কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ এ ১০:৪০ AM

গোল মরিচ

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: মসলা প্রকাশের তারিখ: ২৫-০৩-২০২৬

গোল মরিচ বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছ। চিরসবুজ পাতা অনেকটা পানের মত। গোল মরিচ গাছের আপন আকর্ষি দিয়ে সহায়ক গাছকে আকড়িয়ে থাকে। ইহা ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের চিরহরিৎ বন ভূমির একটি দেশিয় গাছ।

গোল মরিচের জাত

জৈন্তিয়া গোল মরিচ: জৈন্তিয়া গোল মরিচ জাতটি মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা থেকে আনা বিভিন্ন জাত থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

এ জাতটি ভাল বাওনী পেলে ১০-১১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়। স্বাদ ঝাল, পুষ্ট ও বড় আকৃতির। গাছপ্রতি ফলন ১.২৫-১.৫০ কেজি শুকনা গোল মরিচ।

উৎপাদন প্রযুক্তি

চারা উৎপাদন: কেবল অযৌন পদ্ধতিতে গোল মরিচের অংশ বিস্তার হয়। সেন্ট্রাল সিডার যা প্রধান গাছের গোড়া থেকে গজায় এমন লতা থেকে চারা (কাটিং) সংগ্রহ করাই উত্তম। কমপক্ষে ৩-৪ টি গিঁটসহ ৩০-৪৫ সে.মি. লম্বা শাখা কাটিং হিসেবে নিতে হবে। কাটিংগুলো সরাসরি সহায়ক গাছের গোড়ায় লাগানো যেতে পারে এতে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। বীজতলায় কাটিং লাগালে ২০-৩০ দিনের মধ্যে নতুন কুঁড়ি বের হতে শুরু করে। এক বছর বয়সের কাটিং বাগানে লাগানো উত্তম।

জমি তৈরি: গোল মরিচের জন্য পাহাড়ী উর্বর দোআঁশ মাটি প্রয়োজন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা একান্ত প্রয়োজন।

চারা রোপণ: মে-আগস্ট মাসে প্রত্যেক সহায়ক বৃক্ষের পাশে তৈরি গর্তে ২-৩ টি কাটিং লাগাতে হবে এরপর পানি দিতে হবে। কাটিংগুলি সহায়ক বৃক্ষের উত্তর পার্শ্বে লাগানো হলে সূর্যের তাপ কম লাগবে। সূর্য তাপ হতে প্রাথমিকভাবে রক্ষার জন্য পাতাওয়ালা গাছের ডাল বা অন্য কোনভাবে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জংলী যে কোন বৃক্ষ বা ফলের গাছ (কাঠাঁল, লটকন ইত্যাদি ছাড়া অর্থাৎ যে সব গাছে গোড়া ও প্রাথমিক বড় শাখাতে ফল ধরে) সহায়ক বৃক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রোপণ দুরত্ব: গাছ রোপণের দূরত্ব ৪ মি. ও প্রতি বেডে সারি দূরত্ব ৪ মি.। গাছের গোড়ার গর্তের আকার ৩০´৩০´৩০ সে.মি.।

সারের পরিমাণ: গাছের বৃদ্ধি এবং ভাল ফলন পেতে হলে সময়মত প্রয়োজনীয় সার উল্লিখিত হারে প্রয়োগ করতে হবে।

রোপণের সময় সারের পরিমাণ (টেবিল-১)

সারের নাম

প্রতি গর্তে সারের

পরিমাণ

গাছপ্রতি সার প্রয়োগ

প্রথমবার (বর্ষার শুরুতে)

দ্বিতীয়বার (বর্ষার শেষে)

গোবর বা কম্পোস্ট কেজি

১০

-

-

খৈল (গ্রাম)

২৫০

-

টিএসপি (গ্রাম)

১১৫

-

-

ইউরিয়া (গ্রাম)

-

৫০

৫০

মিউরেট অব পটাশ (গ্রাম)

১১৫

-

-

বয়স অনুযায়ী গাছপ্রতি সারের পরিমাণ ও প্রয়োগের সময় নিচে দেয়া হল (টেবিল-২):

সারের নাম

১ম বছর

২য় বছর

৩য় বছর

৪র্থ বছর

গোবর বা কম্পোস্ট

-

-

টিএসপি (গ্রাম)

-

২৫০

-

-

ইউরিয়া (গ্রাম)

৭৫

৭৫

৭৫

৭৫

মিউরেট অব পটাশ (গ্রাম)

৫০

৫০

৫০

৫০

সার প্রয়োগ: প্রথমবার সার প্রয়োগ করতে হবে বর্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে অথবা বৈশাখ মাসে (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) এবং ২য় বার বর্ষার শেষে অর্থাৎ আশ্বিন (মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য-অক্টোবর) গর্তগুলি ১০-১২ দিন খোলা রাখার পর প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর ও ২৫০ গ্রাম টিএসপি সার গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে পূর্ণ করে রাখতে হবে।

পানি সেচ: রোপনের সময় মাটি শুকনো থাকলে সেচ দিতে হবে। খরা মৌসুমে এমনভাবে সেচ দিতে হবে যাতে মাটিতে সব সময়ে রস থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি একটি ছিদ্রযুক্ত কলসি অথবা ছিদ্রযুক্ত পলিথিন ব্যাগ পানি ভর্তি করে সহায়ক গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ছিদ্র দিয়ে সারাক্ষণ ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়তে থাকলে গাছের বৃদ্ধি এবং ফলের জন্য সবচেয়ে উপকারী। অতি বৃষ্টির সময় যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে সেজন্য নালা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ছাঁটাইকরণ: গোল মরিচ গাছের শাখা প্রশাখা বেড়ে অতিরিক্ত ঝোপ হয়ে গেলে তা সামান্য পরিমাণে পাতলা করে দিতে হবে। প্রথম পাঁচ বছর গোল মরিচ গাছের তেমন কোন ছাঁটাইয়ের প্রয়োজন হয় না। তবে ফসল সংগ্রহের সুবিধার জন্য লতার আগা কেটে দেয়া যেতে পারে। এতে পার্শ্ব শাখাগুলো মজবুত এবং অধিক ফল দেয়। বর্ষা মৌসুমে গোল মরিচ গাছ যেন প্রচুর আলো-বাতাস পায় সেজন্য প্রয়োজনমত সহায়ক গাছ বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ছেঁটে দিতে হবে।

পোকা ও রোগ দমন: লতা রোপণের ৩-৪ বছরের মধ্যে ফসল ধরা শুরু হয়। একটি গাছ পূর্ণ উৎপাদনের অবস্থায় আসে ৭-৮ বছর বয়সে এবং ২০ বছর পর্যন্ত ভাল ফলন দেয়। গোল মরিচ গাছে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথমার্ধে ফুল আসে। ১০-১৫ সে.মি. লম্বা গুচ্ছে খুব ছোট হলুদ ফুল ফোটে যা পরবর্তী সময়ে পাকা বেরিতে (ফল) রুপান্তরিত হয়। ডিসেম্বর (মধ্য-অগ্রহায়ণ থেকে মধ্য-পৌষ) মাসের শেষ ভাগে যখন ২-১ টি ফল লাল হয় তখনই সম্পূর্ণ গুচ্ছটি কেটে নিতে হয়।

ফলন : পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ গড়ে ২.৫-৩ কেজি কাঁচা গোল মরিচ ফলন দেয় যা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শুকনোর পর গড়ে ১.২৫-১.৫০ কেজি হয়।

ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সংগ্রহের পর ফলগুলো গুচ্ছ থেকে আলাদা করে একটি পাত্রে জমা করতে হবে। তারপর দানাগুলো ফুটন্ত পানিতে ১০ মিনিট সিদ্ধ করে পানি ঝরা দিয়ে ফলগুলো রোদে শুকাতে হবে। যে পানিতে দানাগুলো সিদ্ধ করা হয়েছে সেই পানি কিছুক্ষণ পর পর দানাগুলোর উপর ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে শুকনা গোল মরিচের রং সুন্দর হয়, সুগন্ধ অটুট থাকে এবং ঝাল নষ্ট হয় না। এভাবে ৬-৭ দিন ভালভাবে রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা যায়।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন