কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৫:৫০ PM

মাসকলাই

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: ডাল ফসল প্রকাশের তারিখ: ২৮-০২-২০২৬

মাসকলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাল ফসল। বাংলাদেশে প্রচলিত ডাল ফসলের মাঝে মাসকলাই বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে প্রচলিত ডাল ফসলের মধ্যে মাসকলাইয়ের স্থান চতুর্থ। দেশে মোট উৎপাদিত ডালের ১০-১১% আসে মাসকলাই থেকে। দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসকলাইয়ের চাষ বেশি হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাসকলাইতে আছে ৩৪১ মিগ্রা. ক্যালরি, ৯৮৩ মিগ্রা. পটাশিয়াম, প্রোটিন ২৫ গ্রাম সোডিয়াম ৩৮ মিগ্রা., ক্যালসিয়াম ১৩৮ মিগ্রা., আয়রণ ৭.৫৭ মিগ্রা. এটি হজমশক্তি বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে ও শরীরের নানাবিধ প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। দেশে মাসকলাইয়ের মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৭৪.৮ হাজার হেক্টর এবং উৎপাদন প্রায় ৮৬.৮ হাজার মেট্রিক টন।

মাসকলাইয়ের জাত

বারি মাস-১

গাছের উচ্চতা ৩২-৩৬ সেমি.। এ জাতের বীজের রং কালচে বাদামি। বীজের আকার বড়। হাজার বীজের ওজন ৩৮-৪৩ গ্রাম। জাতটি দিবস নিরপেক্ষ হওয়ার ফলে খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে চাষ করা যায়। ডাল রান্না হওয়ার সময় কাল ৩০-৩৫ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২১-২৩%। জীবনকাল ৬৫-৭০দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১৪০০-১৫০০ কেজি। এ জাত হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।

বারি মাস-২ (শরৎ)

গাছের আকার মধ্যম। গাছের উচ্চতা ৩৩-৩৫ সেমি.। স্থানীয় জাতের মতো লতানো হয় না। পত্রফলক মাঝারি সরু। পাকা ফলের রং কালচে, ফল খাঁড়া, ফলের গায়ে শুং আছে। বীজের রং কালচে। বীজের আকার স্থানীয় জাতের চেয়ে বেশ বড়। হাজার বীজের ওজন ৩২-৩৬ গ্রাম। রান্না হওয়ার সময়কাল ৩০-৩৫ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২১-২৪%। জীবনকাল ৬৫-৭০ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১৪০০-১৬০০ কেজি। জাতটি দিবস নিরপেক্ষ এবং হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগসহনশীল।

বারি মাস-৩ (হেমন্ত)

গাছের আকার মধ্যম। গাছের উচ্চতা ৩৫-৩৮ সেমি.। স্থানীয় জাতের মতো লতানো হয় না। ফল পাকলে কালো হয়। শুঁটিতে ঘন শুং আছে। বীজের রং কালচে। বীজের আকার স্থানীয় জাতের চেয়ে বড়। হাজার বীজের ওজন ৪০-৪৫ গ্রাম। রান্না হওয়ার সময়কাল ৩০-৩৭ মিনিট। আমিষের পরিমাণ ২১-২৪%। জীবনকাল ৬৫-৭০ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ১৫০০-১৬০০ কেজি। এ জাত হলদে মোজাইক ভাইরাস রোগসহনশীল।

বারি মাস-৪ জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

গাছ খাটো আকৃতির (৪২-৪৬ সেমি.), পাতা সবুজ রঙের ও কাণ্ড খয়েরি পিগমেন্টেশনযুক্ত, বীজ কালচে বাদামি বর্ণের, পাউডারি মিলডিউ ও হলুদ মোজাইক রোগসহনশীল, গাছে ফলের সংখ্যা বেশি (২৮-৩১টি), তুলনামূলক বড় আকৃতির বীজ (১০০০ বীজের ও জন ৫০.৪-৫৪.০ গ্রাম), জীবনকাল: ৬৯-৭৩ দিন ফলন: ১২৫০-১৪৪০ কেজি/হেক্টর

উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটি: উঁচু থেকে মাঝারি উচুঁ ও সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি মাসকলাই উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী।

জমি তৈরি: ২-৩টি আড়াআড়ি চাষ ও প্রয়োজনীয় মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে।

বপন পদ্ধতি: ছিটিয়ে এবং সারি করে বপন করা যায়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি. রাখতে হবে। খরিফ-২ মৌসুমে ছিটিয়ে বোনা যায়। বিশেষ করে খরিফ-২ মৌসুমে আউশ ধানের জমিতে সাথী ফসল হিসাবেও চাষ করা যায়।

বীজের হার: প্রতি হেক্টরে ৩০-৩৫ কেজি। ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে বীজের পরিমাণ কিছু বেশি দিতে হবে।

বপনের সময়: এলাকা ভেদে বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। খরিফ-১ মৌসুমে ফাল্গুন ২য় সপ্তাহ থেকে ফাল্গুন শেষ সপ্তাহ (ফেব্রুয়ারি শেষ হতে মধ্য-মার্চ) এবং খরিফ-২ মৌসুমে শ্রাবণ মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে ১৫ ভাদ্র (আগস্টের ২য় সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর ১ম সপ্তাহ)।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি: অনুর্বর জমিতে হেক্টরপ্রতি নিম্নরুপ সার প্রয়োগ করতে হয়।

সারের নাম

সারের পরিমাণ/শতক(কেজি)

সারের পরিমাণ/বিঘা(কেজি)

ইউরিয়া

০.১৬-০.১৮

৫-৬

টিএসপি

০.৩২-০.৩৬

১০-১৩

এমওপি

০.১৬-০.১৮

৫-৬

জিপসাম

০.২০-০.২২

৭-৮

বোরন (প্রয়োজন অনুসারে)

০.০২-০.০৪

১-১.৫

অণুজীব সার (প্রয়োজন অনুসারে)

সুপারিশমত

সুপারিশমত

সমস্ত সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়।

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা: বপনের ২০-২৫ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমন করা প্রয়োজন। বৃষ্টিপাতের ফলে যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে না পারে সে জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মাসকলাই

মাসকলাই চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকগণ যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হন তার মধ্যে রোগবালাই এবং পোকামাকড় এর আক্রমণ অন্যতম। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মাসকলাইয়ের মোট ২০টি রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে মাঠপর্যায়ে ফসলে ১৭টি এবং গুদামজাত শস্যে ৩টি রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাঠপর্যায়ে ৪টি এবং গুদামজাত অবস্থায় ২টি রোগ বেশি ক্ষতিকর। নিম্নে প্রধান প্রধান রোগগুলোর ব্যবস্থাপনা আলোচনা করা হল।

হলুদ মোজাইক

হলুদ মোজাইক মাসকলাইয়ের সবচেয়ে মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সব ক’টি দেশেই মাসকলাইয়ের জমিতে এ রোগের আক্রমণ লক্ষ করা যায়। তবে মুগের তুলনায় এর প্রকোপ কিছুটা কম হয়। চারা অবস্থা থেকে শুরু করে পূর্ণ বয়স্ক গাছ পর্যন্ত ফসলের যেকোন অবস্থায়ই এ রোগের আক্রমণ হতে পারে। তবে আক্রমণ যত কম বয়সে হয় ক্ষতির পরিমাণ তত বেশি হয়। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায় এ রোগের আক্রমণ আট সপ্তাহ বয়সের মাসকলাই ক্ষেতে তেমন কোন ক্ষতি হয় না। পক্ষান্তরে সাত, ছয়, পাঁচ এবং চার সপ্তাহ বয়সের ফসলে যথাক্রমে শতকরা ২০, ৩৮, ৬০, ও ৮৫ ভাগ ফলন কমে যেতে পারে। এমনকি এক থেকে দুই সপ্তাহ বয়সে মাসকলাই ফসল আক্রান্ত হলে প্রায় শতকরা ১০০ ভাগ ফলন বিনষ্ট হতে পারে (Yang,1987 )।এই রোগের আক্রমণকারী ভাইরাস (White Fly ) দ্বারা বিস্তার লাভ করে ।

রোগের লক্ষণ: আক্রান্ত পাতার ওপর চমকা ও গাঢ় সবুজ এবং হলুদ রং এর মিশ্রণ যুক্ত নানা বর্ণের বিন্যাস এ রোগের প্রধান লক্ষণ। জাতভেদে এ রোগের লক্ষণের কিছুটা তারতম্য হলেও এরূপ হলুদ হয়ে যাওয়া সর্বাবস্থায় দেখা যায়। আক্রান্ত গাছ খর্বাকৃতির হয়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাতা, ফুল ও ফল কুঁকড়ে যায় এবং ফলের আকার ছোট হয়। বীজ অপুষ্ট ও কুঁকড়ানো হয়। প্রতিটি ফলে বীজের সংখ্যা হ্রাস পায়। মারাত্মকভাবে আক্রান্ত গাছে ফুল ফল মোটেই ধরে না বা খুবই কম ধরে থাকে।

ব্যবস্থাপনা: এ রোগটির ব্যবস্থাপনা খুবই কষ্টসাধ্য। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত মাসকলাইয়ের উন্নত জাতগুলোর (বারি মাস-১, বারি মাস-২, বারি মাস-৩ এবং বারি মাস-৪) এ রোগ সহ্য ক্ষমতা রয়েছে। খরিফ মৌসুমে বপনকৃত ফসলে, খরিফ-২ মৌসুমে বপনকৃত ফসলের তুলনায় এ রোগের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কম হতে দেখা যায়। ফসলের প্রাথমিকপর্যায়ে হলুদ মোজাইক আক্রান্ত গাছ মাঠে দেখার সাথে সাথে গাছ উপড়ে ফেলে দিতে হবে। তাছাড়া রোগ বিস্তারকারী সাদা মাছি কীটনাশকের মাধ্যমে দমন করেও রোগবিস্তার রোধ করা যায়।

পাতার সারকোস্পোরা দাগ: সারকোস্পোরা দাগ মাসকলাই পাতার একটি অতি ক্ষতিকর রোগ। আবহাওয়ার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে এ রোগের প্রকোপ কম বেশি হয়ে থাকে। রোগের অনুকূল আবহাওয়ায় পাতার দাগের কারণে ফসলের যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে থাকে। এরোগ ‘সারকোস্পোরা ক্রোয়েন্টা’ বা ‘সারকোস্পোরা কেনেসেন্স’ নামক ছত্রাকের আক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। জীবাণু ছত্রাক আক্রান্ত ফসলের পরিত্যক্ত আবর্জনার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারে। গাছের আক্রান্ত অংশ বীজের সাথে মিশে পরবর্তী মৌসুমে আক্রমণের প্রাথমিক উৎস হিসাবে কাজ করতে পারে।

রোগের লক্ষণ: রোগের লক্ষণ প্রথমে পাতার উপর ছোট ছোট পানিতে ভেজা আলপিনের মাথার সমান দাগের আকারে প্রকাশ পায়। পরে এই দাগগুলি বাদামি বা লালচে বাদামি রং ধারণ করে ক্রমে আকারে বড় হতে থাকে। দাগগুলো প্রায় ১.৫ সেমি. ব্যাস বিশিষ্ট হয়। একাধিক দাগ এক সাথে মিশে বড় দাগের সৃষ্টি হতে পারে। ফসলের জাত ভেদে দাগগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে দেখা যায়। কোন কোন জাতের দাগগুলি চারিদিকে বাদামি রং বলয়যুক্ত এবং কেন্দ্রের কিছুটা অংশ সাদা হয়। আবার কোন কোন জাতে দাগের বেশির ভাগ অংশই সাদাটে হয়। সাধারণত দাগগুলো কোন নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতির হয় না। খুব বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হলে গাছের পাতা ঝরে যায়।

ব্যবস্থাপনা: রোগের জীবাণু ফসলের আক্রান্ত অংশে বেঁচে থাকতে পারে বিধায় আক্রান্ত ফসলের আবর্জনা যাতে ভালোভাবে পচে যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভবিত মাসকলাইয়ের উন্নত জাতগুলোর (বারি মাস-১, বারি মাস-২, বারি মাস-৩ এবং বারি মাস-৪) এ রোগের আক্রমণ কম হয়। এছাড়া রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে অটোস্টিন-৫০ ডব্লিউ পি নামক ঔষধ প্রতি লিটার পানিতে ২.০ গ্রাম মিশিয়ে ৭-১০ দিন অন্তর ২/৩ বার স্প্রে করলে এ রোগ দমন করা যায়।

পাউডারি মিলডিউ: পাউডারী মিলডিউ মাসকলাইয়ের একটি প্রধান রোগ। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের মাসকলাইতে এ রোগ আক্রমণ করে থাকে। বাংলাদেশে এ রোগটি খরিফ-২ মৌসুমে বেশি আক্রমণ করে। বিশেষত দেরিতে বোনা ফসলের বেশি ক্ষতি করে থাকে। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায় যে, এ রোগের আক্রমণের কারণে মাসকলাইয়ের খরিফ-২ মৌসুমে ৪২% এবং খরিফ-১ মৌসুমে ১৭% পর্যন্ত ক্ষতি করে থাকে। ইহা একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এরোগের জীবাণু ছত্রাক ইরাইছিফি পলিগনি (Erysiphe polygoni বা অয়ডিয়াম এসপি (Oidium sp) প্রধানত বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্য স্থানে বাহিত হয়।

রোগের লক্ষণ: এ রোগ সর্বপ্রথম পাতার উপরে ছোট ছোট সাদা হালকা পাউডারি দাগের আকারে প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে এ দাগ থেকে আরও অসংখ্য অনুরূপ পাউডারি দাগের সৃষ্টি হয় এবং পাতার উপরের পুরো অংশ আক্রান্ত হয়ে সাদা পাউডারের মত হয়ে যায়। পরে পাতা থেকে কাণ্ড ও ফলফুল প্রভৃতি অংশেও আক্রমণ বিস্তার লাভ করে। পাতার উপরের সাদা পাউডার ক্রমে ছাই রং ধারণ করে এবং পরিশেষে তা কাল বা গাঢ় বাদামি রঙের পাউডারে পরিণত হয়। পাতা সবুজ রং পরিবর্তিত হয়ে ছাই রঙে পরিণত হয়।

ব্যবস্থাপনা: রোগসহনশীল কোন জাতের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সময়মতো বপন করলে এ রোগের আক্রমণে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। এ ছাড়া ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেও এ রোগ দমন করা যায়। টিল্ট-২৫০ ইসি/০.৫ মিলি অথবা থিউভিট ৮০ ডব্লিউ পি ২.০ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে রোগের আক্রমণের শুরু থেকে ৭ হতে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করলে এ রোগ দমন করা যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত মাসকলাইয়ের উন্নত জাতসমূহে এ রোগের আক্রমণ কম পরিলক্ষিত হয়।

পাতা পচা রোগ: সাম্প্রতিকালে মাসকলাইয়ে এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইহা একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগটি সর্বপ্রথম যশোর এবং ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রসমূহের গবেষণা খামার লক্ষ্য করা যায় এবং আক্রমণকারী ছত্রাককে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে কৃষকের জমিতে এ রোগের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে এই রোগ একটা প্রধান রোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

রোগের লক্ষণ: এ রোগের আক্রমণের শুরুতে পাতার ওপর পানিতে ভেজা দাগের সৃষ্টি হয়। উষ্ণ ও মেঘলা আবহাওয়ায় দাগের আকার বৃদ্ধি পেয়ে পাতার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আক্রান্ত পাতাগুলো শুকিয়ে বাদামি রং ধারণ করে। শুকনা আক্রান্ত অংশে ছত্রাকের সাদা মাইসিলিয়াম দেখা যায় এবং পরে বিভিন্ন আকারে স্ক্লেরোশিয়াম তৈরি হয়। স্ক্লেরোশিয়ামগুলো প্রথমে সাদা রঙের থাকে এবং পুরোমাত্রায় পরিপক্বতা আসলে তুলার বীজের মতো গাঢ় বাদামি বা কাল রং ধারণ করে।

রোগ বিস্তার: এ রোগের আক্রমণকারী ছত্রাক (Selerotinia sclerotiorum) মাটিতে থাকে। আক্রান্ত গাছের ওপর ইহা ছত্রাকের স্ক্লেরোশিয়াম তৈরি করে। স্ক্লেরোশিয়াম মাটির সাথে মিশে মাটিতে থেকে যায়। উপযুক্ত আবহাওয়ায় ইহা অঙ্কুরিত হয়ে এসকোকার্প তৈরি করে। পরিপক্ব এসকোকার্প বিষ্ফোরিত হয়ে এসকোস্পোর নিক্ষেপ করে যা শস্যকে আক্রমণ করে।

ব্যবস্থাপনা: রোগ দমনের জন্য জমিতে আক্রান্ত ফসলের আবর্জনা এবং স্ক্লেরোশিয়াসমূহ পরিপক্ব হয়ে পড়ে যাওয়ার পূর্বে পরিষ্কার করা দরকার। আক্রমণ দেখা দেয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের দমন ব্যবস্থা হিসাবে আক্রমণ গাছের অংশ পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া রেখা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল নামকছত্রাক নাশক ২.০ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ৩-৪ স্প্রে করলে রোগের প্রকোপ কমানো যায়।

জাবপোকা: পোকা ব্যবস্থাপনা- জাবপোকা সাধারণত দলবদ্ধভাবে পাতা, ডগা, ফুল ও ফল থেকে রস চুষে খায়। এদের আক্রমণে গাছ খর্বাকৃতি হয়, ফুল ও ফল ধারণ বাধাগ্রস্ত হয়, বীজের দানা অপুষ্ট ও আকারে ছোট হয়। জাবপোকার আক্রমণ দেখা গেলে ডাইমেথয়েট গ্রুপের (যেমন- টাফগর-৪০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি/লিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করে সহজেই জাবপোকা দমন করা যায়।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন