কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪ এ ১০:৩৮ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: জ্যৈষ্ঠ সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৫-২০২৪
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
হাসানুর রহমান, উপজেলা : সদর গাইবান্ধা, জেলা : গাইবান্ধা
প্রশ্ন : গোল মরিচের জাত সম্পর্কে জানতে চাই। গোলমরিচ লাগানোর সময় কখন। চারা রোপণের পদ্ধতি কী?
উত্তর : বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক জৈন্তিয়া গোলমরিচ জাতটি আবিষ্কৃত হয়। যা বারি গোলমরিচ-১ নামে পরিচিত।
চারা রোপণ : মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল- মে) মাসে প্রত্যেক সহায়ক বৃক্ষের পাশে তৈরি গর্তে ২-৩টি কাটিং লাগাতে হবে এরপর পানি দিতে হবে। কাটিংগুলো সহায়ক বৃক্ষের উত্তর পার্শ্বে লাগানো হলে সূর্যের তাপ কম লাগবে। সূর্যের তাপ হতে প্রাথমিকভাবে রক্ষার জন্য পাতাওয়ালা গাছের ডাল বা অন্য কোনভাবে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জংলী কোন বৃক্ষ বা ফলের গাছ (কাঁঠাল, লটকন ইত্যাদি ছাড়া যে সব গাছে গোড়া ও প্রাথমিক বড় শাখাতে ফল ধরে) সহায়ক বৃক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মো: সনেট, উপজেলা : বাকেরগঞ্জ, জেলা : বরিশাল
প্রশ্ন : চীনাবাদামের জ্যাসিড বা পাতা শোষক পোকা কিভাবে দমন করা যায়।
উত্তর : হাত জাল দিয়ে পোকা ধরে মেরে পোকার সংখ্যা কমানো যায়। চীনাবাদামের সাথে রসুন, পিয়াজ বা ধনিয়া আন্তঃফসল হিসেবে করে পোকার আক্রমণ শতকরা ২০-২৫ ভাগ কমানো যায়। নিম পাতার নির্যাস (১০%) আক্রান্ত ক্ষেতে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ২ বার স্প্রে করতে হবে। ৫০ গ্রাম নিম বীজ ভেঙে ১ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে (২-৩) গ্রাম ভিটারজেট বা গুঁড়া সাবান মিশিয়ে ছেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর তিন বার ছিটিয়ে পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ওষধ রিপকর্ড ১০ ইসি ১ মিলি বা এডমায়ার .৫ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর অন্তর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
লুৎফর রহমান, উপজেলা : বটিয়াঘাটা, জেলা : খুলনা
প্রশ্ন : পটোল ক্ষেতে লাল মাকড়ের আক্রমণ হলে কি করতে হবে।
উত্তর : পটোল ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। এক কেজি আধা ভাঙ্গা নিমবীজ ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ওই পানি পাতার নিচের দিকে স্প্রে করতে হবে। আক্রমণের হার বেশি হলে ওমাইট বা টলস্টার (প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি) হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
মো: লিটু, উপজেলা : বাগমারা, জেলা : রাজশাহী
প্রশ্ন : আমড়া গাছের সার প্রয়োগ মাত্রা জানতে চাই।
উত্তর : আমড়া চারা রোপণের সময় ৬০ী৬০ ী৬০ সেমি. গর্ত করে ২০ কেজি জৈবসার, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। বৃষ্টির মৌসুমের প্রারম্ভে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস (এপ্রিল- মে) চারা লাগানোর সময়।
এছাড়া আমড়া গাছে বছরে ২ বার সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি বর্ষার প্রথমে (এপ্রিল- মে) এবং ২য় কিস্তি বর্ষার শেষে মধ্য শ্রাবণ থেকে মধ্য ভাদ্র (আগস্ট- সেপ্টেম্বর) দিতে হবে। মাটিতে জো অবস্থায় সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের পরিমাণে বৃদ্ধি করতে হবে।
আব্দুল করীম, উপজেলা : শিবালয়, জেলা : মানিকগঞ্জ
প্রশ্ন : গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সবল চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে ৫০ গ্রাম সুস্থ বীজ ঘন করে প্রতিটি বীজতলায় (১ মিটার লম্বা ও ৩ মিটার চওড়া) বুনতে হয়। এই হিসেবে প্রতি হেক্টরে ২০০ গ্রাম (১ গ্রাম/শতাংশ) বীজ বুনতে (গজানোর হার ৮০%) ৪টি বীজতলায় প্রয়োজন। গজানোর ৮-১০ দিন পর চারা দ্বিতীয় বীজতলায় ৪৪ সেমি. দূরত্বে স্থানান্তর করতে হবে। এক হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের জন্য এইরূপ ২২টি বীজতলার প্রয়োজন হয়। বীজতলায় ৪০-৬০ মেস (প্রতি ইঞ্চিতে ৪০-৬০টি ছিদ্রযুক্ত) নাইলন নেট দিয়ে ঢেকে চারা উৎপাদন করলে চারা অবস্থায়ই সাদা মাছি পোকার দ্বারা পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাস ছড়ানোর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। এইরূপ সুস্থ সবল ও ভাইরাসমুক্ত চারা রোপণ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও রোদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে পলিথিন ও চাটাই এর আচ্ছাদন ব্যবহার করতে হবে।
আমজাদ হোসেন, উপজেলা : ফুলবাড়িয়া, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : ঝিঙায় সাদা মাছির আক্রমণে করণীয় কী?
উত্তর : সাদা মাছি ঝিঙার পাতার রস চুষে খায় ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এরা ভাইরাসজনিত রোগ ছড়ায়। পাতায় অসংখ্য সাদা সাদা পাখাযুক্ত মাছি দেখা যায়। প্রথমবার লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্রই ব্যবস্থা নিতে হবে। আগাম বীজ বপন, সুষম সার ব্যবহার, আগাছা পরিষ্কার রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে এগুলো রোধ করা সম্ভব। সাদা মাছি আক্রমণ করলে সাদা আঠাযুক্ত বোর্ড স্থাপন বা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শনে রাখতে হবে। ৫০ গ্রাম সাবানের গুড়া ১০ লিটার পানিতে গুলে পাতার নিচে সপ্তাহে ২/৩ বার ভাল করে স্প্রে করতে হবে। সাথে ৫ কৌটা গুল (তামাক গুড়া) পানিতে মিশিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদিত বালাইনাশক যেমন : ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের ওষুধ এডমায়ার ০.৫ মিলি বা ইমিটাফ ০.২৫ মিলি অথবা ডাইমেথয়েট গ্রুপের ওষুধ টাফগর/মানগর ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
আবুল হাসান, উপজেলা : আড়াইহাজার, জেলা : নারায়ণগঞ্জ
প্রশ্ন : পোকা লিচুর ফল ছিদ্র করে নষ্ট করে ফেলছে। এ অবস্থায় কি করতে পারি?
উত্তর : লিচুর ফলছিদ্রকারী পোকা ফলের বোটার কাছে ছিদ্র করে বীজকে নষ্ট করে ফেলে। পরে ছিদ্রের মুখে বাদামি রঙের এক প্রকার করাতের গুড়ার মতো মিহি গুড়া উৎপন্ন হয়। এতে ফল নষ্ট হয়ে যায়। এই রোগে করণীয় হল লিচু বাগান নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে। লিচু গাছতলায় শুকনো খড়ে আগুন দিয়ে তাতে ধুপ দিয়ে ধোয়া দিলে এ পোকার মথ বিতাড়িত হবে। বোম্বাই জাতে আক্রমণ বেশি হওয়ায় চায় না ৩ জাত রোপণ করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন ১ মিলি বা সুমিথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
বজলুল রহমান, উপজেলা : মনোহরদী, জেলা : নরসিংদী
প্রশ্ন : পেঁপে চাষে বীজের পরিমাণ এবং সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : পেঁপের জন্য জাতভেদে প্রতি শতকে ১.৫-২.৫ গ্রাম বীজ প্রয়োজন। প্রতি গর্তে ইউরিয়া ৪০০-৫০০ গ্রাম টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৪৫০-৫০০ জিপসাম ২৫০ গ্রাম, জিংক ২০ গ্রাম, বোরন ২০ গ্রাম দিতে হবে। চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে প্রতি গর্তে ১৫ কেজি গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, বোরিক এসিড দিতে হবে। ইউরিয়া ও এমওপি চারা রোপণের ১ মাস পর থেকে প্রতি মাসে একবার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। প্রতি গাছে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি দিতে হবে এবং গাছে ফুল এলে এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। ফল তোলার ২ মাস আগে সার দেয়া বন্ধ করতে হবে।
ওমর ফারুক, উপজেলা : রংপুর সদর, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : আদা গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : আদার কন্দ পচা রোগের কারণে কন্দ পচে যায়, গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় কিন্তু গাছের পাতায় কোন দাগ থাকে না। পরবর্তীতে গাছ আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়। আক্রান্ত গাছ টান দিলে খুব সহজেই উঠে আসে এবং গাছের গোড়ার অংশে পচা দেখা যায়। চুঃযরঁস ংঢ়. ছত্রাকের আক্রমণে এরোগ দেখা দেয়। আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ৩-৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিড়িডি মিশিয়ে কন্দ শোধন করতে হবে। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কম্প্যানিয়ন বা ব্যাভিস্টিন/ নোইন বা ডাইথেন এম-৪৫ বা ৪ গ্রাম সানভিট গাছের গোড়ায় ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
হাবিবুর রহমান, উপজেলা : ফুলবাড়ি, জেলা : কুড়িগ্রাম
প্রশ্ন : পোকা মুগডালের পাতা খেয়ে ঝাঝরা করে ফেলছে, করণীয় কী?
উত্তর : মুগের বিছা পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে ঝাঝরা করে ফেলে । এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। আক্রমণের প্রথম অবস্থায় কীড়াসমূহ দলবদ্ধভাবে থাকে সে অবস্থায় পাতা ছিড়ে কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে কীড়া নষ্ট করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি ডায়াজিনন বা সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড ১ মিলি বা কার্বারিল গ্রুপের সেভিন ৩.৪ গ্রাম মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল : aklimadae@gmail.com