কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:২৯ PM

ভুট্টা

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: দানাদার প্রকাশের তারিখ: ২৫-০১-২০২৬

পুষ্টি মূল্য: ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমাণে আছে। এছাড়া হলদে রঙের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন "এ" থাকে।

ব্যবহার: ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


উপযুক্ত জমি ও মাটি: বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। লক্ষ রাখতে হবে যেন জমিতে পানি জমে না থাকে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ভুট্টার জাতের তালিকা

বিশেষ বৈশিষ্ট্য

জাতের নাম

গুণগত মানসম্পন্ন প্রোটিন সমৃদ্ধ

বারি হাইব্রিড ভুট্টা ৫

গো-খাদ্যোপযোগি

বারি ভুট্টা ৭, বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৩, বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৭,

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড বেবি কর্ন ১

মধ্যম মাত্রার খরা সহিষ্ণু

বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১২, বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৩

অধিক তাপ সহিষ্ণু

বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৪, বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৫, বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৭

খাটো আকৃতির

(হেলে পড়া প্রতিরোধী)

বারি হাইব্রিড ভুট্টা ১৪,

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা ১

উচ্চফলনশীল

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা ১, বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা ২

লবণাক্ততা সহনশীল

বারি হাইব্রিড ভুট্টা - ১৬


ভুট্টার জাত

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১২: স্বল্প সেচে উৎপাদনক্ষম এবং মধ্যমাত্রার খরা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল সাদা দানা বিশিষ্ট ফ্লিন্ট প্রকৃতির জাত। এটি ২০১৬ সালে অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০-১৪৫ দিন। খরা অবস্থায় একটি মাত্র সেচ প্রয়োগে (ফল আসার আগে) জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.১-৮.৫ টন এবং স্বাভাবিক সেচ প্রয়োগে ফলন হেক্টরপ্রতি ১০-১১.১ টন।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৩: স্বল্প সেচে উৎপাদনক্ষম এবং মধ্যমাত্রার খরা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল সাদা দানা বিশিষ্ট ফ্লিন্ট প্রকৃতির জাত। এটি ২০১৬ সালে অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪৫-১৫২ দিন। খরা অবস্থায় একটি মাত্র সেচ প্রয়োগে (ফল আসার আগে) জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.২-৮.৯ টন এবং স্বাভাবিক সেচ প্রয়োগে ফলন হেক্টরপ্রতি ১০.১-১১.২ টন। মোচা পরিপক্ব হওয়ার পরও জাতটির গাছ ও পাতা সবুজ থাকে যা গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৪: জাতটি খরিফ মৌসুমে ফুল আসার পর্যায়ে অধিক তাপ সহিষ্ণু এবং মধ্যম ফলন ক্ষমতা সম্পন্ন। এটি ২০১৭ সালে অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ১১৫ দিন। জাতটি দানা সাদা বর্ণের এবং সেমি ডেন্ট প্রকৃতির। জাতটি পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন রবি মৌসুমে ১০.৮৪ টন এবং খরিফ মৌসুমে ১০.৫২ টন।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৫: জাতটি খরিফ মৌসুমে ফুল আসার পর্যায়ে অধিক তাপ সহিষ্ণু এবং উচ্চ ফলন ক্ষমতা সম্পন্ন। এটি ২০১৭ সালে অবমুক্ত করা হয়। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪৮ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ১২১ দিন। জাতটির দানা হলুদ বর্ণের এবং সেমি ডেন্ট প্রকৃতির। জাতটি পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন রবি মৌসুমে ১২.৭৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ১২.০৭ টন। পরিপক্ব অবস্থায় জাতটির বেশির ভাগ পাতা সবুজ থাকে বিধায় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার উপযোগী।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৬: গাছটি মাঝারি উচ্চতার (১৮০-১৯০ সেমি.) এবং মোচা গাছের নিচুতে (৮০-৮৫ সেমি.) ধরায় জাতটি মধ্যম মাত্রার হেলে পড়া সহনশীল। সমগ্র বাংলাদেশেই জাতটি আবাদের উপযোগী। জাতটি (৮ ডিএস/মি)মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। প্রচলিত জাতের তুলনায় ১০-১৫ দিন আগে পাকে। দানার রঙ হলুদ এবং দানা সেমি-ডেন্ট প্রকৃতির, পুষ্ট ও বড় এবং সম্পূর্ণ মোচা দানা দ্বারা আবৃত থাকে। মোচা পরিপক্ব অবস্থায়ও গাছ ও পাতা সবুজ থাকে। হাজার দানার ওজন ৪২২ গ্রাম এবং প্রতি মোচায় গড়ে ৬৩২টি দানা থাকে। জাতটি রবি মৌসুমে ১১.৫৭ টন/হেক্টর এবং খরিফ মৌসুমে ৮.৫-১০ টন/হেক্টর লবণাক্ত এলাকায় ৭ টন/হেক্টর ফলন দিতে সক্ষম।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা - ১৬ (গাছ) বারি হাইব্রিড ভুট্টা – ১৬ (মোচা)

বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১৭: জাতটি খরিপ মৌসুমে ফুল আসার পর্যায়ে অধিক তাপ সহিষ্ণু (দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সে. এবং রাতের তাপমাত্র ২৩ ডিগ্রি সে.)। রবি ও খরিপ মৌসুমে জাতটির উচ্চতা যথাক্রমে ২২০-২৩০ সেমি. ও ১৭০-১৮০ সেমি.। জাতটির দানা হলুদ বর্ণের এবং সেমি ডেন্ট প্রকৃতির। মোচার মাথায় সিল্কে হাল্কা এন্থোসায়ানিন বিদ্যমান। টাসেল গ্লুমে গাঢ় এন্থোসায়ানিন এবং টাসেলের প্রশাখার অগ্রভাগ বাঁকানো প্রকৃতির। মোচা শক্তভাবে খোসা দ্বারা আবৃত থেকে বিধায় বৃষ্টির পানিতে দানা নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম। এ জাতটির জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৪০-১৫০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ১১০-১১৫ দিন। রবি ও খরিপ মৌসুমে জাতটির গড় ফলন যথাক্রমে ১১.০-১২.০ টন/হেক্টর এবং ৮.৫-৯.৫ টন/হেক্টর।

বারি হাইব্রিড ভুট্টা - ১৭ (গাছ) বারি হাইব্রিড ভুট্টা – ১৭ (মোচা)

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এই জাতটি সিঙ্গেল ক্রস পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত খাটো আকৃতির উচ্চফলনশীল জাত। খাটো প্রকৃতির হাইব্রিড যার মোচা তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে অবস্থিত হওয়ায় ঝড়-বাতাসে সহজে হেলে ও ভেঙ্গে পড়ে না। গাছের উচ্চতা ১৬৫-১৮০ সেমি. ও মোচার উচ্চতা ৬৫-৭৫ সেমি.। সিল্কে মধ্যম মাত্রায় অ্যান্থোসায়ানিন বিদ্যমান । সিল্কের রঙ হালকা গোলাপি বর্ণের। জাতটির দানা হলুদ বর্ণের এবং সেমি ডেন্ট প্রকৃতির । দানাগুলো পুষ্ট ও বড় আকৃতির (১০০০ দানার ওজন ৩৮৫ গ্রাম)। মোচার অগ্রভাগ পর্যন্ত খোসা দ্বারা শক্তভাবে আবৃত থাকায় বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম থাকে। সমগ্র বাংলাদেশেই জাতটি আবাদের উপযোগী। জাতটি উচ্চফলনশীল। রবি মৌসুমে উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টর প্রতি ফলন ১১.০-১৩.০ টন।

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১ (গাছ) বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-১ (মোচা)

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড বেবিকর্ন-১: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত এ হাইব্রিডটি সিঙ্গেল ক্রস পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত তুলনামূলকভাবে খাটো আকৃতির উচ্চফলনশীল জাত। সমগ্র বাংলাদেশেই জাতটি আবাদের উপযোগী। গাছে সংগ্রহ উপযোগী প্রথম বেবি মোচা গড়ে ৯৭ দিনে এবং বাকি মোচাগুলোও পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। রবি মৌসুমে গাছ ও মোচার উচ্চতা যথাক্রমে ১৭০-১৮৫ সেমি. এবং ৭০-৭৫ সেমি.। প্রতিটি গাছ থেকে ৩-৪টি কচি মোচা পাওয়া যায় যাদের মোট ওজন ৩৪.৪ গ্রাম। বেবিমোচার সিল্কের রঙ মাঝারি গোলাপি বর্ণের, খোসা ছাড়ানো কচি মোচা হলুদ থেকে ক্রীম বর্ণের। কচি মোচা সংগ্রহের সময় গাছ ও পাতা সবুজ অবস্থায় থাকে বিধায় সম্পূর্ণ গাছকে সবুজ গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কর্ণের TSS এর পরিমাণ ১২.২ ব্রিক্স। রবি মৌসুমে হেক্টর প্রতি অপরিপক্ব বা কচি খোসা ছাড়ানো মোচার ফলন ২.৩০-২.৬৫ টন। জাতটি থেকে হেক্টর প্রতি ৪১.৩-৪৪.০ টন সবুজ গো-খাদ্য পাওয়া যায়।

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড বেবিকর্ন-১ (গাছ) বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড বেবিকর্ন-১ (মোচা)

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-২: জাতটি উচ্চফলনশীল। গাছের উচ্চতা ২২০-২৪০ সে.মি. ও মোচার উচ্চতা ১০০-১৩০ সেমি.। সিল্কের অ্যান্থোসায়ানিন না থাকায় হালকা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। জাতটির দানা হলুদ বর্ণের এবং ডেন্ট প্রকৃতির । দানাগুলো পুষ্ট ও বড় আকৃতির। ১০০০ দানার ওজন ৪০০-৪৬০ গ্রাম। মোচার অগ্রভাগ পর্যন্ত খোসা দ্বারা শক্তভাবে আবৃত থাকায় বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম থাকে। রবি মৌসুমে উপযুক্ত পরিবেশে হেক্টর প্রতি ফলন ১২.০-১৪.০ টন।

বিডাব্লিউএমআরআই হাইব্রিড ভুট্টা-২ (মোচা)

বপনের সময়: বাংলাদেশে রবি মৌসুমে মধ্য-আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) এবং খরিফ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে মধ্য-চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত সময় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের হার: হাইব্রিড ভুট্টার বীজ হেক্টরে ২০-২২ কেজি বা বিঘা প্রতি প্রায় ৩ কেজি।

রোপণ দূরত্ব: সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি.বা ২৪ ইঞ্চি এবং সারিতে বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ২৫ সেমি.বা ১০ ইঞ্চি। উপরোক্ত দূরত্ব অনুসারে বপন করলে প্রতি গর্তে একটি করে গাছ হিসেবে মোট হেক্টর প্রতি গাছের সংখ্যা ৬৬,৬৬৬টি।

অম্লীয় মাটিতে ডলোচুন প্রয়োগ: অম্লত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে মাটিতে ফসফরাসসহ অধিকাংশ মুখ্য উপাদানের সহজলভ্যতা হ্রাস পায়। অম্লীয় মাটিতে প্রতি একরে ৪০০ কেজি বা হেক্টরে ১০০০ কেজি হারে ডলোচুন ব্যবহার করতে হবে। এতে ভুট্টার ফলন ২০-২৫% বৃদ্ধি পায়। জমি তৈরির কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে মাটিতে জো থাকা অবস্থায় ডলোচুন প্রয়োগ করতে হবে। ডলোচুন একবার ব্যবহার করলে পরবর্তী ৩ বছরে আর ব্যবহারের দরকার হয়না।

সার ব্যবস্থাপনা: রবি ও খরিপ মৌসুমে হাইব্রিড ভুট্টা চাষে বিভিন্ন প্রকার সারের পরিমাণ নিচে দেওয়া হলোঃ

সারের নাম

কেজি /একর

কেজি /হেক্টর

ইউরিয়া

২১৫-২৩৫

৫৩১-৫৮০

টিএসপি

১০৫-১২১

২৫৯-২৯৯

এমওপি

৮০-৯৫

১৯৮-২৩৫

জিপসাম

৮৫-৯৫

২১০-২৩৫

জিংক সালফেট

৫.০-৬.০

১২.৪-১৪.৮

বোরিক এসিড

৩.৩-৩.৮

৮.২-৯.৪

গোবর সার

২০০০-৩০০০

৪৯০০-৭৪০০

জমি তৈরির শেষ পর্যায়ে অনুমোদিত ইউরিয়ার এক-তৃতীয়াংশ এবং অন্যান্য সারের সবটুকু ছিটিয়ে জমি চাষ দিতে হবে। বাকি ইউরয়া সমান ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি বীজ বপনের ৩০-৪০ দিন পর বা ৮-১০ পাতা অবস্থায় এবং দ্বিতীয় কিস্তি বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর দিন পুরুষ ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করে জমিতে সেচ দিতে হবে। চারা গজানোর ৩০ দিনের মধ্যে জমি থেকে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স এক মাস না হওয়া পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনা: উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টার আশানুরূপ ফলন পেতে হলে রবি ও খরিপ মৌসুমে সেচ প্রয়োগ অত্যাবশ্যক।

সেচ

রবি মৌসুম

খরিফ মৌসুম

চারা গাছের অবস্থা

১ম সেচ

বীজ বপনের ৩০-৪৫দিন পর

বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর

৪-৬ পাতা অবস্থায়

২য় সেচ

বীজ বপনের ৫৫-৬৫ দিন পর

বীজ বপনের ৩৫-৪৫ দিন পর

৮-১০ পাতা অবস্থায়

৩য় সেচ

বীজ বপনের ৮০-১০০ দিন পর

বীজ বপনের ৫৫-৬৫ দিন পর

ফুল আসা অবস্থায়

৪র্থ সেচ

বীজ বপনের ৯৫-১১৫ দিন পর

বীজ বপনের ৭০-৭৫ দিন পর

দানা বাঁধার সময়

আগাছা ব্যবস্থাপনা

আগাছা দমন

রবি মৌসুম

খরিফ মৌসুম

সময়

১ম বার

বীজ বপনের ৩০-৩৫দিন পর

বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর

চারার ৩-৫ পাতা অবস্থায়

২য় বার

বীজ বপনের ৫৫-৬৫ দিন পর

বীজ বপনের ৩৫-৪৫ দিন পর

চারার ৮-১০ পাতা অবস্থায়

৩য় বার

বীজ বপনের ৮০-১০০ দিন পর

বীজ বপনের ৫৫-৬৫ দিন পর

ফুল আসা অবস্থায়

ভুট্টার ফুল ফোটা ও দানা বাঁধার সময় কোনোক্রমেই জমিতে যাতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি দিয়ে দমন করতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা

ভুট্টার ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকা

পোকাটি কীড়া অবস্থায় গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে। পূর্ণাঙ্গ পোকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। কীড়া অবস্থায় পোকাটির খাদ্য চাহিদা কম থাকে এবং এসময় তারা গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে। তবে জীবনচক্রের শেষ ধাপসমূহে এর খাদ্য চাহিদা ৫০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পূর্নাঙ্গ পোকা ভুট্টা, আলু বা অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে প্রায় ২০-১০০% পর্যন্ত ক্ষতিসাধন করে থাকে। তবে ভুট্টা ফসলে এর সর্বাধিক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়।

বর্তমানে করণীয়

১) বিঘা প্রতি ৫-৬টি ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করা। ফেরোমন ফাদে পূর্ণাঙ্গ পোকা দেখার সাথে সাথে পাশের জমিতে সরাসরি পোকা খাওয়ার লক্ষণ বা মল দেখে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করা যায়। ডিম বা সদ্য প্রস্ফুটিত দলবদ্ধ কীড়া চিহ্নিত করে মেরে ফেলতে হবে কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

২) আক্রান্ত গাছ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা (৩০-৪০ মিটার) জুড়ে জৈব বালাইনাশক স্পোডেপটেরা নিউক্লিয়ার পলিহাইড্রোসিস ভাইরাস (এসএনপিভি) প্রতি লিটার পানিতে ০ .২ গ্রাম হারে ৭ দিন পর ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

৩) রবি মৌসুমে ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে অগ্রহায়ণ মাসের মধ্যেই বীজ বপন করলে ফল আর্মি ওয়ার্ম দ্বারা ক্ষতির মাত্রা কম হয়; একই জমিতে বার বার ভুট্টা চাষ পরিহার করলে ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকার আক্রমণ কম হয়; ভুট্টার সাথে ফেলন, মুগডাল, মাষকলাই, ধনিয়া ইত্যাদি সাথী ফসল হিসেবে চাষাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকার আক্রমণ কম থাকে;

৪) জৈব নিয়ন্ত্রণ : বন্ধু পোকা যেমন- ট্রাইকোগ্রামা (হেক্টর প্রতি এক গ্রাম ট্রাইকোগ্রামা আক্রান্ত ডিম, যেখান হতে ৪০,০০০ হতে ৪৫,০০০ পূর্ণাঙ্গ ট্রাইকোগ্রামা বের হয়ে আসবে) এবং ব্রাকন (হেক্টরপ্রতি ৮০০-১২০০টি) নামক উপকারী পোকা ভুট্টা ফসলে অবমুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়াও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়িয়ে যথাসম্ভব রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে পারলে প্রাকৃতিকভাবেই পরভোজী ও পরজীবী বন্ধু পোকাসমূহ কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে সংরক্ষিত হবে। ফলশ্রুতিতে ভুট্টা ফসলে ফল আর্মি ওয়ার্মের ডিম এবং কীড়া প্রাকৃতিক উপায়েই বিনষ্ট হবে।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ: একান্ত প্রয়োজনে রাসায়নিক কীটনাশক যেমন স্পিনোসাড (ট্রেসার ৪৫ এসসি ০.৪ মিলি/ লিটার পানি বা সাকসেস ২.৫% এসসি ১.৩ মিলি/ লিটার পানি) বা এমামেকটিন বেনজোয়েট গ্রুপের প্রোক্লেম ৫ এসজি ১ গ্রাম/ লিটার পানি) বা ক্লোরেনট্রানিলিপ্রোল (কোরাজেন ১৮.৫% এসসি ০.৫ মিলি/ লিটার পানি) আক্রান্ত ভুট্টা ফসলে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত অবস্থায় ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। একই গ্রুপের কীটনাশক পরপর দু’বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

ভুট্টার কাটুই পোকা: এ পোকা রাতের বেলা চারা মাটি বরাবর কেটে দেয়। সকাল বেলা চারা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় ।

ভুট্টার কাটুই পোকা ও আক্রান্ত চারা

ব্যবস্থাপনা

১। সকাল বেলা কেটে ফেলা চারার আশে পাশে মাটি খুঁড়ে পোকা বের করে মেরে ফেলা।

২। কেরোসিন (২-৩ লি./ হেক্টর হারে) মিশ্রিত পানি সেচ দেয়া।

৩। পাখি বসার জন্য ক্ষেতে ডালপালা পুঁতে দেয়া।

৪। এ পোকা নিশাচর, রাতের বেলা সক্রিয় থাকে- তাই রাতে হারিকেন বা টর্চ দিয়ে খুঁজে খুঁজে পোকা মেরে ফেলা। রাতে ক্ষেতে মাঝে মাঝে আবর্জনা জড়ো করে রাখলে তার নিচে কীড়া এসে জমা হবে, সকালে সেগুলোকে মেরে ফেলা ও ক্ষেতের মাটি আলগা করে দেওয়া।

৫। ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ডার্সবান ৫ মিলি./লি হারে অথবা (ক্লোরপাইরিফস+ সাইপারমেথ্রিন) গ্রুপের কীটনাশক যেমন: বাইপোলার ৫০ ইসি ২ মিলি. / লি. হারে অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ক্যারাটে ১.৫ মিলি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার গাছের গোড়ায় স্প্রে করা।

রোগ ব্যবস্থাপনা

ভুট্টার বীজ পচা এবং চারা গাছের রোগ দমন: বীজ পচা এবং চারা নষ্ট হওয়ার কারণে সাধারণত ক্ষেতে ভুট্টা গাছের সংখ্যা কমে যায়। নানা প্রকার বীজ ও মাটি বাহিত ছত্রাক যেমন পিথিয়াম, রাইজোকটনিয়া, ফিউজেরিয়াম, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি বীজ বপন, চারা ঝলসানো, রোগ ও শিকড় পচা রোগ ঘটিয়ে থাকে। জমিতে রসের পরিমাণ বেশি হলে এবং মাটির তাপমাত্রা কম থাকলে বপনকৃত বীজের চারা বড় হতে অনেক সময় লাগে। ফলে এ সময়ে ছত্রকের আক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়।

প্রতিকার

১. সুস্থ, সবল ও ক্ষতমুক্ত বীজ এবং ভুট্টার বীজ পচা রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে।

২. উত্তমরূপে জমি তৈরি করে পরিমিত রস ও তাপমাত্রায় (১৩ সে. এর বেশি) বপন করতে হবে।

৩. থিরাম বা ভিটাভেক্স (০.২৫%) প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করলে ভুট্টার বীজ পচা রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়।

ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ দমন


হেলমিনথোসপরিয়াম টারসিকাম ও হেলমিনথোসপরিয়াম মেইডিস নামক ছত্রাকদ্বয় এ রোগ সৃষ্টি করে। প্রথম ছত্রাকটি দ্বারা আমাদের দেশে ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ বেশী হতে দেখা যায়। হেলমিনথোসপরিয়াম টারসকাম দ্বারা আক্রান্ত গাছের নিচের দিকের পাতায় লম্বাটে ধূসর বর্ণের দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে গাছের উপরের অংশে তা বিস্তার লাভ করে। রোগের প্রকোপ বেশি হলে পাতা আগাম শুকিয়ে যায় এবং গাছ মরে যায়। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হলে এবং ১৮-২৭ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় এ রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়।

প্রতিকার

১. রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।

২. আক্রান্ত ফসলে টিল্ট ২৫০ ইসি (০.০৪%) ১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

৩. ভুট্টা উঠানোর পর জমি থেকে আক্রান্ত গাছ সরিয়ে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ভুট্টার মোচা ও দানা পচা রোগ দমন: বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি প্রভৃতি এ রোগ ঘটায়। ভুট্টা গাছে মোচা আসার সময় থেকে ভুট্টা পরিপক্ব পর্যন্ত সময় বৃষ্টিপাত বেশি হলে মোচা ও দানা পচা রোগ বেশি হয়। আক্রান্ত মোচার দানা বিবর্ণ, অপুষ্ট ও কোঁচকানো হয়। আক্রান্ত মোচার খোসা ও দানা বিবর্ণ হয়ে যায়। দানা পুষ্ট হয় না, কুঁচকে অথবা ফেটে যায়।

প্রতিকার

১. এ রোগের প্রাদুর্ভাব এড়াতে একই জমিতে বার বার ভুট্টা চাষ করা ঠিক নয়।

২. জমিতে পোকা ও পাখির আক্রমণ রোধ করতে হবে।

৩. ভুট্টা পেকে গেলে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে হবে।

৪. কাটার পর ভুট্টার পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ভুট্টার কান্ড পচা রোগ দমনঃ বিভিন্ন প্রজাতির ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি-এর কারণে এ রোগ ঘটে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গাছের কাণ্ডে পচে যায় এবং গাছ মাটিতে ভেঙে পড়ে। আমাদের দেশে খরিফ মৌসুমে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি এবং পটাশের পরিমাণ কম হলে ছত্রাক জনিত কাণ্ড পচা রোগ বেশি হয়।

প্রতিকার

১. ছত্রাকনাশক ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে বীজ শোধন করে লাগাতে হবে।

২. সুষম হারে সার ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে নাইট্রোজেন ও পটাশ পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

৩. ভুট্টা কাটার পর পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

৪. শিকড় ও কাণ্ড আক্রমকারী পোকামাকড় দমন করতে হবে।

৫. আক্রান্ত জমিতে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের যেকোনো ছত্রাকনাশক ১ গ্রা./লিটার পানিতে ৭ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

মোচা সংগ্রহ

  • দানার জন্য ভুট্টা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোচা চকচক খড়ের রঙ ধারণ করলে এবং পাতা কিছুটা হলদে হলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

  • শারীরবৃত্তীয়ভাবে পরিপক্ব দানায় শতকরা ২০-২৫ ভাগ আর্দ্রতা থাকে।

  • মোচা থেকে দুই একটি দানা ছাড়িয়ে দানার মুখে কালো দাগ দেখা গেলে মোচা সংগ্রহ শরু করতে হবে।

  • বর্ষার কারণে মোচা সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে মোচার সামান্য নিচে গাছের কাণ্ড আলতোভাবে মোচাসহ মাটির দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে যাতে মোচার ভেতর পানি প্রবেশ না করতে পারে।

দানা সংগ্রহ

  • দানা বা হস্তচালিত ঝাড়াই মেশিন, কুলা অথবা চালুনী দিয়ে দানা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

  • ভুট্টার দানা কয়েকদিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে যাতে দাত দিয়ে দানা চাপ দিলে কট করে ভেঙে যায়।

  • এ সময় দানার আর্দ্রতা শতকরা ১০- ১২ ভাগ থাকে ‍যা সংরক্ষণের জন্য উত্তম, সম্ভব হলে আর্দ্রতা মাপক যন্ত্রের সাহায্য নিতে হবে।

ভুট্টার ফলন: যথাযথ যত্নে চাষ করলে রবি মৌসুমে গড়ে ভুট্টার ফলন হয় হেক্টরে ৩০০ মন বা ১২ টন পর্যন্ত তবে ভালো ফল নির্ভর করে হাইব্রিড জাত, বীজ বপনের সময় এবংফসল ব্যবস্থাপনা উপর। খরিপ মৌসুমে হেক্টরে ভুট্টার ফলন হয় ২-৩ টন পর্যন্ত কম হয়।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন