কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৩:১৩ PM
কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: ফল প্রকাশের তারিখ: ২৮-০২-২০২৬
স্ট্রবেরি উৎপাদন প্রযুক্তি
স্ট্রবেরি (Fragaria × ananassa) Rosaceae পরিবারভুক্ত একটি শীতকালীন গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। স্বল্প মেয়াদী ফল ফসল হিসাবে মৃদু শীত প্রধান দেশে এর কদর রয়েছে। স্ট্রবেরি গাছ দেখতে অনেকটা থানকুনি অথবা আলুর গাছের মত, তবে পাতা আরো বড় এবং চওড়া। এর ফল অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু। কাঁচা ফলের রঙ সবুজাভ, পাকলে উজ্বল টকটকে লাল হয়। আকর্ষণীয় বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি খুবই জনপ্রিয়।
চাষের এলাকা
স্ট্রবেরি মৃদু শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে চাষোপযোগী স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন করায় দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্ট্রবেরির আগমন ঘটে বাংলাদেশে এবং ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে এর চাষ। বর্তমানে বাংলাদেশের শীত বেশি পড়ে ও বেশি দিন থাকে এমন প্রায় ২৫টি জেলায় সাফল্যের সাথে স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় বিশেষ করে পঞ্চগড়, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও সহ পাবনা, নাটোর, বগুড়া, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল, ময়মনসিংহ, মধুপুর, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় স্ট্রবেরি চাষ করা হচ্ছে।
পুষ্টিমান ও ব্যবহার
স্ট্রবেরি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি রসালো ফল। এর প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- পানি ৯১.৬৭ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩০ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৬১ গ্রাম , চর্বি ০.৩৭ গ্রাম , শর্করা ৭.০১ গ্রাম , ক্যালসিয়াম ১৩.৮৯, লৌহ ০.৩৮, ম্যাগনেসিয়াম ৯.৭২, ফসফরাস ১৮.৭৫, পটাশিয়াম ১৬৭.০০, ভিটামিন সি ৫৭.০০, নিয়াসিন ০.২৩ মিলিগ্রাম করে বিদ্যমান রয়েছে। স্ট্রবেরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমায়, ডায়াবেটিস ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ওজন কমাতে সহায়ক, দেহের হাড় ও ত্বক সুরক্ষা করে, চুল পড়া রোধ করে , স্মৃতিশক্তি এবং রূপচর্চায় উপযোগী। ফল হিসেবে খাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে, খাদ্যের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ বৃদ্ধিতেও স্ট্রবেরি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রবেরি রেফ্রিজারেটরে দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।
স্ট্রবেরির জাত
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্ট্রবেরির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিবেচনায় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারি স্ট্রবেরি-১, বারি স্ট্রবেরি-২ ও বারি স্ট্রবেরি-৩ নামে ৩টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলোর মধ্যে ‘বারি স্ট্রবেরি-১’ বাংলাদেশের সবখানেই চাষযোগ্য একটি উচ্চফলনশীল জাত। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত জাত রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩, ফ্রিডম-২৪ এবং মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টার, নাটোর থেকে প্রচলিত জাত মডার্ন স্ট্রবেরি-১, মডার্ন স্ট্রবেরি-২, মডার্ন স্ট্রবেরি-৩, মডার্ন স্ট্রবেরি-৪, মডার্ন স্ট্রবেরি-৫; আমাদের দেশে চাষযোগ্য জাত।
বারি স্ট্রবেরি-১
বাংলাদেশের সর্বত্র চাষোপযোগী একটা উচ্চ ফলনশীল জাত। গাছের গড় উচ্চতা ৩০ সেমি এবং বিস্তার ৪৫-৫০ সেমি। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। প্রতি গাছে ৩২ টি ফল ধরে যার মোট গড় ওজন ৪৫০ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ১০-১২ টন। হৃৎপিন্ডাকৃতির ফল ক্ষুদ্র থেকে মধ্যম আকারের যার গড় ওজন ১৪ গ্রাম। পাকা ফল আকষর্ণীয় টকটকে লাল বর্ণের। ফলের ত্বক নরম ও ঈষৎ খসখসে। ফলের শতভাগ ভক্ষণযোগ্য। স্ট্রবেরির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধযুক্ত ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি (টিএসএস-১২%)। জাতটি পর্যাপ্ত সরু লতা ও চারা উৎপাদন করে বিধায় এর বংশ বিস্তার সহজ।
মাটি ও আবহাওয়া
স্ট্রবেরির ভালো ফলন ও গুণগত মানের জন্য মাটি, আলো এবং তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রবেরি গাছের প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সূর্যালোক প্রয়োজন। সকালের হালকা সূর্যালোক আর শেষ বিকেলের মৃদু রৌদ্র গাছের জন্য উপকারী। অপর্যাপ্ত আলো পেলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফল ছোট হয়। তুলনামূলক তাপ সহিষ্ণু বা গ্রীষ্মায়িত জাতের জন্য দিন ও রাতে যথাক্রমে ২০-২৬ ডিগ্রি ও ১২-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। বেশি তাপমাত্রায় গাছের পাতা শুকিয়ে যেতে পারে এবং ফলের রং ও আকৃতি নষ্ট হয়। ফুল ও ফল আসার সময় শুষ্ক আবহাওয়া আবশ্যক। স্ট্রবেরির জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ায় রবি মৌসুমে চাষের উপযোগী কারণ এই সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। তবে রাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য পলিথিন শেড ব্যবহার করা যেতে পারে। বৃষ্টির পানি জমে না এ ধরনের উর্বর দো-আঁশ থেকে বেলে-দোআঁশ মাটি স্ট্রবেরি চাষের জন্য উত্তম। তাছাড়া বসত-বাড়ির ছাদ বাগানে , আঙ্গিনায়, ও টবে সাফল্যজনক ভাবে স্ট্রবেরি চাষ করা সম্ভব।
চারা উৎপাদন
স্ট্রবেরি বীজ এবং রানারের (কচুর লতির মতো লতা) মাধ্যমে বংশবিস্তার করে থাকে। সাধারণত বাড়িতে শখের বশে স্ট্রবেরি গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে বীজ দ্বারা এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে রানারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়। বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযুক্ত। বীজ বপনের পর নিয়মিত মাটিতে পানি দিতে হয় এবং ছায়াযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হয়। চারা তৈরি করতে সময় লাগে ৩-৪ সপ্তাহ। চারা যখন ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন তা জমিতে রোপণ করা যায়। রানার হতে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের গাছ নষ্ট না করে জমি থেকে তুলে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে রোপণ করতে হবে। ওই গাছ থেকে উৎপন্ন রানারের শিকড় বের হলে তা কেটে ৫০ ভাগ গোবর ও ৫০ ভাগ পলিমাটিযুক্ত পলিথিন ব্যাগে লাগাতে হবে। এরপর পলিথিন ব্যাগসহ চারাটি হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য চারার উপর পলিথিনের ছাউনি দিতে হবে। স্ট্রবেরি গাছ এক বা দুই বছরের বেশি পুরানো হলে উৎপাদনশীলতা এবং ফলের মান হ্রাস পেতে শুরু করে। তাই জাতের ফলন ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা ব্যবহার করা ভালো।
জমি তৈরি
স্ট্রবেরী উৎপাদনের জন্য আগাছা পরিষ্কার করে অন্ততঃ ১ফুট গভীর করে কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে ৩০ গ্রাম-শতাংশ হারে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিলে মাটিবাহিত রোগ জীবাণু নষ্ট হয়। শেষ চাষের সময় পরিমানমতো সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। স্ট্রবেরি চাষে জমির পিএইচমান কম হলে জমিতে চুন দিয়ে জমির পিএইচ বাড়াতে হবে। স্ট্রবেরির জন্য মাটির পিএইচ মান ৬.০ থেকে ৭.০ হলে ভাল হয়।
চারা রোপণ
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাস (সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। স্ট্রবেরি বেডে অথবা সমতল পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। তবে ফাটিগেশন পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য বেড পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এ জন্য ১ মিটার প্রশস্ত এবং ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হবে। প্রতি বেডে ৫০-৬০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুই সারিতে ৩০-৪০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে সোজা করে চারা রোপণ করতে হবে। এভাবে চারা লাগালে প্রতি শতকে প্রায় ১৫০টি চারা রোপণ করা যায়। আগাম রোপণের জন্য পাতলা এবং নাবি রোপণের জন্য ঘন করে চারা লাগাতে হবে।
সার ও সেচ প্রয়োগ
ভালোমানের স্ট্রবেরি ফলের উচ্চফলন পেতে হলে মাটি পরীক্ষা করে জমিতে নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণ হিসেবে প্রতি শতক জমিতে শুকনা পঁচা গোবর সার ১০০-১২০ কেজি, ইউরিয়া সার ১ কেজি, টিএসপি সার ৮০০ গ্রাম, এমওপি সার ৯০০ গ্রাম, জিপসাম সার ৬০০ গ্রাম ব্যবহার করতে হবে। শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম ও অর্ধেক পরিমাণ এমওপি সার জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও অবশিষ্ট এমওপি সার চারা রোপণের ১৫ দিন পর থেকে ১৫-২০ দিন পর পর ৪-৫টি কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে রসের অভাব দেখা দিলে প্রয়োজনমতো পানি সেচ দিতে হবে। ফল ধরা শুরু হলে ২-৩ দিন পর পরই সেচ দিতে হবে। স্ট্রবেরি জলাবদ্ধতা একদমই সহ্য করতে পারে না। তাই বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে না হলে গাছ পঁচে যাবে।
মালচিং ও অন্যান্য যত্ন
স্ট্রবেরি উৎপাদনে মাল্চ অপরিহার্য কারণ সরাসরি মাটির সংস্পর্শে এলে স্ট্রবেরির ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রবেরি চাষের সূচনালগ্নে এতে মাল্চ হিসেবে খড় ব্যবহার করা হতো বিধায় এর নাম হয়েছে স্ট্রবেরি। চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর স্ট্রবেরির বেড খড় বা কাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। খড়ে যাতে উঁইপোকার আক্রমণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ মিলিলিটার ডার্সবান ২০ ইসি ও ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ডিএফ মিশিয়ে ওই দ্রবণে খড় শোধন করে নিলে তাতে উঁইপোকার আক্রমণ হয় না এবং দীর্ঘদিন তা অবিকৃত থাকে। গাছের গোড়া থেকে নিয়মিতভাবে রানার বের হয়। ওই রানারগুলো ১০-১৫ দিন পর পর কেটে ফেলতে হবে। রানার কেটে না ফেললে গাছের ফুল ও ফল উৎপাদন হ্রাস পায়। পলিথিন সিট ৩০ সেন্টিমিটার পর গোলাকার ছিদ্র করে স্ট্রবেরি গাছের ঝোপকে মুঠো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। বেশি ফলন ও তাড়াতাড়ি ফল পেতে হরমোন গাছ পাতায় স্প্রে করা যেতে পারে।
মাতৃ গাছ রক্ষণাবেক্ষণ
স্ট্রবেরি গাছ প্রখর সৌর-তাপ এবং ভারি বর্ষণ সহ্য করতে পারে না। এজন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা ফল আহরণের পর মাতৃগাছ তুলে টবে রোপণ করে ছায়ায় রাখতে হবে। ফল আহরণ শেষ ছায়ার পর সুস্থ-সবল গাছ তুলে পলিথিন ছাউনির নিচে রোপণ করলে মাতৃ গাছকে খরতাপ ও ভারি বর্ষণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যাবে। মাতৃ গাছ থেকে উৎপাদিত রানার পরবর্তী সময়ে চারা হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।
রোগ ব্যবস্থাপনা
পাতায় দাগ পড়া রোগঃ কোনো কোনো সময় পাতায় বাদামি রংয়ের দাগ পরিলক্ষিত হয় । এ রোগের আক্রমণ হলে ফলন এবং ফলের গুণগত মান হ্রাস পায় ।
প্রতিকারঃ সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করে সুফল পাওয়া যায় ।
ফল পচা রোগঃ এ রোগের আক্রমণে ফলের গায়ে পানি ভেজা বাদামি বা কালো দাগের সৃষ্টি হয় । দাগ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায় ।
প্রতিকারঃফল পরিপক্ব হওয়ার পূর্বে নোইন ৫০ ডব্লিওপি অথবা অটোস্টিন নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ভার্টিসিলিয়াম উইল্টঃ এ রোগে আক্রান্ত গাছ হঠাৎ করে দুর্বল ও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং মারা যায় । আক্রান্ত ক্রাউন মাঝ বরাবর লম্বালম্বি ব্যবচ্ছেদ করলে কাণ্ডের মাঝ বরাবর বিবর্ণ-ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত জলাবদ্ধতা সম্পন্ন জমিতে এ রোগের আক্রমণ বেশি হয় ।
