কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৬:০৩ PM
কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: অর্থকরী প্রকাশের তারিখ: ১৬-০২-২০২৬
আখ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। আজকাল পাট চাষের চেয়ে আখ চাষ অধিক লাভজনক বলে চাষীরা পাটের চেয়ে আখ চাষেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই কিছু না কিছু আখের চাষ হয়, তবে জলবায়ুর প্রভাব অনুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো আখ চাষের জন্য উপযোগী।
উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
• আখ পরিবারভুক্ত ঘাস জাতীয় ১ দণ্ডাকৃতির ডাল পালাহীন একবর্ষ বা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
• গাছের পাতা কিছুটা ভুট্টার পাতার ন্যায় তবে অধিকতর শক্ত ও খাড়া, সুচালো ও কিনারা ধারযুক্ত।
• আখদন্ড উচ্চতায় ১.৮৫-৩.৭২ মিটার পর্যন্ত এমনকি ৯.৩ মিটার পর্যন্ত হয়। দন্ডের কোনোটি নরম এবং কোনোটি
শক্ত, তবে সব দন্ডই গিটযুক্ত।
• আখ দণ্ডের কোনোটির হালকা, বেগুনি, কোনোটি সবুজ ও কোনোটি হলদে সবুজ রংয়ের হয়ে থাকে।
• সকল জাতের আখ গাছেই ফুল হয় না, যেসব জাতে হয় সেগুলোতে গাছের আগায় কাশফুলে মতো সাদা ধবধবে ফুলের শীষ বের হয় ফলে খুব ছোট ধরনের বীজ ধরে সেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না।
প্রয়োজনের তুলনায় বাংলাদেশে চিনির উৎপাদন খুবই কম। এর প্রধান কারণ আখের হেক্টর প্রতি উৎপাদন ও মিলে চিনির উৎপাদন হার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যন্ত কম৷ অধিক উৎপাদনশীল আখের জাতের অভাবও আর একটি কারণ। অন্যান্য কারণ হলো উপযুক্ত সময়ের আগে বা পরে আখ কাটা, আখ মাটিতে পড়ে ও শুকিয়ে যাওয়া, চিনিকলে পৌঁছাতে বা গ্রহণ করতে করতে আখ শুকিয়ে যাওয়া এবং কোনো কোনা সময় কারখানার কারিগরি ভুলত্রুটি ইত্যাদি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ সকল অসুবিধা কাটিয়ে উঠে আধুনিক তথা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ১৩৫-১৩৬ টন আখ অনায়াসেই উৎপন্ন হতে পারে। একইভাবে বলা যায়, চিনিকলের কার্যক্ষমতা ও দক্ষতার উন্নতি সাধন হলে দেশে চিনি উৎপাদনের যথেষ্ট অগ্রগতি হবে।
আখের জাত
বিএসআরআই আখ ৪১
বিএসআরআই আখ ৪২ (রংক্তিলাশ)
বিএসআরআই আখ ৪৩
খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু
বিএসআরআই আখ ৪৪
বিএসআরআই আখ ৪৫
বিএসআরআই আখ ৪৬
আখের চাষাবাদ পদ্ধতি
চাষের উপযুক্ততা
চাষের মৌসুম: অক্টোবর-এপ্রিল (কার্তিক-চৈত্র) এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে রোপণ করা যায়। তবে আগাম রোপণই উত্তম, কারণ এই সময়ে রোপণ করলে-
• আখ যথেষ্ট বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ পায়,
• আখের অঙ্কুরোদগম ঠিকমত হয়, এবং
• আখের সাথে সাথি ফসল চাষ করা যেতে পারে
উপযুক্ত জলবায়ু
আখের জন্য গ্রীষ্ম ও অবগ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু উপযোগ। বেশি গরম ও ঠাণ্ডা উভয়েই আখের জন্য ক্ষতিকর। বাস্তবিকপক্ষে গড়পড়তা দৈনিক ২৫ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা আখ চাষের জন্য সর্বোত্তম। (আখের বৃদ্ধি ৩১ সে. তাপমাত্রার বেশি এবং ১১ সে. এর নিচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়)। মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত অর্থ্যাৎ ১৭৮০-২০৩০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আখ চাষের জন্য ভালো। ৬০ ইঞ্চি অর্থ্যাৎ ১৫২০ সেন্টিমিটার এর কম বৃষ্টি ভালো নয়। তবে সেচের সাহায্যে ৬৩০-৭৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এমন অঞ্চলেও আখ জন্মানো যায়।
মাটির ধরণ
এঁটেল, দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটিতে আখ ভালো জন্মে। গভীর পলিমাটিতেও আখ ভালো উৎপন্ন হয়। বেলে ও ইট পাটকেলযুক্ত মাটিতে আখ মোটেই ভালো হয় না। আখের জমি উঁচু ও সমতল হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেসব নিচু জমিতে সহজেই পানি জমে যায় এবং পানির নিঃসরণ ভালো হয় না সেসব জমি আখ চাষের উপযোগী নয়।
চাষের জন্য উপযুক্ত অঞ্চল
বাংলাদেশের প্রতি জেলাতেই কিছু না কিছু আখের চাষ হয়, তবে জলবায়ুর প্রভাব অনুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো আখ চাষের জন্য উপযোগী। তাই দেখা যায় রাজশাহী, রংপুর দিনাজপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় প্রচুর আখ জন্মে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো মধ্যে ফরিদপুর, ঢাকা ও জামালপুরেও আখের আবাদ ভালো হতে দেখা যাচ্ছে।
জমি তৈরি পদ্ধতি
আখের জমি ৩/৪ বার চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে প্রস্তুত করতে হয়৷ জমি ততো সূক্ষ্মভাবে/ খুব মিহি করে চাষ করার প্রয়োজন হয় না৷ পূর্ববতী ফসল আখ হলে সে ফসলের গোড়া জমি হতে উঠিয়ে অন্যত্র ফেলে দিতে হবে৷ যেহেতু আখের জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন সেজন্য সমস্ত জমিকে ৫০ ফুট ১৫.১ মিটার প্রশস্ত ও ১০০-২০০ ফুট ৩১-৬২ মিটার দৈর্ঘ্য ফালিত ভাগ করে নিলে নিষ্কাশনের জন্য নালা কাটা সুবিধাজনক হয়৷
আখ চাষের জন্য জমি দুই পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা যায়, যথা-
সমতল বা ভাওর পদ্ধিত
এ পদ্ধতিতে ফালি ফালি জমিতে লাঙ্গল দিয়ে ৪৫.৫-৬১ সেন্টিমিটার দূরে দূরে ভাওর করা হয় । তারপর সে ভাওরে আখের টুকরা (sett) বপন করা হয়। তবে এ পদ্ধতির বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। যে কারণে আমাদের দেশে হেক্টর প্রতি আখের ফলন কম হয়। দেশি লাঙ্গলের সাহায্যে “ভাওর” করা হয় বলে গভীরতা খুব একটা হয় না এবং সব জায়গায় সমান হয় না। ফলে লাগানো পর বীজ -আখ প্রায়ই জমির উপর ভেসে থাকতে দেখা যায়। উপরন্তু চৈত্র-বৈশাখ মাসের খরার ফলে মাটিতে রসের অভাবে অনেক সংখ্যক বীজ আখের টুকরা হতে চারা গজাতে পারে না। চারার শিকড় আবার মাটির বেশ উপরিভাগে থাকে বিধায় ঝড়-বৃষ্টির দাপেট সহজেই লুটিয়ে পড়ে।
নালা বা পরীক্ষা পদ্ধতি
এ পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত। এ পদ্ধতিতে ফালি জমিতে ১ মিটার দূরে দূরে নালা কাটতে হয়। ভাওর পদ্ধতিতে আখ চাষের যে সমস্ত অসুবিধা আছে নালা পদ্ধতিতে সেগুলোর অনেকটাই থাকে না। জমির উপরিভাগ শুষ্ক হয়ে গেলেও নালাতে বেশ রস থাকে, ফলে বীজ হতে চারা গাজানো সহজ হয়। তদুপরি সার, পানি গাছের গোড়ায় পৌঁছানো সুবিধাজনক। প্রতিটি নালার মাপ হবে উপর বা মুখ ৩১ সেন্টিমিটার প্রশস্ত নিচ বা তলা ২৩ সেন্টিমিটার প্রশস্ত এবং লম্বায় ৩১-৬২ মিটার। নালা আস্তে আস্তে মাটি দ্বারা ভরাট হওয়ার ফলে গাছের গোড়া খুব দৃঢ়ভাবে মাটিতে আটেক থাকে। ফলে ঝড় বা বাতাসে আখ সহজে মাটিতে পড়ে যায় না। অধিকন্তু এই পদ্ধতিতে মুড়ি আখ ভালোভাবে জণ্মানো যায়।
বীজ বপন পূর্বে করণীয়
বীজ নির্বাচন ও সংগ্রহ: আখের বীজ বলতে আখের ছোট ছোট টুকরাকেই বোঝায়। যে আখ ফসলে রোগ পোকার আক্রমণ ও ভিন্ন জাতের মিশ্রণ নেই সে যেন ফসল হতেই বীজ সংগ্রহ করা শ্রেয়। একটি আখ দণ্ডের দিক হতে বীজ সংগ্রহ করা ভালো, কারণ আগার দিকের বীজ হতেই ভলো চারা গজায়। তাই আগের দিনে চাষীরা শুধু আখের আগা হইতে একটি মাত্র চারা বা বীজ সংগ্রহ করতেন। আসলে নিচের দিকের কিছু অংশ বাদ দিয়ে সমস্ত আখটাই বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাই পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সম্পূর্ণ আখটাই নালায় লম্বালম্বি ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বীজের জন্য কোনো ক্ষেতের আখ নির্বাচন করার পর সেখান হতে বীজ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি আখ ধারালো দা এর সাহায্যে টুকরা টুকরা করতে হয়। প্রতি টুকরাতে তিনটি করে চোখ থাকতে হবে।
বীজ শোধন
আখের বীজ জমিতে লাগাবার আগে শোধন করা একান্ত প্রয়োজন। তাতে বীজ ছাড়া ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ হতে রক্ষা পেয়ে সুষ্ঠুরূপে অঙ্কুরিত হতে পারে। অন্যথায় বীজ লাল পঁচা, স্মাট, রাস্ট প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ায় অঙ্কুরোদগম ব্যাহত হয় এবং চারাগাছ আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। বীজ শোধনের জন্য যেসব ঔষধ পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে এরেটান-৬ ও এগালল উল্লেখযোগ্য। আধাসের এরেটান-৬ দুই মণ বিশ সের পরিষ্কার পানিতে ভালো করে মিশিয়ে দিয়ে তাতে বীজের দুই কাটা প্রায় ডুবিয়ে নিতে হয়। এগালল আধাসের পরিমাণ ১ মণ ১০ সের পরিষ্কার পানিতে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রিত পানিতে ৫ মিনিটকাল বীজ ডুবিয়ে রেখে জমিতে লাগাতে হবে। অধুনা টেকেটা বা ব্যাভিস্টিন নামক ঔষধ দ্বারা বীজ শোধন করা হয়।
বীজ বপন
বীজ বপন পদ্ধতি: কার্তিক-অগ্রহায়ণ হতে শুরু করে ফাল্গুন-চৈত্র মাস পর্যন্ত আখ বপন করা যায়। তবে প্রথমোক্ত সময়টিই শ্রেয়। নালায় বা ভাওরে কয়েক পদ্ধতিতে বীজ লাগানো যায়। মাটির রস, বীজের অবস্থা ও পরিমাণের উপর নির্ভর করে কোনো এক পদ্ধতিতে বীজ বপন করতে হয়। বীজ নিম্নবর্ণিত কয়েকটি পদ্ধতিতে বপন করা যায়:
• মাথায় মাথায় বপন পদ্ধতি: এই নিয়মে একটি বীজ বা টুকরার মাথা অপর একটি টুকরার মাথার কাছাকাছি রেখে বহন করতে হয়।
• আঁকাবাঁকা পদ্ধতি: এই নিয়মে একটি বীজের মাথা অপর আরেকটি বীজের মাথার সঙ্গে বাঁকা অর্থ্যাৎ কোনো পরে লাগাতে হয়।
• দেড়া পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে দুটি টুকরা মাথা মাথায় (১ম পদ্ধতির মতো লাগানোর পর একটি টুকরা সেই দুই মাথা বরাবর সমান্তরাল করে লাগান হয়। অবশ্য এ প্রথায় নালায় দু সারিতে বীজ বপন করতে হয়।
• সমান্তরাল পদ্ধতি: এই নিয়মে প্রথম পন্থাটির ন্যায় এক সারির স্থলে দুই সারি বীজ পাশাপাশি সমান্তরাল করে বপন করতে হয়।
উপরে বর্ণিত যে পন্থা বা পদ্ধতিতেই বীজ বপন করা হোক না কেন তার প্রধান উদ্দেশ্য জমিতে যেন বীজের অঙ্কুরোদগম আশানুরূপ হয়৷ সেজন্য পদ্ধতিগত সুবিধা যাই থাকুক না কেন সব চাইতে বড় কথা হলো নালার মাটিতে বীজ বপন করার পর বীজের চোখ যে মাটি স্পর্শ করে থাকতে হবে। সঠিকভাবে বীজ লাগাবার পর ২/৩ ইঞ্চি অর্থাৎ ৫-৭.৫০ সেন্টিমিটার মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে।
বীজের হার
একর প্রতি ২০-৪০ অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ৩.৭৫-৪.৭৫ টন বীজ লাগে। এক নালা থেকে অন্য নালার দূরত্ব ১.২৫ মি.হলে প্রতি হেক্টরে ৩০০০০টি এবং দূরত্ব ১ মিটার হলে ৩৭৫০০টি তিন বিশিষ্ট বীজ অর্থ্যাৎ আখের টুকরা লাগবে। অবশ্য নালায় বীজ বপনের পদ্ধতি বিভিন্ন হলে বীজের হারে কিছুটা তারতম্য হবে। রোপা আখ চাষে বীজের পরিমাণ প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম লাগে, যেমন প্রতি হেক্টরে ১.৯ টন বীজ।
সেচ ব্যবস্থাপনা
যদি বীজ বপনের পর দেখা যায় যে ১০/১৫ দিনের মধ্যেও অঙ্কুর বের হচ্ছে না তা হলে হালকা ধরনের সেচ দেওয়া ভালো। আখ চাষিরা সাধারণত আখ ফসলে পানি সেচ দেয় না। কিন্তু উত্তম ফলনের জন্য জমিতে সেচ দেওয়া অত্যাবশ্যক। আখ দীর্ঘস্থায়ী ফসল, প্রায় এক বৎসরকাল তা মাঠে থাকে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অন্তত দুটি সময়ে পানি ফসলটির জন্য পানি বিশেষভাবে প্রয়োজন হয়। প্রথমবার জমিতে বীজ বপন ও চারার প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসে যখন বৃষ্টির অভাবে জমির রস দ্রুত কমতে থাকে তখন। সুতরাং আখের ভালো ফলনের জন্য কমপক্ষে দু’বার এবং প্রয়োজনবোধে ততোধিক বার সেচ দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
আগাছা দমন ও মাটি আলগা করা
আখের জমিতে প্রচুর পরিমাণে আগাছা জন্মে। সময়মতো তা নিধন করা প্রয়োজন। দুই থেকে তিনবার আগাছা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হতে পারে। সে সাথে নালার মাটি নরম করে দিতে হয়। সেচ বা বৃষ্টির পর রৌদে নালার মাটির উপরিভাগে শক্ত আবরণের সৃষ্টি হতে পারে। এতে চারা গজানো ও এর বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে নিড়ানির সাহায্যে সেই আবরণ ভেঙ্গে দিয়ে মাটি নরম করে দিতে হয়।
অন্যান্য পরিচর্যা
গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া : আখের গোড়ায় মাটি দেওয়া অত্যাবশ্যক। চারার উচ্চতা যখন ২-৩ ফুট অর্থাৎ ৬০-ঌ০ সেন্টিমিটার হয় তখনই প্রথমবারের মতো মাটি দিতে হয়। দুই সারির মাঝখানে যে মাটি জমা থাকে সেই মাটিই গোড়ায় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইউরিয়া ও সরিষার খৈল প্রয়োগ করার পরেই গোড়ায় মাটি দেওয়ার কাজটি করতে হয়। আখের জমিতে সাথী ফসল থাকলে সেই ফসলটি উঠানোর পরই এই মাটি দেওয়ার কাজটি সমাধান করতে হয়। দ্বিতীয়বার গোড়ায় মাটি দিতে হয় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। এই সময় শেষ বারের মতো ইউরিয়া সারটুকু প্রয়োগ করতে হয়। শেষবারের মতো মাটি দেওয়ার ফলে আখের ক্ষেত্রে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে দুই সারির মাঝখানে যেখানে মাটি উঁচু হয়েছিল সেইস্থলে নিচু নালার সৃষ্টি হয়েছে আর আখের গোড়ার জমি বেশ উঁচু হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালীন পানি এই নালাপথে সহজেই নিষ্কাশিত হয় আর গাছের গোড়া শক্ত হওয়ার ফলে ঝড়-ঝাপটায় সহজেই লুটিয়ে পড়ে না।
আখের জমি একটু নিচু বা অসমান হলে বর্ষার সময় ক্ষেতে পানি জমে যাবার সম্ভাবনা থাকে। নিষ্কাশনের সুবন্দোবস্ত করে বৃষ্টি অথবা সেচের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। নচেত আখের বৃদ্ধি স্থগিত হয়ে যাবে, নানা প্রকার রোগ দেখা দিবে এবং চিনি ও গুড়ের উৎপাদন কমে যাবে।
আখের ঝোপে অনেক দিন পর্যন্ত কুশি বের হয়। পরিপক্ক কুশির আখ কাটার সময় অল্প বয়স্ক অর্থাৎ অপরিপক্ক কুশির আখ এক সঙ্গে কেটে মাড়াই করলে তা হতে নিম্নমানের রস ও চিনি উৎপন্ন হয়। সেইজন্য ২/৩ মাস পরে যে সমস্ত কুশি বের হয় সেগুলো কেটে ফেলা উচিত।
আখের বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার
খোল পঁচা রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
আংটি দাগ রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
মোজাইক রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
চক্ষু দাগ রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
সাদা পাতা রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
কালো শীষ রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
সুটিমোল্ড রোগ
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
বীজ পঁচা রোগ Seed Rot of Sugarcane
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
উইল্ট রোগ (Wilt of Sugarcane)
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
আখের পাতার লাল ডোরা দাগ/ডগা পচা রোগ
এটি (Pseudomonas sp.) ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
আখের লাল পচা রোগ
এটি (Colletotrichum falcatum) ছত্রাকজনিত রোগ।
লক্ষণ
সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা
আখের পোকা ও প্রতিকার ব্যবস্থাপনা
আখের কান্ডের মাজরা পোকা
লক্ষণ
ব্যবস্থাপনা
সাবধানতা
১। একই জমিতে পরপর আখ চাষ করবেন না।
২। গমের জমির পাশে বা গমের সঙ্গে আখ চাষ পরিহার করা।
আখের উঁইপোকা
লক্ষণ
ব্যবস্থাপনা
রিজেন্ট ৩ জিআর ৩৩.০ কেজি/হে., নালায় সেট বসানোর পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করা এবং যথাশীঘ্র সেট ও কীটনাশক মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া । মাটিতে জোঁ থাকা বাঞ্চনীয়।
আখের জাবপোকা বা এফিড
লক্ষণ
ব্যবস্থাপনা
প্রতি গাছে ৫০টির বেশি পোকার আক্রমণ হলে এডমেয়ার ০.৫ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করা।
তথ্যসূত্র: কৃষিকথা, বিএসআরআই ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট plant disease clinic BAU
গোলাম আরিফ, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, পাবনা।