কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০১:৫০ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: বৈশাখ সাল: ১৪৩৩ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৪-২০২৬
কৃষক কার্ড : কৃষকের অধিকার ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
মোঃ মসীহুর রহমান
মাটির বুক চিরে যে সোনালী ফসল অঙ্কুরিত হয় তার নেপথ্য কারিগর আমাদের কৃষক। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিধৌত শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকের ঘামে ভেজা প্রতিটি মাটির দলা যেন একটি করে কবিতা, একটি করে জীবনের গল্প। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো গায়ে মেখে আমাদের কৃষকেরা নেমে পড়েন এক অনন্ত সংগ্রামে। এ সংগ্রাম লক্ষ কোটি মানুষের মুখে একমুঠো অন্ন তোলার সংগ্রাম। ঝড়, বন্যা, খরা কোন কিছুই যেন এ দেশের কৃষকের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। অদম্য বিশ্বাস ও বুকভরা আশা নিয়ে তারা আবার নেমে পড়েন নতুন স্বপ্ন বুনতে। স্বচ্ছ মুক্তার দানার মতো ঝরঝরে খাবার দিয়ে যখন আমাদের টেবিল ভরে উঠে তখন হয়তো আমরা ভাবি না এই অন্নের প্রতিটি দানার পেছনে আছে কৃষকের অগণিত ত্যাগ, না বলা কষ্ট আর ফসলের প্রতি নীরব ভালোবাসা। কৃষকের সেই ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই গ্রহণ করা হয়েছে একটি নতুন উদ্যোগ। এই উদ্যোগটি হলো কৃষক কার্ড।
কৃষক কার্ড হলো বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় যা এক ছাতার নিচে একাধিক সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের যুগান্তকারী উদ্যোগ। আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশে কৃষি সেবা সহজতর করার জন্য কৃষক কার্ড চালু আছে। যেমন- কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র, মোবাইল ব্যাংকিং, ভর্তুকি প্রদান ও প্রশিক্ষণ সেবা ইত্যাদি চালু আছে। এসব দেশ কৃষি উপকরণ সরবরাহ, কৃষিঋণ, টেকসই চাষাবাদের প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ সার্বিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ব্যবহার করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সরকারও আধুনিক মানের কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি বিষয়ক সব তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কৃষিসেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল কৃষক কার্ড। কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ কার্ড চালুর অঙ্গীকার করেছে সরকার। ইশতেহারে কৃষি খাত পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে দুর্বল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহারকে তুলে ধরা হয়। সকল প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম উদ্যোগ হলো কৃষক কার্ড। এটি মূলত একটি চিপ সম্বলিত কার্ড। এ কার্ড একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত থাকবে যাতে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য কৃষিভিত্তিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সব সেবা স্বচ্ছতার সাথে এবং দ্রুততম সময়ে কৃষকের নিকট পৌঁছে দেয়া যাবে।
দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সাথে জড়িত সকল কৃষক এবং সরকার ঘোষিত কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট সকল কৃষক এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি সেবা/সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা প্রাপ্তি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি, মোবাইলে ফসলের রোগবালাই সংক্রান্ত পরামর্শ প্রাপ্তি, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাপ্তি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য প্রাপ্তি, কৃষিবীমা সুবিধা প্রাপ্তি এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা প্রাপ্তি।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া। এ কারণে একে প্রি-পাইলটিং এবং পাইলটিং পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিংয়ের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার মোট ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এগুলো হলো- টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক ও বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ী ব্লক, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক এবং কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে যা ১৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৪৫ দিন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে (১লা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান টাঙ্গাইলে শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুগান্তকারী কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের অন্যান্য আওতাধীন জেলাতে (কুমিল্লা ব্যতীত) ও ১৭ এপ্রিল কুমিল্লা জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হবে। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৮.৩৪ কোটি টাকা। এ পর্যায়ে ভূমিহীন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ বার্ষিক এককালীন ২৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন। প্রাথমিকভাবে প্রি-পাইলটিংয়ে কৃষক কার্ড পাবে ২২০৬৬ জন। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে এবং এর ব্যয়ভার কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা খাতের বাজেট (২০২৫-২৬ অর্থবছর) থেকে বহন করা হবে।
ইতোমধ্যে প্রি-পাইলটিংয়ে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে কৃষক কার্ডের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইলের তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি অফিসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্যাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য যেমন কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নাম্বার, মোবাইল নাম্বারটি কৃষকের নিজস্ব ঘওউ দ্বারা রেজিস্টার্ড কি না, বসতবাড়ির জিপিএস লোকেশন, তাদের মোট জমির পরিমাণ, রবি মৌসুম, খরিফ-০১ ও খরিফ-২ মৌসুমে আবাদকৃত মোট জমির পরিমাণ, বীজের উৎস, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ব্যবস্থাপনা, মাছ চাষের জন্য জলাশয়ের সংখ্যা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ইত্যাদির সংখ্যা, কৃষিঋণ, কৃষিবীমা, শস্য গুদাম ইত্যাদির তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি কৃষকের কাছে প্রণোদনা প্রদান নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রকৃত কৃষকের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছানোর জন্য কৃষক কার্ডের গৃহীত প্রি-পাইলটিং কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর মার্চ/২০২৬ হতে আগস্ট/২০২৬ পর্যন্ত ১৮০ দিনের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। পাইলটিং প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ৪ বছরের (৪৮ মাস) মধ্যে সারাদেশে কৃষককার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কৃষক কার্ড তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করার সুযোগ আছে কি না। অবশ্যই এই সুযোগ আছে। এটি একটি ডায়নামিক ডাটাবেজ। কৃষকের জমির পরিমাণ পরিবর্তন হলে বা নতুন কোনো ফসল চাষ শুরু করলে অথবা যেকোনো তথ্য সংযোজন, পরিমার্জন বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা থাকবে।
কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষকের হাসি মানেই দেশের হাসি। কিন্তু এই হাসিই অনেক সময় চাপা পড়ে যায় দুঃখ আর বঞ্চনার আড়ালে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবমুখী ও কৃষকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিলেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং খাল খননের মাধ্যমে সারাবছর চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি করেন। তিনি সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহের ব্যবস্থা উন্নত করেন। এ ছাড়া কৃষিঋণ ও প্রণোদনা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা করেন। তার কৃষি নীতিমালা ছিল সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী এবং কৃষক কেন্দ্রিক। তার কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ বাংলাদেশের কৃষির ভিত করেছিল মজবুত। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার আমলে সার, বীজ ও বালাইনাশক সময়মতো কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হয়। সে সময় কৃষি ভর্তুকি ও কৃষিঋণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের সহজশর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়। কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন সহায়ক কর্মসূচি চালু করা হয়। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হয়। কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং চাষাবাদের নতুন পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়। কৃষির বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সেই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি প্রদান, কৃষিঋণ, প্রশিক্ষণ ও তথ্যসেবা পাওয়ার জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, বরেন্দ্র প্রকল্প পুনঃচালুকরণ, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষি জমি সুরক্ষা ও ক্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এগ্রোপ্রেনরশিপ স্টার্ট-আপ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উৎপাদন, প্রিসিশন এগ্রিকালচার ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সমবায় পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করা ইত্যাদি বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আছে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকের অধিকার মর্যাদা ও স্বপ্নের প্রতীক। বহুদিন ধরে অবহেলিত কৃষকদের জন্য একটি নতুন ভোরের সূচনা। এটি যেন কৃষকের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের সম্মাননা। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক পাবে তার স্বীকৃতি, পাবে সরকারের সরাসরি সহায়তা, পাবে ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবার দৃঢ় আশ্বাস, যা কৃষকের মুখে হাসি ফোটাবে, ঘামে ভেজা জীবনে আনবে স্বস্তির ছোঁয়া। আসুন আমরা সবাই মিলে কৃষকের পাশে দাঁড়াই। একটি সমৃদ্ধ, টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি।
লেখক : পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৭১১৩৮৪৩০৩, ই-মেইল : dirais@ais.gov.bd