কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:৩৯ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০২-২০২৬
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার
ড. মোঃ মাসুদ রানা
দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং অর্থনীতি ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। ইলিশ মূলত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি নদীতে প্রজনন ও বংশবিস্তার করে। সাগর থেকে নদীতে এসে ডিম ছাড়ে এবং পরবর্তীতে জাটকা (ইলিশের পোনা) নদীতে বেড়ে ওঠে। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ (প্রায় ১২%) এবং জিডিপিতে অবদান এক শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী থেকে। ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে। ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (এও) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।
গত এক দশকে সরকার জাটকা সংরক্ষণ, মা-ইলিশ রক্ষা, প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প কর্মসংস্থান কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করেছে। গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, ইলিশের ডিমের অর্ধেক যদি নিষিক্ত হয় এবং তার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বেঁচে থাকে, তাহলে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি পোনা ইলিশ জন্ম নিতে পারে। ইলিশের ডিম পাড়ার মৌসুম শেষ হলেও ছোট ইলিশের বৃদ্ধি হওয়ার জন্য কিছু সময় থাকে। তাই জাটকা ধরা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখলে ইলিশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মা-ইলিশকে রক্ষা করলে তারা ডিম পাড়ার সুযোগ পায় এবং সেই ডিম থেকে জন্ম নেয়া জাটকা পরবর্তীতে বড় ইলিশে পরিণত হয়। একটি মা-ইলিশ সাধারণত চার থেকে পাঁচ লাখ ডিম দেয়। মা-ইলিশ দেশের নদী ও নদীর মোহনায় ডিম ছাড়লেও এই ডিম থেকে ইলিশ সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ কোনো পরিচর্যা ছাড়াই ইলিশ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং সাগর ও নদীর বিশাল জলরাশিকে পরিপূর্ণ করে। সাধারণত মাঝ অক্টোবরে, যখন সাগর ও নদীর পানি উত্তাল থাকে, তখন মা-ইলিশ পদ্মা ও মেঘনার দিকে ডিম ছাড়ার জন্য আসে। এই সময় মা-ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে নদীর জলরাশি ইলিশের ডিমে পরিপূর্ণ হয়। প্রায় ৫ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে, বিশেষ করে আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার পাঁচ দিন আগে ও পরে, মা-ইলিশ সাগরের গভীর থেকে মিঠা পানিতে নির্দিষ্ট এলাকায় জড়ো হয় এবং পুরুষ মাছও তাদের অনুসরণ করে। কখনও কখনও ডিম ছাড়ার সময় আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় পার হওয়ার পরও জেলেদের হাতে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ ধরার সুযোগ আসে। কিন্তু ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল ও বিচরণক্ষেত্র পদ্মা-মেঘনার পানির প্রবাহ হ্রাস এবং পানিদূষণের কারণে ইলিশের বংশবিস্তার হ্রাস পাচ্ছে। উপরন্তু নৌকার যান্ত্রিকায়ন ব্যাহত করছে রূপালী ইলিশ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা। বেড়ে ওঠার আগেই জাটকা ধরে ফেলার কারণে ইলিশ উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, অতিরিক্ত আহরণ, অকাল প্রজনন ধরা, দূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ইলিশের উৎপাদন এক সময় হুমকির মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার, গবেষক ও জেলেদের সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি, নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে ও ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা অপরিহার্য।
ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন ও হ্যাচারি প্রযুক্তি
ইলিশ মূলত প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত হলেও বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন ও হ্যাচারিতে ইলিশ পোনা উৎপাদনের গবেষণা চলছে। হরমোন প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজননের মাধ্যমে ইলিশ চাষের পথ সুগম করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঋজও) এ বিষয়ে বিশেষ গবেষণা করছে। সফল হলে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত ইলিশ প্রাকৃতিক মজুদের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
জেনেটিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রজনন
ডিএনএ বারকোডিং ও আণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশের ভিন্ন ভিন্ন জনসংখ্যা শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রজননগোষ্ঠী সংরক্ষণ করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচনী প্রজনন কর্মসূচি ইলিশের বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকে থাকার হার উন্নত করতে পারে।
আবাসস্থল পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি
ইলিশ প্রজনন ও পোনা বিকাশের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ ও প্রবাহমান নদী ব্যবস্থা। এজন্য নদী খনন, মাছ-বান্ধব বাঁধ ও ফিশ পাস নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে ইলিশের অভিবাসন নির্বিঘœ হয়। পাশাপাশি মেঘনা, পদ্মা ও তেতুলিয়া নদীতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে। এসব উদ্যোগ ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজননচক্র টিকিয়ে রাখতে সহায়ক।
ভূতথ্য ব্যবস্থা ও রিমোট সেন্সিং
উপগ্রহ চিত্র ও এওঝ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের আবাসস্থল, অভিবাসন পথ ও মাছ ধরার হটস্পট নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফিশিং ভেসেলে ভিএইচএফ রেডিও, জিপিএস, ফিশ ফাইন্ডার প্রভৃতি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর প্রবাহ, পলি জমা এবং পানির মান পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ইলিশের প্রজননের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
ডিজিটাল মনিটরিং ও ওড়ঞ প্রযুক্তি
ইন্টারনেট অব থিংস (ওড়ঞ) ডিভাইস দিয়ে নদীর পানির তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, লবণাক্ততা ও ঘোলাটে ভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকরা এসব তথ্য ব্যবহার করে ইলিশের অভিবাসনের সময় পূর্বাভাস দিতে পারেন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য জেলেদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছ।
মৎস্য কো-ম্যানেজমেন্ট ও ই-গভর্নেন্স
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাছ ধরার লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্মার্টকার্ড ও ই-মনিটরিং সিস্টেম জেলেদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা (যেমন চাল বিতরণ) সময়মতো পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ চাষ
প্রায়োগিক পর্যায়ে ইলিশকে আধা-ক্যাপটিভ বা আবদ্ধ পরিবেশে চাষের চেষ্টা চলছে। নদীর মতো পরিবেশ তৈরি করে খাঁচা বা আধা-নোনা পানির পুকুরে ইলিশ চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সফল হলে এটি বাংলাদেশের চাষভিত্তিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি
ইলিশ পোনার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য তৈরি করার গবেষণা চলছে। প্রোটিন, লিপিড ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য দ্রুত বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার বাড়ায়। প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
কোল্ড চেইন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি
পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমাতে আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি যেমন আইস স্লারি, রেফ্রিজারেটেড ট্রান্সপোর্ট ও ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং ব্যবহার হচ্ছে। সৌরশক্তি চালিত কোল্ডস্টোরেজও কিছু এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি প্রযুক্তি
আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে ফ্রিজিং, ফিলে তৈরি ও প্যাকেজিং করা হচ্ছে। বোনলেস ইলিশ, ক্যানড ইলিশ ও রেডি-টু-কুক ইলিশের মতো পণ্য জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ছে।
আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা
বন্যা, ঝড় ও লবণাক্ততার মতো জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। পূর্বাভাস ব্যবস্থা ইলিশের অভিবাসনের উপযুক্ত সময় জানাতে সহায়ক।
টেকসই জাল ও মাছ ধরার পদ্ধতি
বাই-ক্যাচ কমাতে এবং জাটকা সংরক্ষণে পরিবেশবান্ধব জাল ও নির্ধারিত ফাঁস ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে। জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে (১ নভেম্বর ৩০জুন) জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌরচালিত নৌকা ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ইঞ্জিন ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণও কমানো হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে জেলেদের ভিজিএফ কার্ড, খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জাটকা ও মা-ইলিশ সংরক্ষণে আইনের কঠোর প্রয়োগ
ইলিশ আহরণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে হবে। জাটকা ও মা-ইলিশ ধরা রোধে নিয়মিত নজরদারি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসাথে জেলেদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ
নিষিদ্ধ মৌসুমে জেলেদের জীবিকা রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান জরুরি। হাঁস-মুরগি পালন, সবজি চাষ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আয়ের উৎস বহুমুখী করা যেতে পারে। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থভাতা ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
নদী দখল ও দূষণ রোধ
ইলিশের প্রধান আবাসস্থল নদী দখল ও দূষণের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বজায় রাখা ও শিল্প-নগর বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত খনন ও ড্রেজিং কার্যক্রম নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
ইলিশের প্রজনন, অভিবাসন ও আবাসস্থল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরি। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, জিপিএস ও জিআইএস ব্যবহার করে ইলিশের গতিপথ নির্ধারণ করা সম্ভব। জেনেটিক গবেষণা, ডিএনএ বারকোডিং ও বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে ইলিশের জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইলিশের আবাসস্থলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানির তাপমাত্রা পরিবর্তন ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এসব প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক কৌশল যেমন আবাসস্থল সংরক্ষণ, টেকসই নীতি প্রণয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলে সম্প্রদায়ের জন্য দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু একটি খাদ্য নয়, বরং এটি জাতির পরিচয়, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে, যার ফলে উৎপাদনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণ, মা-ইলিশ রক্ষা, অভয়ারণ্য সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, জেনেটিক গবেষণা ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ইলিশ উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তবে টেকসই উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও জেলেদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এভাবে বাংলাদেশ জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মোবা : ০১৭৪৫৬২৬১৫৩,