কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০১:১৮ PM
কন্টেন্ট: ই-কৃষি ই-কৃষি বিভাগ: দানাদার প্রকাশের তারিখ: ২৬-০২-২০২৬
কিনোয়া চাষ
কিনোয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Chenopodium quinoa ফসলটি Amaranthaceae পরিবারভুক্ত একটি দানাশস্য। যা সমুদ্র হতে ৪০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত যেকোনো স্থানে চাষ করা যায়। এটা গুটেনমুক্ত উচ্চ প্রোটিন, জিংক, ফাইবার, ফলিক এসিড ও এন্টি অক্সিডেন্টযুক্ত সুষম পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া কিনোয়ায় গুরুত্বপুর্ণ অত্যবশ্যকীয় ৮টি এমাইনো এসিড সম্পন্ন সহজ পাচ্য খাবার যা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। একে সুপার ফুড বলা হয়।

কিনোয়ার জাত: বারি কিনোয়া-১ কিনোয়া গাছের গড় উচ্চতা ৬৫-৭৫ সেমি.। জাতটির মঞ্জুরি খাড়া ও ৮-৯টি করে শাখা আছে। দানা গোলাকার, চ্যাপ্টা ও হালকা বাদামি বর্ণের। হাজার দানার ওজন ৩.৪ গ্রাম। ফসলের জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন। জাতটি লবনাক্ততা সহনশীল (১২ ডিএস/মি)। হেলে পড়ার প্রবণতা কম । তাই ঝড়-বাতাসে সহজে ভেঙ্গে পড়ে না এবং জাতটিতে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না। তবে বেশি পরিপক্ব হলে বিছা পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। জাতটি প্রতি হেক্টরে ১.৮ টন পর্যন্ত ফলন দেয়।

উৎপাদন প্রযুক্তি
বপনের সময়: অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ফসল।
বীজের হার: হেক্টর প্রতি ৭-৮ কেজি বীজের প্রয়োজন। বীজ গজানোর ১২-১৫ দিন পর চারা পাতলা করে দিতে হবে।
বপন দূরত্ব: সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সেমি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৭ সেমি.। জমিতে ভালভাবে চাষ দিয়ে ২-৩ সেমি. গভীরে সারিতে বপন করতে হবে। বপন করার পর আলগা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা
সারের নাম | হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ | বিঘা প্রতি সারের পরিমাণ |
ইউরিয়া | ১২০ কেজি | ১৬ কেজি |
টিএসপি | ১৫০ কেজি | ২০ কেজি |
মিউরেট অব পটাশ | ৪০ কেজি | ৫.৩৩ কেজি |
যে সমস্ত জমিতে বোরণ ও জিংকের ঘাটতি আছে সেসব জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার জন্য প্রতি হেক্টরে ৫ কেজি হারে বোরিক এসিড ও জিংক সালফেট প্রয়োগ করত হবে। সাধারণত সম্পূর্ণ মিউরেট অব পটাশ ও সম্পূর্ণ টিএসপি সার ১/৩ অংশ ইউরিয়ার সাথে মিশ্রিত করে জমি তৈরির সময় ব্যাসাল ডোজ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। বাকি ইউরিয়া ২ বারে ভেজিটেটিভ গ্রোথ ও টিলারিং অবস্থায় প্রয়োগ করা হয়। রেইনফেড অবস্থায় চাষাবাদ করলে সকল সার ব্যাসাল ডোজ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়।
সেচ ব্যবস্থাপনা: কুশি ও ফুল বের হওয়ার সময় বৃষ্টিহীন থাকলে সেচের প্রয়োজন হয়। তবে, দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন থাকলে ভাল ফলন পেতে হলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণত ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ: রোপণের ৯০ -১২০ দিনের মধ্যে বীজ সংগ্রহ করা যায়। বীজ পেকে গেলে গাছ কেটে মাড়াই করে বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত বীজ ভালোভাবে শুকিয়ে পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করতে হবে।
ফসলের উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার: বীজ স্যাপোনিন (Saponin) যুক্ত। দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে স্যাপোনিন দূরীভূত হয়। পরবর্তীতে শুকিয়ে নিতে হয়। কিনোয়া থেকে সহজেই ভাত, খিচুড়ি ইত্যাদি রান্না করা যায়। তাছাড়া কিনোয়া মিলিং করে আটা তৈরি করা যায়, যা থেকে বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি খাদ্য তৈরি করা যায়।
রোগ পোকামাকড় ও প্রতিকার: গবেষণাকালে জাতটিতে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়নি।
ফলন: সাধারণত প্রতি হেক্টরে ১.৮ টন পর্যন্ত ফলন দেয়।