কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৩:০৫ PM

সাতকরা

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: ফল প্রকাশের তারিখ: ২৮-০২-২০২৬

সাতকরা

সাতকরা (Citrus macroptera) একটি লেবু জাতীয় অপ্রধান ফলঅপ্রধান হলেও সিলেট অঞ্চলে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়কমলালেবু ও লেবুর মত এর রস বা শাঁস খাওয়া হয় নাফলের খোসা বিভিন্ন ধরনের রান্নায় তরকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়খোসার সুগন্ধ রান্নার মান বৃদ্ধি করে থাকেখোসা দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের আচার তৈরি হয়সাতকরা ইংল্যান্ডে রপ্তানি হয়প্রবাসী সিলেটবাসীরাই এ ফলের সবচেয়ে বড় ভোক্তা

সাতকরার জাত

বারি সাতকরা-

স্থানীয় জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৪ সালে বারি সাতকরা-জাতটি উদ্ভাবন করা হয়এটি উচ্চ ফলনশীল নিয়মিত ফলদানকারী জাতগাছ মাঝারী, মধ্যম ছড়ানো ও মধ্যম ঝোপালোচৈত্র-বৈশাখ মাসে গাছে ফুল আসে এবং শীতের প্রারম্ভে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) ফল পাকতে শুরু করেফল মধ্যম আকারের (৩৩০ গ্রাম) কমলালেবুর মত চ্যাপ্টাপাকা ফল হালকা হলুদ বর্ণেরবৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাসমূহে চাষ উপযোগীহেক্টরপ্রতি ফলন ১০ টন

জলবায়ু ও মাটি: যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয় এমন আর্দ্র ও উঁচু পাহাড়ী অঞ্চলে সাতকরা ভাল জন্মেউর্বর, সুনিষ্কাশিত এবং মৃদু অম্লভাবাপন্ন বেলে দোআঁশ মাটি সাতকরা চাষের জন্য উত্তমএঁটেল মাটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কম হওয়ায় সাতকরা চাষের অনুপযোগীসাতকরা উৎপাদনের জন্য বার্ষিক ১৫০০-২৫০০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত এবং ২৫-৩০ ডিগ্রী সে.গড় তাপমাত্রা উপযোগীসাতকরা চাষের জন্য মাটির অম্লত্ব মান ৫.-.

বংশ বিস্তার: বীজ এবং অঙ্গজ দুই ভাবেই সাতকার বংশ বিস্তার হয়অঙ্গজ উপায়ে জোড় কলম (ভিনিয়ার ও ক্লেফট গ্রাফটিং) ও কুঁড়ি সংযোজন (টি-বাডিং) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়

উৎপাদন প্রযুক্তি

জমি নির্বাচন ও তৈরি: সাতকরার জন্য উর্বর, গভীর, সুনিষ্কাশিত এবং মৃদু অম্লভাবাপন্ন বেলে দোআঁশ মাটি সম্বলিত উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবেতৈরির পূর্বে জমি হতে আগাছা ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় গাছপালা অপসারণ করতে হবেসমতল ভূমিতে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে কোদালের সাহায্যে জমি তৈরি করতে হবেপার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে ধাপ বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারের বেড তৈরি করে সাতকরার চারা লাগাতে হবে

গর্ত তৈরি, চারা/কলম রোপণ ও পরিচর্যা: রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে উভয় দিকে ৫-৬ মিটার দূরত্বে ৭৫×৭৫×৭৫ সে.মি. মাপের গর্ত করতে হবেপ্রতি গর্তে ১৫ কেজি কম্পোস্ট বা পচা গোবর, -৫ কেজি ছাই, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি এবং ২৫০ গ্রাম চুন গর্তের উপরের মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে পানি দিতে হবেগর্ত ভর্তি করার ১০-১৫ দিন পর গর্তের মাঝখানে ১ বছর বয়সের নির্বাচিত চারাটি সোজাভাবে লাগিয়ে গোড়ার মাটি সামান্য চেপে দিতে হয় এবং লাগানোর পরপরই খুঁটি ও পানি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হয়বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এবং ভাদ্র-আশ্বিন মাস সাতকরার চারা/ কলম রোপণের উপযুক্ত সময়

ডাল ছাঁটাই: নতুন রোপণকৃত গাছে আদিজোড় হতে উৎপাদিত কুঁশি ভেঙ্গে দিতে হবেগাছটির অবকাঠামো মজবুত করার লক্ষ্যে গোড়া থেকে ১ মিটার উঁচু পর্যন্ত কোন ডালপালা রাখা চলবে নাএক থেকে দেড় মিটার উপরে বিভিন্ন দিকে ছড়ানো ৪-৫টি শাখা রাখতে হবে যাতে গাছটির সুন্দর একটি কাঠামো তৈরি হয়প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর মরা, পোকা-মাকড় ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করতে হয়ডাল ছাঁটাইয়ের পর কর্তিত স্থানে অবশ্যই বর্দোপেস্টের প্রলেপ দিতে হবে

সার প্রয়োগ: গাছের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য সময়মতো, সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ করতে হবেসাতকরার জন্য প্রতি বছর পচা গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবেগাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সারের পরিমাণ বাড়াতে হবে

বয়সভেদে গাছপ্রতি সারের পরিমাণ নিম্নে দেয়া হলো:

সারের নাম

গাছের বয়স

-২ বছর

-৪ বছর

-১০ বছর

১০ বছরের উর্ধ্বে

গোবর (কেজি)

-১০

১০-১৫

২০-২৫

২৫-৩০

ইউরিয়া (গ্রাম)

১৭৫-২২৫

২৭০-৩০০

৫০০-৬০০

৬০০-৭০০

টিএসপি (গ্রাম)

৮০-৯০

১৪০-১৭০

৪০০-৪৫০

৪৫০-৫০০

এমওপি (গ্রাম)

১৪০-১৬০

৪০০-৫০০

৫০০-৫৫০

৬০০-৬৮০

সার প্রয়োগ পদ্ধতি: সার একেবারে গাছের গোড়ায় না দিয়ে যত দূর পর্যন্ত ডালপালা বিস্তার লাভ করে সে এলাকায় মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হয়উল্লিখিত সার ৩ কিস্তিতে ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি), মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-জ্যৈষ্ঠ (মে) ও মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য-কার্তিক (অক্টেবর) মাসে প্রয়োগ করতে হবে

আগাছা দমন: গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য জমিকে আগাছামুক্ত রাখা দরকার, বর্ষার শুরুতে ও বর্ষার শেষে হালকাভাবে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে বা চাষ দিয়ে আগাছা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে

সেচ ও নিষ্কাশন: বয়স্ক গাছে খরা মৌসুমে ২-৩টি সেচ দিলে সাতকরার ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি পায়গাছের গোড়ায় পানি জমলে মাটি বাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়তাই অতিরিক্ত পানি নালার মাধ্যমে নিষ্কাশন করে দিতে হবে

ফল সংগ্রহ: পরিপক্ক হলে সাতকরা হালকা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং এর খোসা তুলনামূলকভাবে মসৃণ হয়ে আসেগাছ হতে ফল সংগ্রহ করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে ফলগুলোতে যাতে আঘাত না লাগে

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, সিলেট

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন