কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:১২ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আশ্বিন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৯-২০২৫
জনস্বাস্থ্যে নিরাপত্তায় ইঁদুর প্রতিরোধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ
ড. মো: আদনান আল বাচ্চু
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ইঁদুর প্রধান শত্রু। এরা মানুষের আশেপাশে থেকেই মাঠে, গুদামে, বাসাবাড়িতে, অফিস আদালতে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে চলেছে। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে ইঁদুরের সমস্যা নেই। সারা বিশ্বে প্রায় ২৭০০ এর অধিক ইঁদুর জাতীয় প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৪টির মতো প্রজাতির ইঁদুরকে বেশি ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইঁদুর স্তন্যপায়ী, মেরুদ-ী সর্বভুক ও নিশাচর প্রাণী যা রোডেনশিয়া বর্গের ও মিউরিডি (পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর (ইঁদুর, কাঠবিড়ালী সজারু) প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের মুখের উভয় পাটিতে একজোড়া করে ছেদন দাঁত আছে, যা অত্যন্ত তীক্ষè ও ধারালো বাটালের মতো। এই ছেদন দাঁত গজানোর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বাড়ে। তাই, ইঁদুর দাঁতের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য অনবরত কাটাকাটি অথবা গর্ত খোঁড়াখুঁড়ি করতে থাকে।
মানবজীবনে ইঁদুরের প্রভাব : বিশ্বের সকল প্রান্তে ও সব ঘরেই ইঁদুরের উপদ্রব আছে। ছোট এই ইঁদুর মানুষের ঘরে ডেকে নিয়ে আসতে পারে বড় বিপর্যয়, করে ফেলতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি। দুষ্ট এই ইঁদুর আগেকার দিনের চেরাগ থেকে শুধু অগ্নিকা- ঘটায় না, বর্তমান যুগেও ঘরের বিদ্যুতের তার কেটে রাখে যা থেকে ঘটে অনেক বড় অগ্নিকা-ের মতো বিপদ। শুধু তাই নয়, ইঁদুরের ছড়ানোর রোগে পৃথিবীতে এসেছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারিগুলোর কয়েকটি। মানবজীবনে ইঁদুরের প্রভাব বললে ইঁদুরের দ্বারা মানুষের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ উল্লেখ করাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে প্রায় ৫০ থেকে ৫৪ লক্ষ লোকের এক বছরের খাবার ইঁদুর দ্বারা নষ্ট হয়। তবে ইঁদুর অসংখ্য বন্যপ্রাণী যেমন বনবিড়াল, শিয়াল, সাপ, গুইসাপ, কুকুর, পেচা ইত্যাদি প্রাণীর প্রধান খাদ্য এবং বহু মানুষের প্রোটিনের জোগান দিয়ে থাকে। কোনো কোনো সমাজে ইঁদুরের মাংস বিশেষ ধরনের সংস্কৃতির ধারক হিসাবে কাজ করে। যেমন ভিয়েতনামে বিবাহ অনুষ্ঠানে ইঁদুরের মাংস নবদম্পতির গুরুত্বপূর্ণ উর্বরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে ইঁদুরের ক্ষতিকর প্রভাব/ইঁদুর দ্বারা ছড়ানো রোগ : কোনো প্রাণী দ্বারা মানুষের রোগ ছড়ানোকে বলে জুনোসিস এবং এই ধরনের রোগকে জুনেটিক রোগ বলে। এই জুনোটিক রোগগুলো মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রায় হয়ে থাকে এবং কোনো কোনো সময় মৃত্যুর কারণ ও হতে পারে। ইঁদুর ৬০টির ও বেশি রোগের জীবাণু বহন, সংরক্ষণ ও বিস্তার করে থাকে। গ্রাম্য কৃষক পরিবারসহ শহরে বসবাসরত মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এসব ইঁদুর বাহিত রোগ বিস্তার করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রাণী স্বাস্থ্যের উপর ইঁদুরের এই সব রোগগুলো মাঝে মাঝে মহামারী আকার ধারণ করে। ইঁদুর থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নি¤েœ ইঁদুর বাহিত কতিপয় রোগ ও তাদের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
হানট্যান ভাইরাস বা রক্তক্ষরা জ্বর : হানট্যান ভাইরাস একটি বায়ুবাহিত রোগ। বিশ্বের অনেক দেশে ইঁদুরের দেহে হানট্যান ভাইরাসের বেশ কিছু স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯৫ হইতে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ২৫টি নতুন হানট্যান ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু স্ট্রেইনের মানুষের উপর মৃদু প্রভাব রয়েছে। আক্রান্ত ইঁদুরের মুখের লালা, প্রস্রাব ও পায়খানা মিশ্রিত ধুলাবালি বা খাদ্যকণা মানুষের সংস্পর্শে আসলে মানুষ এ রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। এ রোগের প্রভাবে অনেক সময় হার্ট ও কিডনির উপর প্রধান অসুস্থতার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। জীবাণুনাশক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইঁদুর-প্রবণ এলাকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার করলে সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্লেগ : ইঁদুর প্লেগ রোগের জীবাণু বহন করে। প্লেগ হলো ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। প্লেগ রোগযুক্ত ইঁদুরকে মাছি রক্ত চুষে খেলে অতঃপর ঐ মাছি মানুষকে কামড় দেয় বা মানুষের রক্ত চুষে খায় তবে ইঁদুরের দেহের প্লেগের জীবাণু মানুষের শরীরে চলে আসে। এইভাবে আক্রান্ত মানুষ হতে মাছি এবং মাছি হতে পুনরায় মানুষে প্লেগ রোগ বিস্তার লাভ করে। র্যাট ফ্লি ভেকটর হিসেবে কাজ করে। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৬০০ জনের মতো এ রোগে আক্রান্ত হয়। তবে আশার কথা হলো, এ রোগের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। কার্যকর মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা প্লেগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
লেপটোস্পাইরোসিস বা লেপটোস্পাইরাল জন্ডিস রোগ : লেপটোস্পিরা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়। লেপটোস্পাইরোসিস মানুষ এবং পোষা প্রাণী উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রজাতির ইঁদুর লেপটোস্পাইরোসিস রোগের জীবাণু বহন করে। ইঁদুরের প্রস্রাব যুক্ত পানি, কাদামাটি ও শাকসবজিসহ আগাছা মানুষের ক্ষত অংশের সংস্পর্শে এলে এ রোগ হয়। রোগের লক্ষণ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও ইনফ্লুয়েন্জা রোগের লক্ষণের মতো। আর্দ্র আবস্থায় এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়। সাধারণত ১৫-৩০% ইঁদুর এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। যেসব কৃষক ইঁদুর উপদ্রব জমিতে কাজ করে, অথবা ইঁদুর নিয়ে কাজ করে এমন কর্মী অথবা মাছ পরিষ্কারকারী এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। থাইল্যান্ডে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১৪৬০৮ জন লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তন্মধ্যে ৩৬৫ জন রোগী মারা যায়। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, জন্ডিস ও গায়ে র্যাশ উঠা এ রোগের লক্ষণ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করণে ব্যর্থ হচ্ছে চিকিৎসকেরা। প্রতিরোধ হিসেবে যেখানে ইঁদুর ঘনঘন আসে সেখানে জমা জল এড়িয়ে চলুন এবং ইঁদুরের উপদ্রব রোধ করতে নিয়মিত ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ অনুশীলন করতে হবে।
টিক টাইফাস : এই রোগ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। কুকুর এ রোগের প্রধান ধারক। কিন্তু ইঁদুরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারক। ইঁদুরের শরীরে বসবাসরত আক্রান্ত মাছি যদি মানুষকে কামড় দেয় তবে মানুষের দেহে এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। এ রোগের লক্ষ্য হলো মাথা ব্যথা, শরীরে র্যাস উঠা এবং জ্বর অনুভব হওয়া। সমস্ত এশিয়া জুড়েই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
মিউরিন টাইফাস : এটিও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। ইঁদুরের শরীরের বসবাসরত মাছি দ্বারা এই রোগ জীবাণু বিস্তার লাভ করে। আক্রান্ত মাছি মানুষকে কামড় দিলে অথবা আক্রান্ত মাছির পায়খানা ও তার মৃতদেহ মানুষের শরীরের সংস্পর্শ এলে মানুষ এ রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। রোগের লক্ষণের মধ্যে জ্বর, ঠা-া, মাথাব্যাথা ও শরীরে র্যাস প্রধান। সাধারণত নরওয়ে ইঁদুর ও গেছো ইঁদুর এ রোগের প্রধান আধার। এ রোগের প্রাদুর্ভাব বৃহৎ পরিসরে দেখা দিলেও মানুষের মুত্যু হার অনেক কম।
স্ক্রাব টাইফাস : সমস্ত এশিয়া জুড়ে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় যার প্রধান আধার বিভিন্ন ধরনের ইঁদুর। চিগার নামক এক ধরনের মাইটের লার্ভার কামড়ের দ্বারা এ রোগের বিস্তার মানুষের মধ্যে ঘটে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ব্যবস্থা নিলে এ রোগে মানুষের মৃত্যু কম হয়। তবে টাইফাসের প্রাদর্ভাব সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বা দরিদ্র্য, দুর্বল স্যানিটেশন এবং ঘনিষ্ঠ মানুষের সংস্পর্শে থাকা অঞ্চলে বেশি ঘটে।
ইঁদুর কামড় জ্বর : ইঁদুর কামড় জ্বর (জইঋ) হলো একটি তীব্র, জ্বরজনিত মানব রোগ যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইঁদুর দ্বারা সংক্রামিত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা ইঁদুরের প্রস্রাব বা শ্লেস্মা নিঃসরণের মাধ্যমে ইঁদুর থেকে মানুষে সংক্রামিত হয়। ইঁদুর কামড় জ্বরের বিকল্প নাম হলো স্ট্রেপ্টোব্যাসিলারি জ্বর, স্ট্রেপ্টোব্যাসিলোসিস, স্পাইরিলারি জ্বর, বগার এবং মহামারি আর্থ্রাইটিক এরিথেমা। ইঁদুর মানুষকে কামড় দিলে মানুষের এ রোগ হয়। বিশ্বের সর্বত্রই এ রোগ দেখা যায়। ইঁদুর কামড় দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এ রোগ সুপ্তাবস্থায় থাকে এবং রোগের উপসর্গ ক্ষত শুকানোর পর দেখা যায়। প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো আলাদা হয়, যা নির্ভর করে ব্যক্তিটি কোন ধরনের ইঁদুর কামড়ের জ্বরে আক্রান্ত তার উপরে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইঁদুর কামড়ের লক্ষণগুলো দৃশ্যমানভাবে দেখা যায় এবং খোলা ঘায়ের চারপাশে প্রদাহ অন্তর্ভুক্ত করে। একটি ফুসকুড়িও পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং লাল বা বেগুনির মতো দেখা যেতে পারে। অন্যান্য লক্ষনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঠা-া লাগা, জ্বর, বমি, মাথাব্যথা এবং পেশি ব্যথা। জয়েন্টগুলোও বেদনাদায়কভাবে ফুলে যেতে পারে এবং পিঠে ব্যাথা অনুভূত হতে পারে। হাত ও পায়ে আলসার বা প্রদাহের মতো ত্বকের জ্বালা হতে পারে।
সালমোনেলোসিস : এ ধরনের রোগের কারণ সালমোনেলা (ঝধষসড়হবষষধ) ব্যাকটেরিয়া। আক্রান্ত মাইসএর মল দ্বারা পানীয় ও খাবার দূষিত হয়ে মানুষের পেটে গেলে এই রোগ হয়। কয়েক ঘণ্টা থেকে এক দিনের সংক্ষিপ্ত ইনকিউবেশন পিরিয়ডের পরে ব্যাকটেরিয়া ক্ষুদ্রান্ত্রে সংখ্যাবৃদ্ধি করে যার ফলে অন্ত্রের প্রদাহ হয়। সালমোনেলোসিসে আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষের সংক্রমণের ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পরে ডায়ারিয়া, বমি, জ্বর ও হাত পায়ে খিল ধরা এবং পেটেব্যথা হয়। ডায়ারিয়া প্রায়শই জলযুক্ত এবং রক্তাক্ত নয় তবে শ্লেস্মাযুক্ত ও রক্তাক্ত হতে পারে।
টক্সোপ্লাজমোসিস : এ রোগের প্রাথমিক পোষক হলো গৃহপালিতহ বিড়াল, অনেক ইঁদুর ও মাইসসহ কিছু কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী এ রোগের মধ্যবর্তী পোষক।
লাসাজ্বর বা লাসা হেমোরাইজিক : এটি ভাইরাসজনিত এক ধরনের জ্বর। ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ার নাসা শহরে সর্ব প্রথম এ রোগ দেখা যায়। এই লাসা জ্বর প্রাণীবাহিত এবং ইহা পশ্চিম আফ্রিকার অংশ বিশেষ সিয়েরা লিয়ন, লিবিয়া, নাইজেরিয়ার জন্য মহামারি একটি রোগ। মাল্টিম্যামেট র্যাট এর সংস্পর্শে এলেই মানুষ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। ক্ষত হওয়া ত্বক ও শ্লেষা নিঃসরণ ঝিল্লির মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে লাসা জ্বরের জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহে প্রত্যেক বছর এক থেকে তিন লক্ষ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ৫০০০ লোক মারা যায়।
প্রতিকার বা করণীয় : যেহেতু ইঁদুর ময়লা, নোংরা জায়গা পছন্দ করে তাই সবসময় ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাড়ি এবং অফিসের ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে এবং অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। ইঁদুরের চলাচলের রাস্তায় ব্যাঘাত ঘটাতে হবে এবং বাড়িতে ইঁদুর প্রবেশ যেন না করতে পারে তার জন্য সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড়, পুকুরের চার পাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। খড়ের গাদাকে বাস দিয়ে উঁচু করে দিতে হবে যেন সেখানে ইঁদুরের আবাসস্থল না হয়। ছাদ ঘেসে ওঠা গাছ বা লতাজাতীয় গাছ পরিষ্কার করতে হবে। খাদ্য সামগ্রী ভালোভাবে পাত্রে ঢেকে রাখতে হবে। খাবার প্লেট, গ্লাস ও থালা বাসন ব্যবহারের পূর্বে ভালো মত পরিষ্কার করে গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ইঁদুরের সক্রিয় উপস্থিতি আছে এমন জায়গায় খালি পায়ে হাঁটা যাবে না এবং ইঁদুর যদি কামড় দেই তাহলে সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে স্যাভলন দিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সর্বোপরি ইঁদুর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে হবে। মৃত ইঁদুর সমূহ একত্র করে গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। শিশু ও গৃহপালিত পশুপাখি যেন কোনোক্রমেই এই বিষটোপের সংস্পর্শে না আসে সে ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বিষটোপ প্রস্তুত ও প্রয়োগের সময় তাৎক্ষণিক কোন প্রকার অসুস্থতা অনুভব করলে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, কীটতত্ত্ব বিভাগ, কৃষি অনুষদ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর-৫২০০, মোবাইল নং- ০১৭১৩১৬৩৩৪২,