কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:৪৭ PM

বাতাবি লেবু

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: ফল প্রকাশের তারিখ: ২৮-০২-২০২৬

বাতাবি লেবু

ভিটামিনসিসমৃদ্ধ ফল বাতাবি লেবু বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসলদেশের সব এলাকাতেই এর চাষ হয় তবে সিলেটে বেশি হয়বাংলাদেশে বর্তমানে বাতাবি লেবুর মোট উৎপাদন প্রায় ৭১.৭৮ হাজার মে.টন

বাতাবি লেবুর জাত

বারি বাতাবি লেবু-

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত বাতাবি লেবুর জার্মপ্লাজম মূল্যায়ন করেবারি বাতাবি লেবু-জাতটি ১৯৯৭ সালে অনুমোদন করা হয়এ জাতের পাতা বড় আকৃতির গাঢ় সবুজনিয়মিত ফল ধরেফলের আকৃতি প্রায় গোলাকার (টিএসএস ৯.২০%)ফলের ওজন ৯০০-,১০০ গ্রামফলের আকার মাঝারীফলের কোষ সংখ্যা ১৩-১৪ টিভক্ষণযোগ্য অংশ ৪৫%খোসার পুরুত্ব ২.-.৫ সে.মিফল সুস্বাদু ও সামান্য তিতা, বেশ রসালো, শাঁসের রং লালচে, মিষ্টতা মাঝারীশাঁস বেশ নরমপাকা ফলের রং হলুদবীজের রং বাদামী এবং আকৃতি চ্যাপ্টাপ্রতি গাছে ৪৫-৫৫ টি ফল ধরেহেক্টর প্রতি ফলন ১৪-১৬ টনদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী

বারি বাতাবি লেবু-

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত বাতাবি লেবুর জার্মপ্লাজম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি উন্নত জাতবারি বাতাবি লেবু-১৯৯৭ সালে অনুমোদন করা হয়গাছের আকৃতি ছাতার মতোপাতা গাঢ় সবুজ, ডানাযুক্ত বৃত্তাকার টিএসএস ১১.৩৫%মোট এসিড ১.০৫%ফলের ওজন ৭৫০-৭৮০ গ্রামফলের আকার ১১.০০ - ১২.৩০ সে.মি.ফলের কোষ সংখ্যা ১৩-১৫ টি, ভক্ষণযোগ্য অংশ ৪০% এবং খোসার পুরুত্ব ১.-.৪ সে.মি.বীজের সংখ্যা ১১০-১২০ টিফল সুস্বাদু, বেশ রসালো, শাঁসের রং লালচে এবং বেশ মিষ্টিশাঁস নরম এবং পাকা ফলের রং হলুদবীজের রং বাদামী, আকৃতি চ্যাপ্টা প্রতি গাছে ৪০-৫০টি ফল ধরেহেক্টর প্রতি ফলন ১২-১৪ টনদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী

বারি বাতাবি লেবু-

অভ্যন্তরীণ জরিপের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত জার্মপ্লাজমের ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উন্নত জাত বারি বাতাবি লেবু-৩ ২০০৩ সালে অবমুক্ত করা হয়গাছের আকার মাঝারী, পাতা গাঢ় সবুজ ও হৃদপিন্ডাকার ডানাযুক্তপ্রতিবছর নিয়মিত ফল ধরেফল উপবৃত্তাকার ও মাঝারী ধরনেরফলের ওজন ১,০০০-,১৫০ গ্রামপাকা ফলের খোসা হলদে বর্ণের, পাতলা (.২৫-.৩০ সে.মি. পুরু) যা খুব সহজেই শাঁস থেকে ছাড়ানো যায়প্রতি ফলে কোষের সংখ্যা ১৪-১৫ টিফলের শাঁস অত্যন্ত রসালো, নরম, মিষ্টি, সম্পূর্ণ তিতাবিহীন, গোলাপী বর্ণের এবং খেতে সুস্বাদুটিএসএস (ব্রিক্সমান) .%, ফলের ভক্ষণ যোগ্য অংশ ৫৫-৬০%, গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ১০০-১১০ টি, প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ৭০-৭৫টিবীজ হালকা বর্ণের ও চ্যাপ্টা আকৃতিরহেক্টর প্রতি ফলন ২৫-৩০ টনদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী

বারি বাতাবি লেবু-

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জাতটিবারি বাতাবি লেবু-নামে ২০০৪ সালে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন লাভ করেগাছের আকৃতি ছাতার মতোপাতা গাঢ় সবুজ, ডানাযুক্ত বৃত্তাকারগাছে নিয়মিত ফল ধরেফলের আকৃতি গোলাকার, মাঝারী ধরনেরটিএসএস ১১.%মোট এসিড ০.৬০%ফলের ওজন ৮৫০-,১০০ গ্রামফলের কোষ সংখ্যা ১২-১৪টিফল সুস্বাদু, বেশ রসালো ,শাঁসের রং সাদা এবং বেশ মিষ্টিকোন তিতাভাব নেইপাকা ফলের রং হলুদাভপ্রতিটি গাছের ৪০-৫০ টি ফল ধরেএটা একটি নাবী জাতহেক্টরপ্রতি ফলন ১৫-২০ টনদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী

বারি বাতাবি লেবু-

নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাতগাছটির পাতা তুলনামূলকভাবে অনেক বড় ও ঝোপালোফল গোলাকার ও বড় (ফলের গড় ওজন ৮৭৫ গ্রাম), ফল দেখতে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের এবং টিএসএস ৯.০৫%ফল সাধারণত একক ভাবে ধরেফলের অভ্যন্তরে ১৩-১৪ টি খন্ড বিদ্যমান এবং খাদ্যোপযোগী অংশ প্রায় ৬৬.২৬%আট বছর বয়সী প্রতিটি গাছে গড় ফলের সংখ্যা ১৮ টি এবং ফলন ১৬.০৪ কেজি এবং ১০.০৩ টন/হেক্টর/বছর

বারি বাতাবি লেবু-

বারি বাতাবি লেবু-নিয়মিত ফলদানকারী একটি উচ্চ ফলনশীল জাতবাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে সংগৃহীত জার্মপ্লাজমের মধ্যে থেকে বাছাই করে মূল্যায়নের মাধ্যমে বারি বাতাবি লেবু-৬ জাতটি উদ্ভাবন করা হয় এবং জাতটি বাংলাদেশে চাষ করার জন্য ২০১৮ সালে অনুমোদন করা হয়গাছ মাঝারী ও ছড়ানো স্বভাবেরএর পাতা বড় ও পাতার বোঁটা চওড়া পাখা সম্বলিত, পত্রফলকের অগ্রভাগ সূঁচালো ও গাঢ় সবুজ বর্ণেরফুল দেখতে সাদা রঙের এবং এককভাবে ধারণ করেফল আহরণের সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বরফল উপ-বৃত্তাকার, পাকা ফলের রং সবুজাভ হলুদ এবং ফলের গড় ওজন ১ কেজিশাঁস আকর্ষণীয় লাল, খুব রসালো, নরম, সুস্বাদু ও সম্পুর্ণ তিতাবিহীনফলের কোষ খুব সহজে আলাদা করা যায়খাদ্যোপযোগী অংশ ৫৭% ও টিএসএস ৮.%বীজ সাধারণত লম্বাটে এবং বোটার দিকে সরু

উৎপাদন প্রযুক্তি

মাটি: সুনিস্কাশিত গভীর, হালকা, দোআঁশ মাটি লেবু চাষের জন্য উত্তমমধ্যম অম্লীয় মাটিতে বাতাবি লেবু ভাল জন্মে

জমি নির্বাচন ও তৈরি: পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা সম্পন্ন উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি বাতাবি লেবু চাষের জন্য উত্তমজমি নির্বাচনের পর জমি চাষ দিয়ে আগাছামুক্ত করে চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি করা প্রয়োজন

কলম তৈরি ও নির্বাচন: পার্শ্বকলম ও গুটি কলমের মাধ্যমে বাতাবিলেবুর কলম তৈরি করা যায়সাধারণত ৮-১০ মাস বয়সের বাতাবি লেবুর চারা বাডিং ও গ্রাফটিংয়ের জন্য আদিজোড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়রোপণের জন্য সোজা ও দ্রুত বৃদ্ধি সম্পন্ন কলম নির্বাচন করতে হবে

রোপণের সময়: মধ্য জ্যৈষ্ঠ-মধ্য আশ্বিন (জুন- সেপ্টেম্বর) মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়তবে অধিক বৃষ্টিপাতের সময় কলম রোপণ না করাই ভালসেচ সুবিধা থাকলে সারা বছরই বাতাবি লেবুর চারা/ কলম রোপণ করা চলে

গর্ত তৈরি: কলম রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে ৬ × ৬ মিটার দূরত্বে ৬০ × ৬০ × ৫০ সে.মি. আকারের গর্ত করে কয়েকদিন উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দিতে হয়কলম রোপণের ১০-১৫ দিন পূর্বে গর্তপ্রতি ১৫-২০ কেজি পচা গোবর, ৩০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০-৩০০ গ্রাম এমওপি ও ২০০ গ্রাম জিপসাম সার গর্তের মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে গর্ত বন্ধ করে রেখে দিতে হবেমাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকলে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে

কলম রোপণ: গর্তে সার প্রয়োগের ১৫-২০ দিন পর গোড়ার মাটিসহ নির্ধারিত কলমটি গর্তের মাঝখানে সোজাভাবে রোপণ করা হয়রোপণের পর হালকা পানি সেচ, খুঁটি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে

গাছে সার প্রয়োগ: বয়সভেদে গাছপ্রতি সারের পরিমাণ

সারের নাম

গাছের বয়স

-২ বছর

-৪ বছর

-১০ বছর

১০ বছরের উর্ধ্বে

গোবর (কেজি)

-১০ বছর

১০-১৫

২০-২৫

২৫-৩০

ইউরিয়া (গ্রাম)

১৭৫-২২৫

২৭০-৩০০

৫০০-৬০০

৬০০-৭০০

টিএসপি (গ্রাম)

৮০-৯০

১৪০-১৭০

৪০০-৪৫০

৪৫০-৫০০

এমওপি (গ্রাম)

১৪০-১৬০

৪০০-৫০০

৫০০-৫৫০

৬০০-৬৮০

সার প্রয়োগ পদ্ধতি: সার একেবারে গাছের গোড়ায় না দিয়ে যত দূর পর্যন্ত ডালপালা বিস্তার লাভ করে সে এলাকায় মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হয়উল্লিখিত সার ৩ কিস্তিতে ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি), মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-জ্যৈষ্ঠ (মে) ও মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য-কার্তিক (অক্টেবর) মাসে প্রয়োগ করতে হবে

পানি সেচ ও নিকাশ: ফুল আসা ও ফল ধরার সময় পানির অভাব হলে ফল ঝরে পড়া ও সূর্য পোড়া দাগ দেখা যায়তাই শুষ্ক মৌসুমে ২১ দিন পর পর ২-৩ টি সেচ দিলে ভাল ফলন পাওয়া যায়বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমতে না পারে সে জন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে

অঙ্গ ছাঁটাই: নতুন রোপণকৃত গাছে আদিজোড় হতে উৎপাদিত কুশি ভেঙ্গে দিতে হবেগাছটির অবকাঠামো মজবুত করার লক্ষ্যে গোড়া থেকে ১ মিটার উঁচু পর্যন্ত কোন ডালপালা রাখা চলবে নাএক থেকে ১.৫ মিটার উপরে বিভিন্ন দিকে ছড়ানো ৪-৫ টি শাখা রাখতে হবে যাতে গাছটির সুন্দর একটি কাঠামো তৈরি হয়প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর মরা, পোকা-মাকড় ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করতে হয়ডাল ছাঁটাইয়ের পর কর্তিত স্থানে অবশ্যই বর্দোপেস্টের প্রলেপ দিতে হবে

ফল সংগ্রহ: ফল কিছুটা হলদে বর্ণ ধারণ করলে মধ্য-ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর) ফল সংগ্রহ করা যায়বাতাবি লেবু পাকার পরও দীর্ঘ দিন গাছে সংরক্ষণ (Tree Storage)করা যায়

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, সিলেট

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন