কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৩ এ ০৮:৪৪ PM

আধুনিক কৃষিতে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: অগ্রহায়ণ সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১১-২০২৩

আধুনিক কৃষিতে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার
মোছাঃ আইরিন পারভীন
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান খাত হিসাবে বিবেচিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার নিমিত্তে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কৃষি সংক্রান্ত তথ্যের সময়মতো প্রাপ্যতা অত্যাবশ্যক। ফসল উৎপাদন পরিসংখ্যানের নিয়মিত আপডেট তৈরি এবং টেকসই কৃষি অর্জনের লক্ষ্যে ইনপুট প্রদানের জন্য জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জমিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কর্তৃক বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ বা কৃষিসংক্রান্ত জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মূল্যবান তথ্য প্রদান করে আধুনিক কৃষি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জিআইএস কোনো স্থানের অবস্থানগত তথ্যের সাথে সেই স্থানের পরিমাণগত এবং গুণগত বিভিন্ন তথ্যকে একত্র করে মানচিত্র এবং চার্টের মাধ্যমে তথ্য প্রদর্শন, বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন তৈরি করতে সহায়তা করে। জিআইএস তথ্য/ডেটা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, নির্ভুল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব। কোনো একটি নির্দিষ্ট ফসল উৎপাদনের জন্য সঠিক স্থান নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্যকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে জিআইএস সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
রিমোট সেন্সিং হল কোন বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে সেই বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার একটি প্রক্রিয়া। বর্তমানে ‘রিমোট সেন্সিং’ শব্দটি সাধারণত স্যাটেলাইট/বিমান/ ড্রোনভিত্তিক সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহারকে বোঝায় যা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠে, বায়ুম-ল এবং মহাসাগরসহ পৃথিবীর বস্তুগুলোকে সনাক্ত এবং শ্রেণিবদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। রিমোট সেন্সিং দুই ভাগে বিভক্ত, ধপঃরাব এবং ঢ়ধংংরাব । ‘অপঃরাব’ রিমোট সেন্সিং (অর্থাৎ, যখন একটি স্যাটেলাইট/ বিমান/ড্রোন দ্বারা একটি সংকেত নির্গত হয়ে বস্তুর উপর পড়ে এবং বস্তু থেকে প্রেরিত প্রতিফলন সেন্সর দ্বারা শনাক্ত করা হয়) এবং চধংংরাব রিমোট সেন্সিং (অর্থাৎ, যখন সূর্য থেকে নির্গত রশ্মি বস্তুর উপর পড়ে এবং বস্তু থেকে প্রেরিত প্রতিফলন সেন্সর দ্বারা শনাক্ত করা হয়)।
রিমোট সেন্সিং থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলো জিআইএস এ সন্নিবেশনের মাধ্যমে এটি ফসল এবং কৃষি কৌশল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। কৃষিতে জিআইএস ও রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির কিছু উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ রয়েছে, যেমন-
প্রিসিশন কৃষি : জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রিসিশন কৃষি বাস্তবায়নে সহায়তা করে। মাটির ধরন, আর্দ্রতার মাত্রা, তাপমাত্রা এবং ফসলের স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহ করে কখন এবং কোথায় রোপণ করতে হবে, সেচ দিতে হবে এবং সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে সে সম্পর্কে কৃষকরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি ফসল উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় নির্ধারিত পরিমাণে পুষ্টি উপাদান এবং পানি প্রয়োগের মাধ্যমে পুষ্টি উপাদান ও পানি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, খরাপ্রবণ এলাকায় রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রিপ সেচ প্রদান করা হয়, যেমন- গাছ ও বায়ু তাপমাত্রার পার্থক্য ব্যবহার করে পানির ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এই ড্রিপ সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটি ইনপুট (পানি) খরচ হ্রাস এবং পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করে। মাল্টিস্পেকট্রাল এবং হাইপারস্পেকট্রাল সেন্সরযুক্ত রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট এবং ড্রোন কৃষি জমি থেকে সময়মতো উচ্চ-রেজুলেশনের ইমেজ (ছবি) প্রদান করতে পারে। এই ইমেজগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগ, কীটপতঙ্গ এবং পুষ্টির ঘাটতি শনাক্ত করতে এবং শস্য ব্যবস্থাপনা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ যেমন মাটির আর্দ্রতা, রোপণের তারিখ, বাতাসের তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য এবং মাটির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করতে সহায়তা করে থাকে। ফসলের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য ঘড়ৎসধষরুবফ উরভভবৎবহপব ঠবমবঃধঃরড়হ রহফবী (ঘউঠও) বিশ^ব্যাপী বহুল ব্যবহৃত একটি ইনডেক্স।  
ঘউঠও এর মান-১ থেকে +১ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঘউঠও এর মান-১ এর কাছাকাছি হলে সেটি পানি, শূন্যের (০) কাছাকাছি হলে সেটি পতিত জায়গা এবং ০.১-০.৫ হলে ফাঁকা ফাঁকা সবুজগাছযুক্ত এলাকা এবং ০.৬ ও তার ঊর্ধ্বে হলে সেটি ঘন সবুজ এলাকা বা গাছের বেশি ভাল স্বাস্থ্য বোঝায়।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা : জিআইএস ভূমি ব্যবহার, মাটির ধরন এবং টপোগ্র্যাফি বিষয়ক ম্যাপ তৈরি এবং তথ্য বিশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয়। এই তথ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঠিক পরিমাণে পানি এবং সারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। ফসলের গাছের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্যNormalized Difference Vegetation index (NDVI) বিশ^ব্যাপী বহুল ব্যবহৃত একটি ইনডেক্স করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। সঠিক পরিমাণে সেচ এবং সার পরিকল্পনা তৈরির মাধ্যমে ফলন উন্নত করা এবং অপচয় কমানো সম্ভব। ফসলের মাঠে রোগ ও পোকামাকড় আক্রান্ত এলাকা সনাক্তকরণে রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাটির আর্দ্রতা নির্ণয় : রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্য ব্যতীত মাটির আর্দ্রতা নির্ণয় করা খুব কঠিন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটিতে কি পরিমাণ আর্দ্রতা আছে তা জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী কোন ফসল কখন আবাদ করা যাবে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়।
খরা মনিটরিং : রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে আবহাওয়ার ধরণ নির্ণয় করা যায়। এর সাহায্যে কোন একটি এলাকার বৃষ্টিপাতের ধরন অনুমান করা যায় এবং ভবিষ্যতে কখন বৃষ্টিপাত হবে সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় যা খরা উত্তরণে কৃষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে Land surface Temperature (LST),  NDVI, Normalized Difference Water Index, Normalized Difference Moisture Index (NDMI) and Soil Adjusted Vegetation Index (SAVI) ব্যবহার করে সহজেই খরা পরিমাপ করা যায়। ঘউডও এবং ঘউগও এই সূচকগুলোর পানির অভাবযুক্ত স্থানে কম মান এবং পানিযুক্ত স্থানে/ আর্দ্রতাযুক্ত স্থানে বেশি মান পাওয়া যায়।
আগাছা ব্যবস্থাপনা : কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে আগাছা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা একটি সময় এবং শ্রমসাপেক্ষ বিষয়। নির্দিষ্ট স্থানে আগাছা ব্যবস্থাপনার জন্য আগাছা শনাক্তকরণে ইমেজভিত্তিক রিমোট সেন্সিং-এর ব্যবহার করা হয়। ফসল এবং আগাছা থেকে নির্গত স্পেকট্রাল প্রতিফলনের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন স্পেকট্রাল সিগনেচার তৈরি হয়, যার মাধ্যমে গাছকে আগাছা থেকে সহজেই পৃথকভাবে সনাক্ত করা এবং ক্ষেতে আগাছার অবস্থান ম্যাপ তৈরি করা হয় যা আগাছা দমন পরিকল্পনা প্রণয়নে বিশেষ অবদান রাখে।
কৃষি আবহাওয়া : জিআইএস এবং রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত সময়ের (রিয়েল-টাইম) আবহাওয়া এবং জলবায়ু তথ্যের সন্নিবেশ ঘটানো হয়। এটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং জলবায়ু তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল রোপণ, ফসল কাটা এবং সেচ সংক্রান্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ফসল মনিটরিং এবং আবাদী জমির পরিমাণ নির্ণয় : জিআইএস ও রিমোট সেনসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই মাঠ ফসল মনিটরিং এবং প্রধান প্রধান ফসলের আবাদী জমির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় যা সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ফলন পূর্বাভাস : ফসলের ফলন প্রাক্কলন করতে রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ফসল সূচকসমূহ (ঘঠউও, ঊঠও, ঝঅঠও) এবং বিগত বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে, কৃষক এবং নীতিনির্ধারকরা সঠিকভাবে ফসলের ফলনের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন। এই তথ্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা : কৃষি জমি ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনার জন্য জিআইএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মাটির গুণাগুণ, জলবায়ু এবং টপোগ্র্যাফির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে বিভিন্ন ফসলের জন্য উপযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এটি পতিত এলাকা বা নতুন উন্নত চর এলাকায় কৃষি জমি সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এছাড়াও ফসলের শ্রেণীবিভাগ এবং ফসলের এলাকা নির্ধারণ করতে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন এলাকার জমি ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে জানা যায় অর্থাৎ কি পরিমাণ জমি ফসলের আওতায়, কি পরিমাণ জায়গায় বন/পানি/পতিত/চর/দালানকোঠা আছে ইত্যাদি জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা : জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বন্যা এবং খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়। এটির মাধ্যমে কোন  প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংঘটিত প্রকৃত ক্ষতি মূল্যায়ন করা যেতে পারে এবং সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।
কৃষি পণ্যের বাজার বিশ্লেষণ : জিআইএস ব্যবহার করে বাজারের প্রবণতা এবং কৃষি পণ্যের চাহিদার ধরন বিশ্লেষণ করা যায়। বাজারের চাহিদা এবং দামের পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে কি কি ফসল ফলানো হবে সে সম্পর্কে কৃষকরা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
টেকসই কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ : জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে, কৃষি পরিবেশগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা এই জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি জানতে সহায়তা করে।
সংক্ষেপে, সারা বিশ্বে জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি আধুনিক কৃষিতে অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কৃষক এবং কৃষি স্টেকহোল্ডারদের তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সম্পদ সংরক্ষণ এবং ঝুঁকি হ্রাস করতে সক্ষম করে, যা কৃষি খাতকে টেকসই এবং লাভজনক কৃষিতে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

লেখক : উপজেলা কৃষি অফিসার (সংযুক্তি: পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তাবায়ন ও আইসিটি উইং), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মোবাইল : ০১৭২৭২৪৯৪৪৮, ই-মেইল : irin.dae 28@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন