কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১ এ ০৭:৩৬ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আষাঢ় সাল: ১৪২৮ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৬-২০২১
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন
কৃষিবিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো. ফজলুর বেপারি, গ্রাম: সরফরাজপুর, উপজেলা: চৌগাছা, জেলা: যশোর
প্রশ্ন: কচু গাছের পাতা বাদামি হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে কী করব?
উত্তর: জমিতে এ ধরনের রোগ দেখা দিলে ফেনামিডন ও মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন-সিকিউর ৬০০ ডব্লিউজি অথবা মেটালেক্সিল ও মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন-রিডোমিল গোল্ড প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের পাতার উপরে ও নিচে ভিজিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার স্প্রে করতে হবে। আশা করি উপকার পাবেন।
মোঃ রবিউল ইসলাম, গ্রাম: পাটগা মুন্সিপাড়া, উপজেলা: রানীশংকৈল, জেলা: ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন: ঢেঁড়সের পাতায় বাদামি রঙের দাগ পড়ে পাতা মুচড়ে ঝলছে যাচ্ছে। কী করব?
উত্তর: ঢেঁড়সের পাতায় এ ধরনের দাগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন-রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি প্রতিলিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা ডাইফেনো কোনাজল ও অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন-এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি প্রতিলিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলে আপনি উপকার পাবেন।
মো. ফখরুল আলম, গ্রাম: রানীগঞ্জ, উপজেলা: দিনাজপুর সদর, জেলা: দিনাজপুর
প্রশ্ন: শসা গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কী করণীয়?
উত্তর: শসা গাছে এ ধরনের রোগ হলে প্রাথমিকভাবে রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে। আর অন্য গাছে যাতে করে এ রোগ ছড়াতে না পারে সেজন্য বাহক পোকা যেমন- সাদা মাছি পোকা, জাব পোকা, লিফ মাইনর প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এজন্য এসিফেট ১ গ্রাম প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে সঠিক নিয়মে স্প্রে করতে হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে একই জমিতে বার বার শসা চাষ করা যাবে না। আধুনিক জাতের শসা চাষ করতে হবে এবং শস্যপর্যায় অবলম্বন করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলে আপনি অবশ্যই উপকার পাবেন।
মো. ইমাম হোসেন, গ্রাম: সাকোয়া, উপজেলা: বোদা, জেলা: পঞ্চগড়
প্রশ্ন: জলপাই গাছের পাতায়, ফলে ও কাণ্ডে কালো ময়লা জমে। কেন এমন হয় এবং প্রতিকার কী?
উত্তর: জলপাইয়ে এ ধরনের সমস্যাকে শুটিমোল্ড বলে। মিলিবাগ বা সাদামাছি আক্রমণ করলে এ ধরনের সমস্যা হয়। এ সমস্যারোধে আক্রান্ত ডাল পালা ছাঁটাই করে ফেলতে হয়। এ ছাড়া মিলিবাগ বা সাদামাছি পোকা দমনের জন্য এডমায়ার ১ মিলি প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে সঠিক নিয়মে স্প্রে করলে উপকার পাবেন।
মো: ওয়াহিদ আলম, গ্রাম: ফিংড়ি, উপজেলা: সাতক্ষীরা সদর, জেলা: সাতক্ষীরা
প্রশ্ন: অর্কিডের পাতা আগা থেকে মরে যাচ্ছে। পাতা শুকিয়ে যায় এবং ফুলেও দাগ দেখা যায়। এ সমস্যায় করণীয় কী?
উত্তর: অর্কিডের এ ধরনের সমস্যা অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে হয়ে থাকে। এ রোগের প্রতিকার হলো আক্রান্ত পাতা অপসারণ করা এবং মেনকোজেব গ্রুপের যে কোনো ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা। পাশাপাশি পানি সেচ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
মোঃ করিম মৃধা, গ্রাম: সনগাঁও, উপজেলা: বালিয়াডাঙ্গি, জেলা: ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন: নারিকেলের ছোট ফলগুলো ঝরে পড়ছে। ঝরা ফলগুলোর মুখ কালো। কী করব?
উত্তর: নারিকেল গাছের ফল ঝরে পড়ে যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমওপি বা পটাশ সারের অভাবে। সে কারণে নারিকেল গাছের বয়স জেনে সুষম মাত্রার সার প্রয়োগ করতে হয়। সেক্ষেত্রে ১-৪ বছর বয়সী গাছের জন্য গোবর ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিপসাম ১০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ৪০ গ্রাম, বরিক এসিড ১০ গ্রাম গাছের গোড়া থেকে চারদিকে ৩ ফুট বাদ দিয়ে মাটি কুপিয়ে ৮-১২ ইঞ্চি মাটির গভীরে সারগুলো প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগ করতে হয় দুই কিস্তিতে। প্রথম কিস্তিতে অর্ধেক সার মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য জ্যৈষ্ঠ (মে) এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে বাকি অর্ধেক সার মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য আশ্বিন (সেপ্টেম্বর) মাসে। নারিকেল গাছের বয়স ৫-৭ বছর ও ৮-১০ বছর বয়স হলে ১-৪ বছর বয়সী নারিকেল গাছের সারের মাত্রাকে ২ ও ৩ গুণ করে নিয়মমাফিক প্রয়োগ করলেই কাক্সিক্ষত ফলন পাবেন। নারিকেল গাছের ঝরা ফলগুলো কালো হয় মাকড় বা মাইটের কারণে। সেজন্য ভালো হয় এবামেকটিন গ্রুপের যেকোনো ভালো মানের মাকড়নাশক আক্রান্ত নারিকেল গাছে সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করা।
মৎস্য বিষয়ক
মোঃ সাইদুল ইসলাম, গ্রাম: তাম্বুলখানা, উপজেলা: ফরিদপুর সদর, জেলা: ফরিদপুর
প্রশ্ন: মাছের কসটিয়া নেকট্রিক্স রোগ দেখা যাচ্ছে কি করব?
উত্তর: এ রোগে মাছের শরীরে নীলাভ বা ধূসর রঙের আবরণ পড়ে এবং মাছের চর্মে প্রদাহ সৃষ্টি হয় ও বহুল পরিমাণে পিচ্ছিল ক্লেদ নির্গত হয়। এ সমস্যা রোধে ২০০ ভাগ পানিতে ১ ভাগ ফরমালিন মিশিয়ে মাছকে ১০ মিনিট গোসল করালে অরোগ্য হয়।
মোঃ খাইরুল আলম, গ্রাম: ধল্লাপাড়া, উপজেলা: ঘাটাইল, জেলা: টাঙ্গাইল
প্রশ্ন: মাছের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য কী করব?
উত্তর: আক্রান্ত মাছ বড় হলে কেজি প্রতি দেহ ওজনের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম হারে জেনটামাইসিন মাছের দেহে ইনজেকশন করে দিতে হবে। মাছ ছোট আকারের হলে প্রতি কেজি খাদ্যের সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম একই এন্টিবায়োটিক মিশিয়ে কমপক্ষে ১০ দিন খাওয়াতে হবে। পোনা মাছ হলে ১ পিপিএম তুঁত দ্রবণে সপ্তাহে ২ দিন ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করে পরিষ্কার পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। অথবা আক্রান্ত মাছকে ০.১৫ পিপিএম ম্যালাকাইট গ্রিন অথবা ০.৫ পিপিএম তুঁত অথবা ০.১ পিপিএম মিথিলিনব্লু অথবা ২.৫ শতাংশ সাধারণ লবণ দ্রবণে ডুবিয়ে পরিষ্কার পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। একাজ সপ্তাহে ১ বার করে মোট ৩ বার করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ বিষয়ক
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, গ্রাম: সাকোয়া, উপজেলা: বোদা, জেলা: পঞ্চগড়
প্রশ্ন: গরুকে ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র খাওয়াতে চাই। খাবারটির তৈরির পদ্ধতি কী?
উত্তর: ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র তৈরি করতে খড় ৪২%, মোলাসেস ১৫% এবং ইউরিয়া ৩% দরকার হয়। উদাহরণ হিসেবে খড় ১০ কেজি, পানি ৫ লিটার, মোলাসেস ২.৫ কেজি এবং ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম নিতে হবে। প্রথমে প্রত্যেকটি উপকরণ আলাদাভাবে মেপে নিতে হবে। তারপর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির সাথে ইউরিয়া মেশাতে হবে এবং এরপর মোলাসেস মেশাতে হবে। সবশেষে পলিব্যাগে খড় রেখে এর সাথে ইউরিয়া ও মোলাসেস মিশ্রণ ভালোভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এভাবেই ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র তৈরি করা হয়।
সেলিনা বেগম, গ্রাম: বন্দুলি তলা, উপজেলা: চৌগাছা, জেলা: যশোর।
প্রশ্ন: মুরগির বাচ্চার চোখ দিয়ে পানি পড়ে। কী করব ?
উত্তর: মুরগির বাচ্চার চোখ দিয়ে পানি পড়া অপথ্যালমিয়ার লক্ষণ। এক্ষেত্রে আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে যেমন সেভোডেক্স ভেট আই ড্রপ। এই আই ড্রপটি দিনে ২ বার করে ৩ থেকে ৫ দিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। য়
(মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত)
উপপ্রধান তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, ফোন : ০২-৫৫০২৮৪০০, ই মেইল :taufiquedae25@gmail.com