কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫ এ ০৫:৫৫ PM

দেশি ফল বেশি খাই আসুন ফলের গাছ লাগাই

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আষাঢ় সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৬-২০২৫

দেশি ফল 
বেশি খাই
আসুন ফলের গাছ লাগাই
এস. এম. সোহরাব উদ্দিন
‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাতীয় ফল মেলা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নে এবং অর্থনীতিতে ফলদ, ভেষজ, সবজি, মসলা ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদসহ অন্যান্য উদ্যান ফসলের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কৃষির সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জনগোষ্ঠীর খাদ্যজনিত অপুষ্টি দূর করা।
উদ্যান ফসল অর্থনীতি ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি পুষ্টিরসমতা বিধানেও ভূমিকা রেখে চলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের প্রতিষ্ঠিত ৭৫টি হর্টিকালচার সেন্টার, ১টি মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং নবনির্মিত ৭টি হর্টিকালচার সেন্টারসহ মোট ৮৩টি সেন্টার সার্বিকভাবে উদ্যান ফসলের গুণগত মান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আর এ কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হর্টিকালচার সেন্টারসমূহ পরিকল্পনামাফিক মানসম্পন্ন উদ্যান ফসলের চারা/কলম উৎপাদন ও বিতরণ, মাতৃবাগান স্থাপন, জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ জাতীয়পর্যায়ে সভা, সেমিনার এবং বিভিন্ন মেলার আয়োজন করে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথা হর্টিকালচার উইংয়ের নিপুণ পরিকল্পনায় দেশে ফল, সবজি, মসলা, কন্দাল ও ফুল উৎপাদন বছর বছর বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হচ্ছে। এরই ফল স্বরূপ রপ্তানিযোগ্য আমসহ অন্যান্য ফলের উৎপাদন দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৫৭৪৯৬ হেক্টর জমিতে ১৪৮.১০ লক্ষ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হয়েছে। আম, পেয়ারা উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে অন্যান্য ফলের উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী যা তথ্য সারণি-১ দ্রষ্টব্য। 
উদ্যান ফসলের এই অগ্রযাত্রায় দেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উদ্যান ফসল আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে মোট আয় করে ১০৭,১০৬৬২৭০.৭৩ (একশত সাত কোটি দশ লাখ ছেষট্টি হাজার দুইশত সত্তর টাকা তেয়াত্তর পয়সা) টাকা। বগত কয়েক বছরের উৎপাদন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় আম উৎপাদন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লিচু উৎপাদন পাবনা দিনাজপুর, কাঁঠাল উৎপাদন গাজীপুর, পেয়ারা উৎপাদন রাজশাহী এবং মেহেরপেুর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পাশাপাশি কোয়ালিটি ফল উৎপাদনে সাতক্ষীরা এবং নওগাঁয় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাতীয় ফল মেলাসহ অন্যান্য প্রচার প্রচারণার ফলে দেশী ফলের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়ায় অভিযোজিত বিদেশী ফলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ফলের চারা/কলমের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে প্রতিষ্ঠিত হর্টিকালচার সেন্টারগুলো হতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি, প্রচলিত-অপ্রচলিতসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের চারা/ কলম উৎপাদিত হচ্ছে, যার ফলে সরকারের রাজস্ব জমাতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারা/কলম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ৭৭৭১৮৪০টি চারা উৎপাদন করা হয়েছে। এই উদ্যান ফসলের চারা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য হর্টিকালচার উইং নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলার হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন ফলের চারা/কলম বিক্রয় করে থাকে। হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর ফলের চারা/কলম এর বিক্রয় মূল্য সারণি-২ দ্রষ্টব্য।
পরিশেষে আমি আশা করি জাতীয় ফলমেলা ২০২৫ এর মাধ্যমে জনসাধারণের ফল গ্রহণ ও ফলের চারা রোপণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে টেকসই কৃষি প্রসারে ত্বরান্বিত করবে।
লেখক : পরিচালক, হর্টিকালচার উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মোবা: ০১৭১৫-৯৪১৯০৪, ই-মেইল :suhrabu@yahoo.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন