উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলে ইঁদুরের ক্ষয়ক্ষতি : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
কৃষিবিদ ড. মোঃ শাহ আলম
অনিষ্টকারী মেরুদ-ী প্রাণীর মধ্যে ইঁদুর জাতীয় প্রাণী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিকারক প্রাণী যা ফসল বপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা ও সংগ্রহ পর্যন্ত ক্ষতি করে থাকে। এরা সাধারণত গর্তে বাস করে, তবে কোনো কোনো প্রজাতির ইঁদুর ঘরে বা গাছে বাসা তৈরি করে বাস করে। ইঁদুর স্তন্যপায়ী, সর্বভুক ও নিশাচর প্রাণী। এশিয়ায় ইঁদুর বছরে ১৮ কোটি মানুষের ১২ মাসের খাবার নষ্ট করে। বাংলাদেশে প্রায় ৫০-৫৪ লক্ষ লোকের এক বছরের খাবার ইঁদুর কারণে নষ্ট হয়। ইঁদুর দ্বারা বছরে ফসল ও অন্যান্য জিনিসপত্রের প্রায় ১.৫-২.০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। তাছাড়াও ইঁদুর প্লেগসহ প্রায় ৪০-৬০ প্রকার রোগ ছড়ায়। উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল, শাকসবজি ও ফলে প্রধানত দুই জাতের ইঁদুর বেশি ক্ষতি করে থাকে যাহা মাঠের কালো ইঁদুর ও গেছো ইঁদুর/ ঘরের ইঁদুর নামে পরিচিত। মাঠের কালো ইঁদুর মাঠ ও গুদামে উভয় স্থানেই গর্ত করে, ফসল কেটে, খেয়ে, গর্তে নিয়ে, গুদামে খেয়ে, পায়খানা প্রস্রাব ও পশম, মাটি ও শস্যের সাথে মিশিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। গেঁছো ইঁদুর মাটিতে গর্ত না করে ঘরের মাচায় বা গুপ্ত স্থানে গাছে বাসা তৈরি করে বংশ বৃদ্ধি করে। ফলমূল শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে।
সবজি ফসলে ইঁদুরের ক্ষতি
ইঁদুর সব রকম সবজিতে আক্রমণ করে থাকে তবে চারা গাছ ও পরিপক্ব অবস্থায় বেশি ক্ষতি করে থাকে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, ব্রোকলি এবং বেগুনের চারা ইঁদুরের দ্বারা ক্ষতি হয়। গ্রীষ্মকালীন সবজি বিশেষ করে কুমড়াজাতীয় সবজি ইঁদুর দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। বিশেষ করে লাউ মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বাঙি এগুলো ইঁদুর দ্বারা বেশি ক্ষতি হয়ে থাকে। মাঠের কালো ইঁদুর জমিতে গর্ত করে এবং গাছের লতা পাতা কেটে দেয় ও গর্তে নিয়ে জমা করে পরবর্তী পর্যায়ে যখন ফল ধরে তখন ফল খেয়ে নষ্ট করে ও ফল পচে যায়, এবং খাবার অনুপযোগী হয়ে পরে। গেছো ইঁদুর বা জধঃঃঁং ৎধঃঃঁং এদের বেশি ক্ষতি করে থাকে।
মিষ্টি মরিচের ও ভাসমান বেডে সবজির অনেক ক্ষতি করে থাকে। গেছো ইঁদুর পেপের চারা গাছেরও ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে।
আলু ও মিষ্টিআলুতে ইঁদুরের ক্ষতির ধরন
গোল আলুর ক্ষেতে গাছের অংগজ বৃদ্ধির সময় ইঁদুর প্রথমে মাঠে ২/১টি গর্ত করে মাটি উপরে উঠিয়ে ক্ষতি করে থাকে। ইঁদুর আলুর মাটির উপরের কা- ও ডগা কেটে দেয়, আলু ধরার সময় ইঁদুর গাছের শিকড় কেটে দেয়। তার পর আলু যখন বড় হয় তখন ইঁদুর মাটির নিচের আলু গর্ত করে খেয়েও ক্ষতি করে থাকে। সাধারণত ইঁদুর আলুর শতকরা ৫-৭ ভাগ ক্ষতি করে থাকে। মিষ্টিআলুর ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণ আলু থেকে বেশি দেখা যায়। মিষ্টি আলুর ক্ষেত লতায় ঢেকে যায় ফলে ইঁদুর প্রচুর সংখ্যক গর্ত করে ডগা ও লতা কেটে গর্তে নিয়ে যায়। ক্ষেতে গর্ত করে মাটির ঢিবি তৈরি করে এবং অর্ধ পরিপক্ব মিষ্টিআলু কামড়িয়ে খেয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। ফলে মিষ্টিআলুর ফলন কমে যায়। এভাবে ইঁদুর মাঠ ও গুদামে আলু ও মিষ্টিআলুতে ক্ষতি করে থাকে।
ফলে ইঁদুরের ক্ষতি
নারিকেল, কমলালেবু, আনারস, পেপে, আম ইত্যাদি ফলে ইঁদুর অনেক ক্ষতি করে। বিভিন্ন ফলের চারা গাছ এবং পরিপক্ব ফলে অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। পেপে ও নারিকেলের চারা ইঁদুর দ্বারা অনেকটা ক্ষতি সাধন হয়। চারা অবস্থায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০-৫০% পর্যন্ত হয়ে থাকে। আম, কমলালেবু, জাম্বুরা, মাল্টা ফলের শাস খেয়ে ফেলে যার ফলে খাবারের অনুপযোগী ও বাজারমূল্য কমে যায়।
ইঁদুর দ্বারা নারিকেলের ক্ষয় ক্ষতির নমুনা
সাধারণত গেছো ইঁদুর নারিকেলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে পরিপক্ব নারিকেলের চেয়ে কচি ডাবে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। এর ফলে ডাব ছিদ্র যুক্ত হয়ে যায় এবং গাছ থেকে মাটিতে ঝরে পড়ে। ফলে নারিকেল পরিপক্ব হতে পারে না এবং ফলন অনেক কমে যায়। বাংলাদেশে দক্ষিণ অঞ্চলে বরিশাল, খুলনায়, নারিকেলের বেশি ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত জরিপে দেখা গেছে গড়ে বছরে গাছ প্রতি ১৫-২০টি নারিকেল ইঁদুর দ্বারা ক্ষতি বা নষ্ট হয় যার আনুমানিক মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকা।
আনারসে ইঁদুর দ্বারা ক্ষতির ধরন
দুই ধরনের ইঁদুর আনারসের ক্ষতি করে থাকে। সাধারণত আনারসের নিচের দিকে যেখান থেকে পাকা আরম্ভ করে সেখান থেকে ২-৩ ব্যসার্ধের বাঁকানো গর্ত করে আনারসের ক্ষতি করে থাকে । ইঁদুর কোন কোনে সময় চিবিয়ে আনারসের ক্ষতি করে থাকে। ফল বাজারে এর দাম কমে যায় এবং এই আক্রমণের ফলে আনারসের ছত্রাক রোগ হয়ে পচে নষ্ট হয়। এভাবে আনারসে প্রায় শতকরা ৬-৯ ভাগ ক্ষতি করে থাকে।
ইঁদুর দমনে বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
ক্ষতিকর স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে ইঁদুর মানুষের প্রধান শক্র। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহুদেশে এদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণীত হয়েছে। বিশ্বে প্রতি বছর ইঁদুর যে পরিমাণ খাবার নষ্ট করে, সেই খাবার অনায়াসেই ২৫-৩০টি দরিদ্র দেশের মানুষ এক বছর বাঁচতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ইঁদুরের কারণে গড়ে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকে। দ্রুত ও অধিক প্রজনন সক্ষমতা (ঢ়ড়ষুবংঃৎড়ঁং) থাকায় এরা প্রতিবারে ৬-১০টি বাচ্চা এবং বছরে ৫-৬ বার প্রসব করতে পারে। স্ত্রী ইঁদুর প্রতি ২১ দিনে নতুন করে সন্তানের জন্ম দেয়। জন্মানোর ১০ দিন পরে ইঁদুরের দাঁত গজায় এবং ৩ মাস বয়সে গর্ভধারণ করতে সক্ষম। একজোড়া ইঁদুর হতে বছরে চক্রবৃদ্ধি হারে গড়ে প্রায় ৮০০-৩০০০টি পর্যন্ত ইঁদুর জন্মলাভ করতে পারে। ইঁদুর সাধারণত গর্তে বাস করে, তবে কোন কোন প্রজাতি ঘরে বা গাছেও বাসা তৈরি করতে পারদর্শী। যে কোন স্থানে একটিমাত্র ইঁদুরের উপস্থিতিও এতটাই ক্ষতিকর যে, এর অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রান্তসীমা (ঊওখ) হচ্ছে শূন্য। একটি ইঁদুর দেখা মাত্রই দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইঁদুর দমনের প্রযুক্তি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হলে দমন প্রযুক্তি ও বালাইয়ের জীবনচক্র ও পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ১২ প্রজাতির ক্ষতিকারক ইঁদুরের প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারটি প্রজাতি ফসল ও সম্পদের বেশি ক্ষতিকারক। যেমন- মাঠের বড় কালো ইঁদুর; মাঠের কালো ইঁদুর; গেছো ইঁদুর এবং সলই বা বাতি ইঁদুর। এদের মধ্যে মাঠের বড় কালো ইঁদুরের সামদ্রিক অঞ্চলে ও নিচু ভূমি হাওর বাঁওড় এলাকায় এদের উপস্থিতি বেশি রয়েছে। মাঠের কালো ইঁদুর বাংলাদেশে কৃষি ফসল, গুদাম, গ্রাম ও শহর এলাকাসহ সর্বত্র একটি প্রধান ক্ষতিকারক বালাই। গেছো ইঁদুর ঘরের সিলিং এবং নারিকেলসহ অন্যান্য ফলের গাছে বাস করে। গেছো ইঁদুর খাদ্যগুদামে ও সিলিংয়ে বেশি দেখা যায়। এরা গর্তে থাকে না। গ্রামের আবাস ভূমির অব্যবহিত দূরে গাছের ঝাড়ে এবং উঁচু ভূমিতে পাওয়া যায়। এরা এক গাছ হতে অন্য গাছে সহজেই যেতে পারে। সলই ইঁদুর আকারে ছোট হলেও খাদ্যশস্য ও ঘরের জিনিসপত্র এবং দানাদার শস্যের প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে। ইঁদুর দমনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কম রাখা। মাঠ ফসলে সঠিকভাবে দমন প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য ইঁদুরের প্রজননের সময় জানা প্রয়োজন। প্রজনন শুরু হওয়ার আগে ইঁদুর দমন করা হলে ইঁদুরের সংখ্যা কম রাখা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্য থেকে জানা গেছে যে, ইঁদুরের প্রজনন নির্ভর করে শস্যের নিবিড়তার ওপর।
ইঁদুরে কাটা দানাশস্য বা জিনিসপত্র, মেঝেতে ইঁদুরের পায়ের ছাপ, খোবলানো মেঝের ঝুরঝুরে মাটি, পড়ে থাকা ইঁদুরের মল, কাঠের তাকে বা দেয়ালে তেলতেলে দাগ, মাঠে ইঁদুরের রাস্তা, সতেজ মাটি তোলা গর্ত প্রভৃতি দেখে ইঁদুরের আক্রমণ ও উপস্থিতি বুঝা যায়।
ইঁদুর দমনের সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে করতে হবে
মাঠে ও গুদামে সবসময় পরিদর্শন ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইঁদুরের ক্ষতি ও উপস্থিতি দেখামাত্র দমন ব্যবস্থা নেওয়া।
ফাঁদ ব্যবহার করার সময় ইঁদুরের প্রজাতি দেখে ফাঁদ নির্বাাচন করতে হবে, তা না হলে ফাঁদে ইঁদুর পরবে না।
া ফাঁদে সব সময় ইঁদুরের পছন্দনীয় ও সুস্বাদু খাবার ব্যবহার করতে হবে যেমন- শুঁটকীমাছ, নারিকেল, আলু, পাউরুটি ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে এবং প্রতিদিন নতুন খাবার ফাঁদে দিতে হবে।
া ফাঁদ খুব সেনসেটিভ ভাবে পাততে হবে যাতে খাবার স্পর্শ করার সাথে সাথে ফাঁদ পরে যায়, তাহলে ফাঁদের কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে।
া ফাঁদ ইঁদুর চলাচলের রাস্তায়, দেয়াল ঘেসে ও সতেজ গর্তের কাছাকাছি পাততে হবে।
া একাধারে অনেকদিন একই জায়গায় ফাঁদ না পাতাই ভালো।
া বিভিন্ন ফল গাছে যেমন নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি গাছে ধাতবপাত ব্যবহার একটি কার্যকর পদ্ধতি, ধাতবপাত ব্যবহারের পূর্বে গাছে ইঁদুর মুক্ত করতে হবে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ছয় ফুট রাখতে হবে যাতে ইঁদুর এক গাছ থেকে অন্য গাছে যেতে না পারে।
আমাদের দেশে ইঁদুর দমনে সাধারণত বিষ বেশি ব্যবহার করা হয়। বিষ নির্বাচন সাবধানতার সাথে করতে হবে। আমাদের দেশে দুই ধরনের বিষ পাওয়া যায় তীব্র বিষ, দীর্ঘস্থায়ী বিষ।
তীব্র বিষ : এই বিষ খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ইঁদুর মারা যায়, এই জন্য অনেকে এটি পছন্দ করে, বাজারে জিংক ফসফাইড নামে পাওয়া যায়। এই বিষের সমস্যা হলো এক দুই দিন খাওয়ার পর এটি আর খেতে চায় না, একে বিষটোপ লাজুকতা বলে। এই বিষ ব্যবহারের পূর্বে দুই থেকে তিন দিন সাধারণ খাবার খাইয়ে তারপর বিষ ব্যবহার করলে কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে। তবে কোনো ক্রমেই পর পর দু-তিন রাত বিষটোপ ব্যবহারের পর ঐ স্থানে এক মাস আর এ বিষ ব্যবহার না করাই ভাল।
দীর্ঘস্থায়ী বিষ : এই বিষ খাওয়ার ৩-৭ দিনের মধ্যে মারা যায় তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি বিষ বলা হয়। এগুলো রক্ত বা এন্টিকুয়াগুলেন্ট নামে পরিচিতি যেমন : ওয়ারফারিন। এ ধরনের বিষ খেলে সহসা কোনো আক্রান্ত লক্ষণ ধরা পড়ে না বিধায় পরিবারের অন্যান্য ইঁদুররাও এ ধরনের বিষটোপ খেতে কোনো কুণ্ঠা/দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। ফলে একসাথে অনেক ইঁদুর মারা যাবার সম্ভাবনা থাকে, তবে এই বিষ একটু বেশি পরিমাণ খাওয়াতে হবে।
বিষ ব্যবহারের প্রয়োগ পদ্ধতি : যে সব ঘরে ইঁদুর আছে বলে মনে করেন অথবা নতুন মাটি তোলা গর্তের মুখে, ইঁদুর চলাচলের রাস্তার উপর বিষটোপ রেখে দিতে হবে। ছোট ঘর হলে ৪-৫ স্থানে এবং বড় ঘর হলে ১৫/২০ স্থানে বিষ রাখুন। সন্ধ্যার সময় বিষটোপ দিন এবং পরদিন সকালে সেগুলো আবার তুলে রাখুন।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে জমির উপরে বিষটোপ না দিয়ে গর্তের ভেতর প্রয়োগ করলে সফলতা অনেক বেশি পাওয়া যায়। ৩-৪ গ্রাম বিষটোপ একটি কাগজ দিয়ে পুঁটলি বেঁধে সতেজ গর্তের মুখ পরিষ্কার করে গর্তের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে। তবে সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে কাগজটি যেন কখনো মাটির নিচে চাপা না পড়ে। এরপর গর্তের মুখ হালকাভাবে মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। এই বিষ মাচায় বা ফল গাছে বাঁশের বা প্লাস্টিকের তৈরি বেইটস্টেশনের পাইপের ভেতর প্রয়োগ করতে হবে।
নিজের ফসলের মাঠ বা ঘরবাড়ি ছাড়া দলগতভাবে কৃষকগণ ইঁদুর মারতে চায় না অথবা অভ্যস্ত নয়। ইঁদুর দ্বারা ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত ইঁদুর দমন করে না। কিন্তু পোকামাকড় দমনের জন্য গুরুত্ব বেশি দেয় এবং প্রতিষেধক হিসেবে বালাইনাশক প্রয়োগ করে থাকে। সম্মিলিতভাবে ইঁদুর দমন করলে ইঁদুর দমন সফলতা অনেক বেশি।
ইঁদুরের দ্বারা ফসল ও সম্পদ রক্ষা করতে হলে প্রতিনিয়ত ইঁদুরের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ বা মনিটরিং করে ইঁদুরের দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সবাই মিলে ইঁদুর দমন ব্যবস্থা অধিক কার্যকর হয়। সারা বছর ধরে ইঁদুর দমন কার্যক্রম চলমান রাখা প্রয়োজন। সবাই মিলে ইঁদুর প্রতিরোধ করি তবেই ফসল ও সম্পদ রক্ষা পাবে।
লেখক : প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, অনিষ্টকারী মেরুদ-ী প্রাণী বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর। মোবাইল : ০১৯১১৮৫৭৫৮৬।