প্রতিকারঃ জমি শুষ্ক রাখতে হবে। পলিথিন মালচিং ব্যবহার করলে তা তুলে ফেলতে হবে। কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন বোর্দ্দোমিক্সার (১:১:১০) ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার গাছের গোড়া ও মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। প্রতি হেক্টর জমির জন্য ৫ কেজি ট্রাইকোডামা ভিরিডি ২৫ কেজি জৈবসারের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।
বালাই ব্যবস্থাপনা
পাখিঃ পাখি বিশেষ করে বুলবুলি, দোয়েল, শ্যামা প্রভৃতি পাখি স্ট্রবেরির সবচেয়ে বড় শত্রু। ফল আসার পর সম্পূর্ণ পরিপক্ব হওয়ার পূর্বেই পাখির উপদ্রব শুরু হয় । পাখি পাকা ও আধাপাকা ফল নষ্ট করে এবং খাওযার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
প্রতিকারঃ আলোক প্রতিসরণশীল প্লাস্টিক বা সিল্ভার স্ট্রিপ ব্যবহারের মাধ্যমে বা বাগানে শব্দ তৈরি করে পাখি তাড়ানো যায় । ফল আসার পর সম্পূর্ণ বেড জাল দ্বারা ঢেকে দিতে হবে যাতে পাখি ফল খেতে না পারে।
ভাইরাসঃ ভাইরাস রোগের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা এবং গুণগতমান হ্রাস পেতে থাকে। সাদা মাছি পোকা এ ভাইরাস রোগ ছড়ায় ।
প্রতিকারঃ এডমায়ার ২০০ এসএল নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ০.২৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করে সাদামাছি পোকা দমন করলে ভাইরাস রোগের বিস্তার রোধ করা যায় ।
মাইটঃ মাইটের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা ও গুণগতমান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় । এদের আক্রমণে পাতা তামাটে বর্ণ ধারণ করে ও পুরু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে কুচকে যায় । গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ।
প্রতিকারঃ ভারটিমেক ১৮ ইসি নামক মাকড় নাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
স্ট্রবেরির ফল সংগ্রহ পৌষ মাসে শুরু হয়ে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে। ফল পেকে লাল বর্ণ ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হয় । স্ট্রবেরির সংরক্ষণ কাল খুবই কম বিধায় ফল সংগ্রহের পর পরই তা টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা ডিমের ট্রেতে এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায় না থাকে। ফল সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত অথবা রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হবে। স্ট্রবেরির সংরক্ষণকাল ও পরিবহন সহিষ্ণুতা কম হওয়ায় বড় বড় শহরের কাছাকাছি এর চাষ করা উত্তম।
বিক্রি
বিক্রির জন্য ফল পুরো লাল হওয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে ফলগুলো শক্ত থাকা অবস্থায় তুলতে হবে। আর ফল তুলতে হবে বোটা সমেত। পরে কাগজের প্যাকেটে করে বাজারজাত করতে হবে। ফল তোলার পর ১০-১২ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
ফলন
হেক্টরপ্রতি ৩৫-৪০হাজার চারা রোপণ করা যায়।প্রতি গাছে গড়ে ২৫০-৩০০গ্রাম হিসাবে হেক্টর প্রতি ১০-১২টন স্ট্রবেরি পাওয়া যায়।
স্ট্রবেরি চাষের তথ্য সূত্রঃ
১। কৃষি প্রযুক্তি হাত বই
২। কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট
৩। স্ত্রবেরি চাষ কৌশল, কৃষি বাতায়ন
৪। স্ট্রবেরি চাষ পদ্ধতি, ঢাকা মেইল ওয়েবসাইট, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩। লেখকঃ ড. মো. মসিউর রহমান, ঊর্ধবতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৫। স্ট্রবেরি- উইকিপিডিয়া
৬। দেশে স্ট্রবেরির নতুন জাত ফ্রিডম–২৪, প্রথম আলো, ৩০ মার্চ ২০২৫,
৭। বসত-বাড়ির ছাদ বাগানে , আঙ্গিনায়, ও টবে স্ট্রবেরি চাষ শিক্ষক বাতায়ন, ১৬ মার্চ, ২০২৩