কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:৪৬ AM

আমের ব্যাকটেরিয়াজনিত কালো দাগ রোগ

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০২-২০২৬

আমের ব্যাকটেরিয়াজনিত কালো দাগ রোগ
১কৃষিবিদ ড. মো. আবু সায়েম, ২ড. মো. মুজাহিদ-ই-রহমান, ৩ড. মো. হারুন-অর-রশিদ
আমের ব্যাকটেরিয়াজনিত কালো দাগ রোগ আমের একটি মারাত্মক রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। বর্তমানে এ রোগটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। গুরুতর এ রোগটির কারণে সংবেদনশীল জাতের ক্ষেত্রে প্রায় শতকরা ৫০-৮০ ভাগ ফলন হ্রাস পেতে পারে। এ রোগটি পাতা, ফল, ফলের বোটা এবং ডালপালাসহ গাছের বিভিন্ন অংশে আক্রমণ করতে পারে। তা ছাড়া, ফলের উপর রোগের তীব্রতা (কয়েকটি ক্ষত একত্রিত হলে) উল্লেখযোগ্যভাবে ফলের গুণগতমান এবং বাজারে বিক্রয় অনুপযোগী করতে পারে।
রোগের লক্ষন
পাতার উপরে প্রাথমিক অবস্থায় কালো ও পানি ভেজা ছোট ক্ষতের সৃষ্টি করে। পাতার ক্ষতগুলো উত্থিত কালো কৌণিক দাগ হিসেবে দেখা যায়। কয়েক মাস সংক্রমণের পরে পাতার দাগগুলো শুকিয়ে যায় এবং হালকা বাদামি থেকে ছাই-ধূসর রঙের হয়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে পাতা ঝরে পড়তে থাকে। ফলে লক্ষণগুলো শুরু হয় লেন্টিসেলের চারপাশে। রোগ বেড়ে উঠার সাথে সাথে ক্ষতগুলো কালো হয়ে যায়, তৈলাক্ত প্রান্ত তৈরি করে। প্রাথমিক অবস্থায় পানি ভেজা হালকা ধরনের দাগ আক্রান্ত ফলের উপরে দেখা যায়। পরে এই দাগগুলো থেকে গাঢ় বর্ণের তারাকৃতি উঁচু দাগ হয় যা পরে ফেটে গিয়ে তা থেকে সংক্রমিত আঠা চুঁইয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে এবং ফাটল সৃষ্টি করে। সংক্রমণের প্রথম অবস্থায় ফলের গুণমান হ্রাস পায় এবং সংক্রমণের তীব্র অবস্থায় ফল গাছ থেকে ঝরে পড়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে ফলে শুকনা ক্ষত বা অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হলে ফলের মধ্যে দাগ ঢেবে যায়, কিন্তু এ রোগের ক্ষেত্রে দাগ উত্থিত বা হালকা উঁচু হবে। গাছের শাখাপ্রশাখা ও কা-ের গায়ে সৃষ্ট ক্ষত কালো হয় ও চিড় ধরতে পারে, যার ফলে গাছ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কারণ
ব্যাকটেরিয়া এই দাগ রোগ সৃষ্টি করে। জীবন্ত কোষের মধ্যে এই জীবাণু প্রায় ৮ মাস পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া ক্ষত এবং প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ছিদ্রমুখের মাধ্যমে গাছের দেহে প্রবেশ করে আক্রমণ করে। জীবাণু এক গাছ থেকে অন্য গাছে বা এক চাষের জমি থেকে অন্য চাষের জমিতে জোরালো বাতাস তাড়িত বৃষ্টির পানি অথবা গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলার সময়ে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। আবার অন্যদিকে, সংক্রমিত উদ্ভিদ দেহাংশ বা ফলকে স্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ বিস্তার লাভ করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত দাগ রোগের সংক্রমণের জন্য ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলো আদর্শ। উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা সংক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা-
সুস্থ্য রোগমুক্ত চারাগাছ ও কলম ব্যবহার করুন; চাষের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও উপকরণ জীবাণুমুক্ত করুন; সম্ভব হলে রোগ প্রতিরোধী জাতের চারা রোপণ করুন; দুটি গাছের মধ্যে যাতে বায়ু চলাচল ভালো হয় সেদিকে নজর দিন; নিয়মিতভাবে রোগাক্রান্ত ডালপালা, শাখা-প্রশাখা ও ফল অপসারণ করে পোড়াতে হবে; চাষের মাঠে কাজ করার সময় যাতে গাছের গায়ে কোন আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন; ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের হাত থেকে গাছগুলোকে রক্ষা করার জন্য চারাগাছগুলোকে ঘিরে অন্য গাছের সারি লাগান; নিরাপদ দূরে রোগাক্রান্ত ফল ও উদ্ভিদের অংশ নষ্ট করে ফেলুন; বাগানের চারদিকে ঘিরে গাছের সারি বা ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের প্রজাতি রোগের প্রবণতা হ্রাস করতে সাহায্য করে।
রাসায়নিক দমন ব্যবস্থাপনা-
এ রোগকে প্রতিহত করতে কপার গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- কপার ব্লু ৫০ ডব্লিউ জি বা ব্লিটক্স ৫০ ডব্লিউ পি এক লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে। রোগ দেখা দিলে ব্যাকটাফ ৫০ এসপি বা কিমিয়া ২১.৫ ডব্লিউপি এক লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
সর্বোপরি, যেকোন রোগের ক্ষেত্রে রোগ সংক্রমণের পর রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই সময়মতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।

লেখক : ১উপপরিচালক, হর্টিকালচার সেন্টার, বুড়িরহাট, রংপুর ২প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুর ৩উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুর, মোবাইল : ০১৭০০৭১৫৯৩০,

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন