- পচা রোগ (ঝপষবৎড়ঃরঁৎস ৎড়ষভংরর) ছত্রাকজনিত রোগ। আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। আক্রান্ত গাছ খুব সহজেই মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে পচন ধরে। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ চাষ করা যাবে না। আক্রান্ত পেঁয়াজ গাছ তুলে নষ্ট করতে হবে। প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম (কার্বেন্ডাজিম) প্রুপের ব্যাভিস্টিন দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। চারা আক্রান্ত হলে ২.৫ গ্রাম প্রোভেক্স (কার্বাক্সিন+থিরাম) গ্রুপের ২০০ বা ২ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন বা (কার্বেন্ডাজিম) গ্রুপ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে চারার গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।
রিফাত, উপজেলা : ঠাকুরগাঁও, জেলা : পীরগঞ্জ
প্রশ্ন : ছোলার গাছ হলুদ হয়ে যায়, ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায় এবং টান দিলে সহজেই উঠে আসে না। লম্বালম্বিভাবে কাটলে কা-ের মাঝখানের অংশ কালো দেখা যায়। এটার প্রতিকার কি?
উত্তর : সাধারণত মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ও যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকলে এ রোগের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। বীজ শোধক দিয়ে বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন করলে ছোলার উইল্ট রোগ দমন করা যায়,  (কার্বাক্সিন+থিরাম) গ্রুপের প্রোভেক্স অথবা ভিটাভেক্স ২০০ প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। মাঠে ঢলে পড়া রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম (ব্যভিস্টিন ডি এফ অথবা নোইন) অথবা কার্বাক্সিন+থিরাম গ্রুপের প্রোভেক্স-২০০ ডব্লিউ পি ১ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকালে গাছের গোড়ায় ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধী জাত, যেমন বারি ছোলা-৫ এবং বারি ছোলা-৯ এর চাষ করতে হবে। ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈবসার ব্যবহার করতে হবে।
রেজা, উপজেলা : বীরগঞ্জ, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : সূর্যমুখীর ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে।  অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়।
উত্তর :  রোগ সহনশীল বারি সূর্যমুখী ২ জাত চাষ করতে হবে। রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে (ইপোড্রিয়ন) গ্রুপের রোভরাল ৫০ ভব্লিউপি (২ গ্রা. হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ২-৩ বার পাতায় প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। ফসল কাটার পর  গাছের পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট করলে বা পুড়িয়ে ফেললে ও রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।
সাইফুল, উপজেলা : বাকেরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : ভুট্টার মোচা ও দানায় সাদা সাদা আবরণ দেখা যাচ্ছে ও পচে  যাচ্ছে। করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : এটি ভুট্টার মোচা ও দানা পচা রোগ। এটি উরঢ়ষড়ফরধ সধুফরং ও ঋঁংধৎরঁস সড়হষরঃধৎড়হ নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত মোচার খোসা ও দানা বিবর্ণ হয়, দানা পুষ্ট হয় না, কুঁচকে অথবা ফেটে যায়, এবং পচে কালো হয়ে যায়। একই জমিতে বার বার ভুট্টা চাষ করা যাবে না। চকচকে প্লাস্টিকের ফিতা ফসলের উপর টাঙানো, ভুট্টা পেকে গেলে দেরি না করে দ্রুত কেটে ফেলা। ফসলের দানা শক্ত হওয়ার সময় প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক (টিল্ট/প্রাউড) ২ মিলি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা : নগরকান্দা, জেলা : ফরিদপুর
প্রশ্ন : ভুট্টা গাছের পাতায় ছোট ছোট হালকা সবুজ রঙের পোকা দেখা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি ভুট্টার গাছের জাবপোকা। এ পোকার পূর্ণাঙ্গ ও বাচ্চা উভয়েই ভুট্টার পাতা, কা- ও ডগা থেকে রস চুষে খায়। ফলে পাতা কুঁকড়ায় যায় ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত ভুট্টাগাছে টাসেল আসার সময় এ পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এ পোকা এক পাতার উপরে শ্যুটি মোল্ড নামক এক ধরনের ছত্রাক নি:সরণ করে। যা পরবর্তীতে পাতা উপরে কালো দাগের সৃষ্টি করে। এ জন্য উন্নত জাতের ভুট্টা বপন করতে হবে। পরভোজী পোকা যেমন লেডিবার্ড বিটল জমিতে ছেড়ে দেওয়া। আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরাপিড গ্রুপের কীটনাশক অ্যাডমায়ার/টিডো/ এসাটফ ০.৫ মিলি/লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার স্প্রে করা।

লেখক : তথ্য অফিসার (পিপি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল :  aklimadae@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন