কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ ০৪:৫৪ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ভাদ্র সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ০১-০৯-২০২৪
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ ড. আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব রেজাউল করিম, উপজেলা : ডিমলা, জেলা : নীলফামারী
প্রশ্ন : ধানগাছের ডিগপাতার খোলে অসংখ্য বাদামি দাগ দেখা যাচ্ছে এবং আস্তে আস্তে দাগগুলো সমস্ত খোলে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ এবং ধানের খোলপচা রোগ নামে পরিচিত। এই রোগ সাধারণত ধানগাছের ডিগপাতার খোলে হয়। প্রথমে খোলে ছোট ছোট নানা আকারের বাদামি দাগ হয়। দাগগুলো আস্তে আস্তে বেড়ে একত্রে মিশে সমস্ত খোলেই ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় যদি শীষ বের হয় তাহলে ধান চিটা ও অপুষ্ট হয়। অনেক সময় শীষ অর্ধেক বের হতে পারে বা একেবারেই পারে না। প্রতিকার হিসেবে রোগ প্রতিরোধ সম্পন্ন জাত ব্যবহার করতে হবে এবং সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। রোগ দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে কয়েকদিন পর আবার সেচ দিতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে টিল্ট ২৫০ ইসি (প্রোপিকোনাজল গ্রুপের) অথবা নাটিভো (ট্রাইসাইক্লোজোল গ্রুপের) অথবা কনটাফ ৫ ইসি (হেক্সাকোনাজল গ্রুপের) ১ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে সাত থেকে দশ দিন পর পর স্প্রে করে দিতে হবে।
জনাব সবুজ আলম, উপজেলা : পাটগ্রাম, জেলা : লালমনিরহাট
প্রশ্ন : লালশাক চাষের জন্য শতকপ্রতি জমিতে বীজের পরিমাণ এবং সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : লালশাকের বীজের পরিমাণ : শতকপ্রতি ৮-১০ গ্রাম। সরাসরি বীজ বুনলে লাইন থেকে লাইন ১৫ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারা ৮-১০ ইঞ্চি দূরে লাগাতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা :
টিএসপি সারের বদলে ডিএপি সার দিলে প্রতি কেজি ডিএপি সারের জন্য ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া (হেক্টরপ্রতি) কম দিতে হবে।
জনাব হাবিবুর রহমান, উপজেলা : সিরাজদিখান, জেলা : মুন্সীগঞ্জ
প্রশ্ন : পোকা ধানগাছের পাতা মুড়িয়ে ফেলছে, কী করতে হবে?
উত্তর : ধানের পাতা মোড়ানো পোকা পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পাতায় সাদা লম্বা দাগ দেখা যায়। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকা পাতার মধ্য শিরার কাছে ডিম পাড়ে। কীড়াগুলো পাতার সবুজ অংশ খায় এবং বড় হওয়ার সাথে সাথে তারা পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে নলের মতো করে ফেলে। পোকা দেখা দিলে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে। শতকরা ১৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অনুমোদিত বালাইনাশক যেমন : হেক্টরপ্রতি ডাইমেথোয়েট গ্রুপের (টাফগর) ১.১২ লি: অথবা কারবারিল গ্রুপের (সেভিন) ১.৭০ কেজি ব্যবহার করতে হবে।
জনাব আলমগীর হোসেন, উপজেলা : বোদা, জেলা : পঞ্চগড়
প্রশ্ন : মরিচের পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে, কী করণীয়?
উত্তর : মরিচের জাবপোকা পাতা ও ডগার রস চুষে খেয়ে পাতাকে বিবর্ণ করে ও পাতা ফুল কুঁকড়ে যায়। আক্রান্ত বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না। গাছের আক্রান্ত অংশ অপসারণ করতে হবে। হলুদ রঙের ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
জনাব মো. জসিম, উপজেলা : আমতলী, জেলা : বরগুনা
প্রশ্ন : মিষ্টি কুমড়ার ফলের নিচের দিকে পচন দেখা দিচ্ছে। ধীরে ধীরে পুরো ফলটিই পচে যাচ্ছে। প্রতিকার কী?
উত্তর : মিষ্টি কুমড়ার গাছে প্রথমে কচি ফলের নিচের দিকে পচন দেখা দেয়, ধীরে ধীরে পুরো ফলটিই পচে যায়। এই রোগের নাম মিষ্টি কুমড়ার ব্লোজম এন্ড রট রোগ। প্রতিকার হিসেবে ক্ষেতে পরিমিত সেচ দিতে হবে। গর্ত বা প্রতি পিটে ৫০ থেকে ৮০ গ্রাম করে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে শতাংশ প্রতি চার কেজি হারে ডলোচুন প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সুষম সার ব্যবহার করে এ রোগ দমন করা যায়।
জনাব মো: ওমর আলী, উপজেলা : সাতকানিয়া, জেলা : চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : গ্রীষ্মকালীন এবং বর্ষাকালীন পেঁয়াজ বপনের সময় সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এবং বর্ষাকালীন পেঁয়াজ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চারা লাগানো যায়।
জনাব আল আমিন, উপজেলা : পীরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : পটোল গাছে লাল মাকড় আক্রমণ করেছে। করণীয় কী?
উত্তর : পটোল লাল মাকড় আক্রমণ করলে পাতা শক্ত চামড়ার মতো হয় এবং পাতা বিবর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। লালমাকড় আকারে অত্যন্ত ছোট হয়। এরা পাতার নিচের দিকে অবস্থান করে। ব্যাপক আক্রমণের ফলে সম্পূর্ণ পাতা হলুদ ও বাদামি রঙ ধারণ করে এবং ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন অনেক কমে যায়।
এ পোকা দমনের জন্য এক কেজি আধা ভাঙ্গা নিমবীজ ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ওই পানি পাতার নিচে স্প্রে করতে হবে। আক্রমণের হার বেশি হলে ক্লোর ফেনাপাইর গ্রুপের ইন্ট্রাপিড মাকড়নাশক ২ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল :