কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ এ ১২:৫৪ PM

হলুদ চাষ

কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: মসলা প্রকাশের তারিখ: ০৯-০৩-২০২৬

মসলা ফসলের মধ্যে হলুদ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। প্রতিদিনের রান্নায় হলুদের ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশী। মসলা হিসাবে ব্যবহার ছাড়াও অনেক ধরণের প্রসাধণী কাজে ও রং শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ি, ময়মনসিংহ, নীলফামারী ও পার্বত্য জেলা সমূহে হলুদের ব্যাপক চাষাবাদ হয়। এতে আমিষ, চর্বি এবং প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ক্যারোটিন থাকে। হলুদ পাকস্থলীর গ্যাস নিবারণ করে, মুত্রনালীর রোগ নিবারণ করে, ক্ষত শুকাতে ও ব্যাথা নিবারণে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে দেশে মোট চাহিদার তুলনায় হলুদের ঘাটতি রয়েছে। হলুদ উৎপাদনে বারি উদ্ভাবিত হলুদ জাতের চাষ এলাকা বাড়িয়ে হলুদের এ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব ।

হলুদের জাত: মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত হলুদের তিনটি উচ্চ ফলনশীল জাত হচ্ছে বারি হলুদ-১ (ডিমলা), বারি হলুদ-২ (সিন্দুরী), বারি হলুদ-৩, বারি হলুদ-৫। বারি হলুদ ১ (ডিমলা) স্থানীয় জাতের তুলনায় ডিমলার ফলন প্রায় ৩ গুন। গাছের উচ্চতা প্রায় ১০৫-১২০ সে.মি.। বপনের ৩০০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হলুদের ছড়া চওড়া, হেক্টরপ্রতি ফলন ১৭-১৮ টন। প্রতি ৮ কেজি শুকনো হলুদ পেতে ৪০ কেজি কাঁচা হলুদের প্রয়োজন হয়(১:৫)। এ জাত লিফ ব্লাইট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। বারি হলুদ-২ (সিন্দুরী) স্থানীয় জাতের তুলনায় ফলন দ্বিগুন। গাছের উচ্চতা ৬০-৭০ সে.মি. বপনের পর থেকে প্রায় ২৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হলুদের ছড়ার আকার মাঝারী। শাঁস আকর্ষণীয় গাঢ় হলুদ। হেক্টরপ্রতি ফলন ১২ ১৩ টন। প্রতি ১০ কেজি শুকনো হলুদ তৈরিতে ৪০ কেজি কাঁচা হলুদ প্রয়োজন হয় (১:৪)। এ জাত লিফ ব্লাইট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। বারি হলুদ-৩ এ জাতের গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় ১১০-১২৫ সে.মি.। প্রতি গাছে মোথার ওজন প্রায় ১৫০-১৮০ গ্রাম এবং প্রতি গাছে হলুদের ওজন প্রায় ৭০০-৮০০ গ্রাম হয়ে থাকে। রং গাঢ় হলুদ। হেক্টরপ্রতি ফলন ২৫-৩০ টন। শুষ্ক পদার্থের পরিমাণ শতকরা ১৪-১৫%। বারি হলুদ-৪ গাছের উচ্চতা ১১০-১২০ সে.মি.। পাতার সংখ্যা ২২-২৮ টি, পাতা ৫০-৫২ সে.মি. লম্বা। পাতার রং হালকা সবুজ। প্রতি গোছায় গাছের সংখ্যা ৩-৫টি। প্রতি গোছায় মোথার সংখ্যা ৩-৫টি (৫৫-৬০ গ্রাম), ছড়ার (ফিংগার) সংখ্যা ২২-২৫ টি (৪৫০-৫৫০ গ্রাম), ছড়া (ফিংগার) ৯.০-৯.৫ সে.মি. লম্বা এবং ২.৫-৩.০ সে.মি. চওড়া। জাতটির হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ২৮-৩০ টন। বারি হলুদ-৫ গাছের উচ্চতা ১২০-১৩৫ সে.মি. ও পাতার সংখ্যা ২৪-৩০টি। পাতা ৬২-৬৫ সে.মি. লম্বা এবং ১৮-২০ সে.মি. চওড়া। পাতার রং হালকা সবুজ। প্রতি গোছায় গাছের সংখ্যা ৪-৬টি। প্রতি গোছায় মোথার সংখ্যা ৩-৪ টি (৩০-৪০ গ্রাম)। জাতটির হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ১৮-২০ টন।

চাষের মৌসুম: খরিফ-১ মৌসুমে সাধারণত মধ্য এপ্রিল থেকে মে মাসের ১ম সপ্তাহ (বৈশাখের ১ম থেকে ৩য় সপ্তাহ) হলুদ লাগানোর উপযুক্ত সময়। উভয় জাতই রোপণ করার ৯-১০ মাস পর উত্তোলন করা যায়।

বংশ বিস্তার: রূপান্তরিত কাণ্ড অর্থাৎ রাইজোম (কন্দ) দ্বারা হলুদের বংশ বৃদ্ধি হয়। মাতৃকন্দ ও পার্শ্বকন্দ (ফিংগার) বীজ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পরিপুষ্ট, সুস্থ, চকচকে ও রোগবালাই মুক্ত কন্দ নির্বাচন করতে হবে। অপর দিকে অন্যান্য হলুদ জাতের মত মাতৃকন্দের স্বল্পতায় সেকেন্ডারী ফিংগার ও বীজ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বীজ শোধন: বীজ বাহিত বিভিন্ন রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বীজ শোধন পূর্বশর্ত। হলুদের বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করা যায়। সেক্ষেত্রে রোপণের ৬-৮ ঘন্টা আগে অটোস্টিন ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে হলুদ ৩০-৪০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, তারপর পানি থেকে রাইজোম তুলে নিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।

মাটি শোধন: ভাল ফলন পেতে হলে বীজ ও মাটি বাহিত রোগ থেকে হলুদ ফসলকে মুক্ত রাখার জন্য মাটি শোধন করা আবশ্যক। শেষ চাষের আগে ফুরাডান বা কুরাটার ৫ কেজি হেক্টর হারে প্রতি ২৫-৩০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। ভাল ফলন পেতে হলে শস্য পর্যায় অবলম্বন করা আবশ্যক। পূর্ববর্তী ফসল আদা ও হলুদ জমিতে লাগালে পরের বছর সেই জমিতে হলুদ চাষ করা ঠিক নয়। তাছাড়া আলু বা অন্যান্য কন্দ জাতীয় ফসল মুক্ত জমি হলুদ চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

জমি তৈরি: মাটি গভীরভাবে কর্ষণ করে ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। মাটি যাতে ঝুরঝুরে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আগাছা, ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ জমি থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। মাটির বড় বড় ঢিলা ভেঙ্গে ছোট করতে হবে। সর্বোপরি ভালভাবে মই দিয়ে জমি সমান করে নিতে হবে।

বীজ লাগানো: সাধারণত ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ১-২টি ঝুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগাতে হয়। সাধারণত ২টি পদ্ধতিতে হলুদ রোপণ করা যায়। একটি হলো বেড পদ্ধতি (Bed Method) অপরটি নালা পদ্ধতি (Ridge Method)। প্রথম পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত হবার পর ১.২-১.৮ মি. প্রস্থ ও ২৫-৩০ সে.মি. উচ্চতায় সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যে বেড তৈরি করতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য দুই বেডের মাঝে ৬০ সে.মি. প্রশস্ত নালা রাখতে হবে। এই পদ্ধতিতে ৬০ সে.মি. পরপর সারি টেনে সারিতে ২৫ সে.মি. পরপর ৭-৮ সে.মি. গভীরে বীজ কন্দ (রাইজোম) রোপণ করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পরবর্তীতে দুই বেডের মাঝের নালা থেকে মাটি উঠিয়ে দিতে হবে। নালা পদ্ধতিতে সারি টেনে বীজ কন্দ রোপণ করে দু’সারির মাঝের মাটি উঠিয়ে বীজ কন্দ ভালভাবে ঢেকে দিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি:

গোবর ৫ টন

ইউরিয়া ৩২৫ কেজি

টিএসপি ৩০০ কেজি

এমওপি ২৮০ কেজি

জিপসাম ১৪০ কেজি

বরিক এসিড ৮ কেজি

জিংক সালফেট ১৪ কেজি

তবে মাটির উর্বরতার উপর নির্ভর করে বর্ণিত মাত্রা কম বেশি হতে পারে। জমি পরিষ্কার করে শেষ চাষের সময় বীজ রোপণের ৫-৭ দিন আগে সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বরিক এসিড, জিংক সালফেট অর্ধেক এমওপি সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সারের অর্ধেক বীজ রোপণের ৫০-৬০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান দুই কিস্তিতে রোপণের ৮০-৯০ ও ১১০-১২০ দিন পর দ্বিতীয়বার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা

আগাছা দমন: আগাছা জমি থেকে খাদ্য, আলো বাতাস ও স্থান দখল করে হলুদ গাছকে দুর্বল করে ফেলে। তাছাড়া আগাছা বিভিন্ন রোগ ও পোকা-মাকড়ের আবাসস্থল হিসাবে কাজ করে। এতে ফসল সহজেই রোগ ও পোকা-মাকড় দ্বারা মসলা ফসল আক্রান্ত হয় ও ফলন হ্রাস পায়। এজন্য হলুদের জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। জমির অবস্থা বুঝে ৩-৪ বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণত আগাছা পরিষ্কার করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সেক্ষেত্রে রোপণের ৫০-৬০, ৮০-৯০ ও ১১০-১২০ দিন পর আগাছা পরিষ্কার করলে ফলন ভাল হয়।

গোড়ায় মাটি তুলে দেয়া: রাইজোমের সঠিক বৃদ্ধি এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ২-৩ বার হলুদের দুই সারির মাঝখান থেকে মাটি তুলে সারি বরাবর গাছের গোড়ায় দিতে হবে। এতে করে হলুদের উপর থেকে মাটি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। সাধারণত আগাছা পরিষ্কারের পরপরই গোড়ার মাটি তুলে দেওয়া হয়।

পানিসেচ ও নিষ্কাশন: হলুদ ফসল সাধারণত বৃষ্টি নির্ভর। তবে মাটি শুষ্ক হলে বীজ রোপণের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে। তাছাড়া মাটির ধরন ও আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে ৪-৫টি সেচের দরকার হতে পারে। হলুদের জমিতে পানি জমে থাকলে সহজেই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। বৃষ্টির পানি যেন কোনভাবেই জমিতে না জমে সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। নালা করে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মালচিং: খড় বা লতা-পাতা দিয়ে জমি ঢেকে দেওয়াকে সহজ অর্থে মালচিং বলা হয়। হলুদ রোপণ করার পর মালচিং একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা, পরীক্ষণে দেখা গেছে যে, জমিতে রস সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিক্ষয় রোধের জন্য হেক্টর প্রতি ৮-১০ টন শুকনো পাতা বা খড় দিয়ে হলুদের জমি ঢেকে দিতে হবে। এতে আগাছার পরিমাণও কমে যায়। পরে মালচিং হিসাবে ব্যবহৃত পাতা বা খড় পচে জমিতে জৈব সার তৈরি করে।

রোগ ও পোকা আক্রমণ

লিফব্লচ:Taphrina maculans নামক ছত্রাক দ্বারা আক্রমণ হয়। আক্রান্ত রাইজোম ও বায়ুর মাধ্যমে রোগের বিস্তার ঘটে। গাছের আক্রান্ত শুকনো পাতা যেগুলো জমিতে পড়ে থাকে তার মাধ্যমে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। যখন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০% এবং তাপমাত্রা ২১-২৩ ডিগ্রী সে. থাকে তখন প্রাথমিক সংক্রমণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ঠান্ডা এবং আর্দ্র আবহাওয়া রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়।

ক্ষতির ধরন: সাধারণত গাছ একটু বড় হলেই এ রোগ দেখা যায়। পাতা আক্রান্ত হওয়ার ফলে অনেক আগেই গাছ শুকিয়ে যায়। গাছ খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। ফলে রাইজোমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরিশেষে ফলন হ্রাস পায়। মসলা ফসল কৃষি প্রযুক্তি হাতবই ৩৭১ রোগের লক্ষণ এ রোগটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাতার উভয় পৃষ্ঠায় ছোট ছোট গোলাকার বাদামী দাগের উপস্থিতি এবং পাতার উপর পৃষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রথমে গাছের নিচের দিকের পাতা ফ্যাকাশে হলুদ রং ধারণ করে। পরবর্তীতে দাগগুলো অতিদ্রুত একত্রিত সহয়ে সমস্ত পাতা হলুদ করে ফেলে। গাছ ঝলসানোর মত মনে হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।

দমন ব্যবস্থা: রোগমুক্ত জমি থেকে সংগৃহীত সুস্থ রাইজোম বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে। রোগাক্রান্ত এবং শুকনো পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। বীজ রোপণের আগে ম্যানকোজেব (০.৩%) অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের কোন ছত্রাকনাশক অথবা স্কোর (০.০৫%) এর দ্রবণে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে বীজ হলুদ শোধন করে নিতে হবে। রোগ দেখা দেওয়া মাত্রই অটোস্টিন ২ গ্রাম অথবা মেটারিল ২.৫ গ্রাম অথবা ফলিকুর ১ মিলি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ৩-৪ বার সম্পূর্ণ জমির গাছের পাতায় ভালভাবে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পাতার উভয় দিকে ছত্রাকনাশক ভালভাবে লাগে।

রাইজোম রট বা কন্দ পচা: Pythium graminicolum ছত্রাক দ্বারা এই রোগ সৃষ্টি হয়। প্রথমে গাছের নিচের পাতা হলুদ হতে শুরু করে এবংএক সময় পুরো গাছের পাতাই হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। কাণ্ডের গোড়ার দিকে পানি ভেজা দাগ দেখা যায় যা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। আক্রান্ত কাণ্ড ভেঙ্গে যায় যা হাত দিয়ে টান দিলে সহজেই উঠে আসে। এই রোগ আস্তে আস্তে মাটির ভিতরের রাইজোমে ছড়িয়ে পড়ে এবং পচন সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে পুরো রাইজোমে পচন ধরে এবং পচা রাইজোম হতে দুর্গন্ধ বের হয়।

দমন ব্যবস্থা: রোগ মুক্ত জমি হতে সংগৃহীত সুস্থ রাইজোম বীজ হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখতে হবে। শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে। একই জমিতে দুই বছর অন্তর অন্তর হলুদ চাষ করলে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। রোগাক্রান্ত এবং শুকনো পাতা সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে। রোগ দেখা দেওয়া মাত্রই অটোস্টিন ১ গ্রাম/লিটার অথবা মেটারিল ২.৫ গ্রাম/লিটার অথবা ফলিকুর ১ মিমি./লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর ৩-৪ বার সম্পূর্ণ জমির গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে যাতে মাটিও ভিজে যায়। বীজ রোপণের আগে ম্যানকোজেব (০.৩%) অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের কোন ছত্রাকনাশক অথবা স্কোর (০.০৫%) এর দ্রবণে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে বীজ হলুদ শোধন করে নিতে হবে।

ফসল সংগ্রহ: রোপণের ৯-১০ মাস পর গাছের উপরের অংশ হলুদ রং ধারণ করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ফসল সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বীজ হলুদ সংগ্রহের জন্য সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্য থেকে শেষ সপ্তাহ উপযুক্ত সময়। এছাড়াও প্রায় এক মাস আগে অবীজ বা খাওয়ার জন্য (Fresh consumption) রাইজোম উত্তোলন করা যেতে পারে। কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি আলগা করে নিতে হয়। এরপর রাইজোম সংগ্রহ করে শিকড় কেটে মাটি পরিষ্কার করা হয়। হলুদ উত্তোলনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন রাইজোম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

কিউরিং: হলুদের রাইজোম পরিষ্কার করার পর মোথা ও ছড়া পৃথক করতে হবে। সংগ্রহকৃত রাইজোম ছায়াযুক্ত পরিষ্কার স্থানে গাদা করে রাখা হয়। একে কিউরিং বলে। ২-৩ দিন হলুদের কিউরিং করা হয়। কিউরিং শেষ হলে বীজ হিসাবে সংরক্ষণ বা খাওয়ার জন্য সিদ্ধ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়।

সংরক্ষণ: হলুদ সংরক্ষণের জন্য সতেজ ও রোগমুক্ত রাইজোম নির্বাচন করতে হবে। গর্ত খনন করে হলুদ রাখলে রাইজোমের আর্দ্রতা ও সতেজতা বজায় থাকে, ফলে বাজার মূল্য সঠিক থাকে। খড় বা ছনের চাল যুক্ত ঘরের মেঝেতে গর্ত করে হলুদ সংরক্ষণ করা হয়। ঘরের ভেতর বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২৪ ইঞ্চি প্রশস্ত ১৫ ইঞ্চি গভীর ও প্রয়োজন মত লম্বা গর্ত করা যেতে পারে। তবে গভীরতা বজায় রেখে যেকোন মাপের গর্ত করা যায়। গর্ত করার পর ২-৩ দিন খুলে রাখতে হবে যাতে মাটির অতিরিক্ত রস বের হয়ে যায়। শুকিয়ে অতঃপর গর্তের তলদেশে ২ ইঞ্চি পুরু করে শুকনো বালি বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর বাছাই করা হলুদ গর্তে ১০ ইঞ্চি পুরু করে বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর হলুদের স্তরের উপর ৩ ইঞ্চি পুরু মাটি বালি দিয়ে পুরো গর্ত ভালভাবে ঢেকে দিতে হবে।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন