কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১০ জুন, ২০২০ এ ১২:৪৯ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আষাঢ় সাল: ১৪২৬ প্রকাশের তারিখ: ১০-০৬-২০২০
খালেদা খাতুন
‘বৃক্ষ তোর নাম কি, ফলে পরিচয়’-ফলের খাওয়ার উপযোগী অংশ নানা রকম স্বাদ, গন্ধ, রঙ, আকৃতি, জমিন এবং সর্বোপরি আমাদের শরীরের চাহিদা পূরণকারী গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বহন করে।
খাদ্য হিসেবে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। অধিকাংশ ফলমূলই সুস্বাদু, পুষ্টিকর, মুখরোচক এবং তৃপ্তিদায়ক। ফলে শর্করা, আমিষ, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেলস এবং পানি থাকে। আর এই ফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখা। আমার কাঁচা ও পাকা অবস্থায় ফল সরাসরি খাই বলে বেশীর ভাগ পুষ্টি উপাদান শরীরের কাজে লাগে। শাকসবজি প্রক্রিয়া জাত করার সময় পানিতে ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ এর অনেক অপচয় হয়। তাই এই ভিটামিনগুলোর ঘাটতি পূরণের জন্য ফলের উপর নির্ভর করতে হয়। এই জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কোন না কোন ফল থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা, ২০১৫ তে বলা হয়েছে। প্রতিদিন ১-৩ সার্ভিং পর্যন্ত মৌসুমি ফল খেতে হবে। এছাড়া ও খাদ্য গ্রহণের পর আয়রনের পরিশোষণ বৃদ্ধির জন্য টক জাতীয় ফল, যেমনÑ আমলকী, আমরা, পেয়ারা, জাম্বুরা, কাঁচা আম, লেবু ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল নিরাপদ কি না এ নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। কারণ মিষ্টি ফল রক্তে গøুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অসবৎরপধহ উরধনবঃরপ অংংড়পরধঃরড়হ এর মতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল খাওয়া ভালো, যদি তার নির্দিষ্ট কোন ফলে এলার্জি না থাকে। ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন ক্ষুধা পায়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীকে ‘টাইম ডিজিজ’ বলা হয়ে থাকে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একজন ডায়াবেটিস রোগীকে সারা দিনে ৫-৬ বার অল্প অল্প করে খেতে হয় এবং প্রতিবারেই কিছু কিছু আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ভালো। যেহেতু ফলমূল রান্না ছাড়াই সরাসরি খাওয়া যায় তাই এর আঁশ পুরোপুরি কাজে লাগে। আর এই আঁশের কারণেই মিষ্টি ফলের গøাইসেমিক ইনডেক্স (এও) অন্যান শর্করা জাতীয় খাবারের চেয়ে কম থাকে। তাই মধ্য সকাল বা বিকেলে মাঝে মধ্যে খোসাসহ ফল খাওয়া যেতে পারে। তবে তাজা ফল প্রসেস করা ফলের চেয়ে ভালো। কারণ প্রসেস করা ফল দ্রæত শোষণ হয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বেশি পাকা ফলেও রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই বেশি পাকা ফলের চেয়ে আধাপাকা ফল খাওয়া ভালো ডায়াবেটিস রোগীদের। ঘন ঘন তেষ্টা পাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর আর একটি প্রধান লক্ষণ। বেশির ভাগ ফলেই ৯০-৯৫ ভাগ পানি ধারণ করে। তাই পিপাসা মেটানোর জন্য ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেয়ে পানির চাহিদা মিটাতে পারে।
শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়। আর এই চাপ প্রতিরোধের জন্য শরীরে এন্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন। ফলে বিভিন্ন প্রকার ফ্লেভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে যা শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট। এই এন্টিঅক্সিডেন্ট শুধুমাত্র চাপই প্রতিরোধ করে না, এটি অকাল বার্ধক্য, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি রোগের ঝুঁকিও কমায়। বেশির ভাগ ফলমূলেই কম পরিমাণ সোডিয়াম ও বেশি পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলস উচ্চরক্ত চাপ ও হার্টের কার্যক্রম অক্ষুণœ রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে যদি পটাশিয়াম বেশি থাকে তবে সে ক্ষেত্রে ফল খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ইৎরঃরংয গবফরপধষ ঔড়ঁহধষ, ২০১৪-এ প্রকাশিত হয়েছে যাদে খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফল থাকে তাদের ঞুঢ়ব-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
‘ডায়াবেটিস কোনো মরণব্যাধি নয়
যদি নিয়মিত নিরাপদ ফল খাওয়া হয়
নিরাপদ ফল যদি পেতে চান
বাড়ির আঙ্গিনা অথবা ছাদে
কয়েক প্রকার ফলের গাছ লাগান। য়
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, বারডেম, শাহবাগ, ঢাকা, মোবাইল : ০১৭০৩৭৯৬২৬৯, ই-মেইল : birdem@yahoo.com